Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গবেষণা: সাগরে ভাসছে ১৭১ ট্রিলিয়ন প্লাস্টিক কণা

ওপেন-অ্যাক্সেস জার্নাল পিএলওএস ওয়ান-এ প্রকাশিত সমীক্ষায় এ তথ্য জানানো হয়েছে

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২৩, ০৬:০২ পিএম

বিশ্বের মহাসাগরগুলোয় প্রায় ১৭০ ট্রিলিয়ন প্লাস্টিকের টুকরো ভাসছে বলে জানিয়েছে এক গবেষণা। এগুলোর বেশিরভাগই মূলত মাইক্রোপ্লাস্টিক। যা ২০০৫ সালেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার ওপেন-অ্যাক্সেস জার্নাল পিএলওএস ওয়ান-এ প্রকাশিত সমীক্ষায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গবেষণায় দেখা যায়, গত ১৫ বছরে বিশ্বের সমুদ্রে প্লাস্টিক দূষণ অভূতপূর্ব মাত্রায় পৌঁছেছে। এ ক্ষতিকারক বর্জ্য বন্ধে আইনিভাবে বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক চুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকরা।

গবেষকদের মতে, মহাসাগরের প্লাস্টিক দূষণ বিশ্বজুড়ে একটি স্থায়ী সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। প্রাণীরা মাছ ধরার জালের মতো প্লাস্টিকের বড় টুকরোগুলিতে আটকে যেতে পারে। অথবা মাইক্রোপ্লাস্টিকগুলো খেয়ে ফেলতে পারে জলজ প্রাণীরা। যা শেষ পর্যন্ত মানুষের খাবার হয়ে খাদ্য শৃঙ্খলে ঢুকে পড়তে পারে।

পিএলওএস ওয়ানে প্রকাশিত সমীক্ষায় বলা হয়, গত ১৫ বছরে বিশ্বের মহাসাগরে প্লাস্টিক দূষণ অভূতপূর্ব মাত্রায় পৌঁছেছে।

যা আগের অনুমানের চেয়ে বেশি। এক গবেষণায় দেখা গেছে, সমুদ্রে প্লাস্টিকের প্রবেশের হার যদি নিয়ন্ত্রণ না করা হয় তবে আগামী দশকে এটি কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে।

গবেষকরা ১৯৭৯ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ৪০ বছর সময়ে ১১,০০০ টিরও বেশি জায়গার প্লাস্টিকের নমুনা নিয়েছেন।

যেখানে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রবণতা তেমন ছিল না। এরপর ১৯৯০ থেকে ২০০৫ সালে এটি ওঠানামা করেছে। কিন্তু এরপরের নমুনা শুধু তরতর করে বৃদ্ধিই পেয়েছে।

গবেষক লিসা এরডল এএফপিকে বলেন, ২০০৫ সাল থেকে দূষণের পরিমাণ দ্রুত বেড়েছে। উৎপাদন দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে ও এই সময়ে সাগরে প্লাস্টিক নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ কমেছে।

সাগরে প্লাস্টিক দূষণের উৎস অসংখ্য।

এরমধ্যে রয়েছে, জাল ও বয়। এগুলোর মতো মাছ ধরার সামগ্রী প্রায়ই সমুদ্রের মাঝখানে শেষ হয়। ফলে ব্যবহারকারীরা সেগুলো সমুদ্রেই ফেলে আসেন। এছাড়া উপকূলের কাছাকাছি দূষণ হয় পোশাক, গাড়ির টায়ার ও একবার ব্যবহারের প্লাস্টিকের মতো জিনিস দিয়ে।

