গত বছরের আগস্টে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে তালেবান। তাদের ক্ষমতা দখলের পর এক বছরেরও বেশি সময় পার হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দেশটির অনেক নিয়মনীতি ও আইন পরিবর্তন হয়েছে। নারীশিক্ষা, নারী অধিকার খর্ব করার অভিযোগ উঠেছে। সমাজের অন্যান্য পেশার ও মতাদর্শের মানুষের জন্য খুব একটা সুখকর হয়নি তাদের এই শাসন।
দেশটিতে ইসলামি বিধিবিধান ফিরিয়ে এনেছে তালেবান সরকার। শরিয়া আইন অনুযায়ী সমকামীতার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছে তালেবান। তাই জীবন বাঁচাতে দেশটির সমকামী সম্প্রদায় আত্মগোপন করছেন। অনেকে পালিয়েও রক্ষা পাচ্ছেন না।
বুধবার (১৭ আগস্ট) “ভাইস ওয়ার্ল্ড” এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কদম শাহ (ছদ্মনাম) একজন সমকামী। তালেবান ক্ষমতা নেওয়ার আগে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করতেন। বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সেনাবাহিনীতেও কাজ করেছেন তিনি। গত বছরের আগস্টে তালেবানরা ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি এবং তার সমগোত্রীয় বন্ধুরা আত্মগোপনে যান। এরমধ্যে তার অনেক বন্ধুকে মৃত্যুদণ্ডও দেয় তালেবান সরকার।
দেশের একটি অজ্ঞাত স্থান থেকে হোয়াটসঅ্যাপে কদম শাহ ভাইস ওয়ার্ল্ড নিউজকে বলেন, “আমাকে সবসময় আমার পরিচয় গোপন করে চলতে হয়। তালেবানরা আমার পরিচয় জানতে পারলে আমার একমাত্র পরিণতি হবে মৃত্যু।”
গত বছরের আগস্ট থেকে কদম শাহ প্রতি মাসে অবস্থান পরিবর্তন করে পলাতক ছিলেন। জুলাই মাসে তিনি পরিবারের লোকজনের সঙ্গে দেখা করতে নিজ শহরে যান। তার যাওয়ার খবর পেয়ে সশস্ত্র তালেবানরা তার বাড়িতে ঢুকে পড়ে।
তালেবানরা তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে। তার কর্মকাণ্ড অপরাধ বলে ঘোষণা করে তারা তাকে বন্দুকের নল দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এতে অজ্ঞান হারান শাহ। জ্ঞান ফিরে পাওয়ার পর তিনি নিজেকে একটি হাসপাতালে দেখতে পান। তার সারা শরীরে নির্যাতন ও মারধরের চিহ্ন রয়েছে।
নতুন তালেবান শাসন দেশকে বিশৃঙ্খলা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে, আফগানিস্তানে জাতিসংঘের মিশন বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন, নির্বিচারে গ্রেপ্তার এবং আটকের মাধ্যমে মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য উঠে এসেছে। দেশটিতে এমনিতেই সমকামীদের সবসময় তাদের লিঙ্গ পরিচয় এবং যৌন অভিরুচি লুকিয়ে রাখতে হয়েছে, তালেবান শাসন আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
গত জুলাই মাসে একটি জার্মান সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক তালেবান বিচারক বলেছিলেন, সমকামিতার শাস্তি দুই ধরনের হতে পারে- পাথর নিক্ষেপ অথবা দেয়ালে পিষে হত্যা।



