তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে শুধু তুরস্কেই মৃত্যু ৩৬ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া আরও ১ লাখ ৫ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ১৩ হাজার মানুষ এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এখনো চলছে উদ্ধার কাজ। দেশটির ভয়াবহ এই ক্ষতির জন্য সরকারের দায় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সম্প্রতি এরদোয়ান বলেছেন, “অদৃষ্টে থাকলে এমনই হয়।” গাফিলতির কথা অস্বীকার করায় প্রশ্নটি আরও জোরালো হয়েছে।
তুরস্কের মানুষেরা বলছেন, “জাপানের অদৃষ্টে কেন এমনটা লেখা থাকে না! কেন কেবল তুরস্কের মানুষকেই বারবার আক্রান্ত হতে হয়?”
দক্ষিণ তুরস্কে পরপর দুইটি ভূমিকম্প হয়েছে ৯ ঘণ্টার ব্যবধানে। তারমধ্যে প্রথমটি হয় ভোররাতে। ৭.৮ তীব্রতার ভূমিকম্পেই বহু বাড়ি ধসে পড়ে। এরপর সন্ধ্যায় আবার তীব্র কম্পন হয়।
সরকারি হিসেব অনুযায়ী, এর ফলে ১০টি শহরে অন্তত ৩৩ হাজার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে ১০ লাখ মানুষ ঘরছাড়া। ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে সমস্যায় পড়েছেন।
অন্যদিকে বাড়ি তৈরির সময় ভূমিকম্পরোধের নিয়ম না মানায় দেশ ছেড়ে পালানোর সময় এখন পর্যন্ত ১৩৪ জন বিল্ডারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
দেশটির মানুষেরা বলছেন, এর দায় কি সরকারের নেই? সরকারও এর সঙ্গে যুক্ত। সরকারি কর্মচারী ও রাজনীতিকদের ঘুষ দিয়ে ওই বিল্ডাররা খারাপ বাড়ি তৈরি করেন। নিয়ম না মেনে বাড়ি তৈরি করা হয়। নিয়ম বহির্ভূত বাড়ির ছাড়পত্র দিয়ে দেওয়া হয়। এজন্যই জাপানের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
নাগরিকদের বক্তব্য, “জাপানে তুরস্কের থেকে অনেক বেশি ভূমিকম্প হয়, কিন্তু জাপানের সরকার এমনভাবে বাড়ি তৈরি করে, যাতে ভূমিকম্পে সেই বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তুরস্কেও তেমন আইন আছে, কিন্তু তা পালন করা হয় না।”
এর আগেও তুরস্কে ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছে। হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আইন হয়েছে। কিন্তু সরকার ও বিল্ডার কারও কোনো হেল-দোল হয়নি। সে জন্যই এবার এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটলো।
দক্ষিণ তুরস্কের যে অঞ্চলে এবার ভূমিকম্প হয়েছে, সেখানে অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীর বসবাস। যাদের মৃত্যু হয়েছে তার একটা বড় অংশ ছাত্র বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।