অবশেষে এগুলো মাইক্রোপ্লাস্টিক্সে ভেঙ্গে যায়। এগুলো সমুদ্রের পৃষ্ঠে ভেসে থাকে।

বিষাক্ত পণ্যের ঢেউ

বর্তমান প্রবণতা অনুসারে, ইকোনমিস্ট ইমপ্যাক্ট ও দ্য নিপ্পন ফাউন্ডেশনের যৌথভাবে করা প্রতিবেদন অনুসারে, ২০৫০ সালের মধ্যে জি২০ দেশে প্লাস্টিক ব্যবহার ২০১৯ সালের তুলনায় দ্বিগুণ হবে। যা প্রতি বছর হবে ৪৫১ মিলিয়ন টন।

১৯৫০ সালে, বিশ্বব্যাপী মাত্র দুই মিলিয়ন টন প্লাস্টিক উত্পাদিত হয়েছিল।

রিসাইক্লিং, এমনকি উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেমের দেশগুলোও দূষণ সমস্যাকে কমাতে খুব কমই সহায়তা করছে। কারণ মাত্র অল্প শতাংশ প্লাস্টিক সঠিকভাবে পুনর্ব্যবহৃত হয়। বরং বেশিরভাগই ফেলে দেওয়া হয়।

ফেলে দেওয়ার পর সেই বর্জ্য সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা না করা হলে প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশে চেপে বসতে পারে। এগুলোই পরে সমুদ্রে চলে যায়।

গবেষক লিসা এরডল বলেন, পুনর্ব্যবহারযোগ্যতার অভাবে আমরা বিষাক্ত পণ্য এবং প্যাকেজিংয়ের বন্যা দেখতে পাই।

১৯৯০ থেকে ২০০৫ সালে প্লাস্টিক বর্জ্যের হার কিছুটা কম দেখা যায়। কারণ ওই সময় দূষণ নিয়ন্ত্রণে কিছু কার্যকর নীতি ছিল।

এর মধ্যে রয়েছে ১৯৮৮ সালের এমএআরপিওএল চুক্তি। যেটি ১৫৪টি দেশের মধ্যে নৌ, মাছ ধরা ও শিপিং বহর থেকে প্লাস্টিক নিষ্কাশন বন্ধ করার জন্য একটি আইনত বাধ্যতামূলক চুক্তি ছিল।

তবে এখন অনেক বেশি প্লাস্টিক উত্পাদিত হচ্ছে।

গবেষকরা বলছেন, শুধুমাত্র প্লাস্টিক উৎপাদন ও ব্যবহার কমাতে নয় বরং এর নিষ্পত্তিকে আরও ভালভাবে পরিচালনা করার জন্য একটি নতুন, বিস্তৃত চুক্তির প্রয়োজন।

সমীক্ষায় বলা হয়েছে, প্লাস্টিকের পরিবেশগত পুনরুদ্ধারের সীমিত যোগ্যতা রয়েছে। তাই সমাধান কৌশলগুলো অবশ্যই সেই পদ্ধতিগুলোকে মোকাবেলা করতে হবে, যেগুলো প্রথমে প্লাস্টিক দূষণের নির্গমনকে সীমাবদ্ধ করে।

২০২২ সালে ১৭৫টি দেশ আইনিভাবে বাধ্যতামূলক জাতিসংঘ চুক্তির অধীনে প্লাস্টিক দূষণ বন্ধ করতে সম্মত হয়েছিল। যা পরের এ বছরের মধ্যেই চূড়ান্ত হতে পারে।

আলোচনার অধীনে মূল পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে, একক-ব্যবহারের প্লাস্টিকের উপর বিশ্বব্যাপী নিষেধাজ্ঞা। দূষণকারীকে জরিমানা ও প্রকল্প ও নতুন প্লাস্টিক উত্পাদনের উপর কর ধার্‍্য করা।

পিএলওএসের সমীক্ষায় বলা হয়, বর্তমানে  সমুদ্রে সনাক্ত করা প্লাস্টিক দূষণের মোট ওজন প্রায় ২.৩ মিলিয়ন টন।

এটি উত্তর আটলান্টিক, দক্ষিণ আটলান্টিক, উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর, দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগর, ভারতীয় এবং ভূমধ্যসাগরের নমুনা পরীক্ষা করেছে।

About

Popular Links