Saturday, September 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

প্যারিসের ‘চায়ের দোকানগুলো’ রক্ষা করতে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি দাবি

ইউনেস্কো যদি প্যারিসের এই ছোট খাবারের জায়গাগুলোকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান দেয়, তাহলে এগুলো বাঁচানো সম্ভব হবে বলে মনে করেন মালিকরা

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৩, ১১:১৩ পিএম

পুরোনো পাড়ায় কোণের চায়ের দোকান একসময়ে যেমন এলাকার মানুষের যোগাযোগের প্রাণকেন্দ্র ছিল, প্যারিসের বিস্ত্রোও বহুকাল সেই ভূমিকা পালন করেছে। এমন ঘরোয়া রেস্টুরেন্টগুলো বাঁচাতে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি চাচ্ছেন মালিকরা।

প্যারিসে সকালে সবার আগে যে খাবার দোকান খোলে, তার নাম “বিস্ত্রো”। তবে এককালে শহরের ট্রেডমার্ক হলেও বর্তমানে বিস্ত্রোর সংখ্যা কমে আসছে।

আল্যাঁ ফঁতেইন ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিজের বিস্ত্রো চালাচ্ছেন। সেইসঙ্গে তিনি এমন এক সংঘের সভাপতি, যেটি বিস্ত্রোগুলোকে ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান দিতে দাবি তুলেছে। তিনি বলেন, “বিস্ত্রো সংস্কৃতির অর্থ হলো, গুরুত্বপূর্ণ হোক বা না হোক– যেকোনো বিষয়ে কথা বলা যায়।”

সকাল থেকে অনেক রাত পর্যন্ত খোলা থাকে বিস্ত্রো। প্রেম নিবেদন হোক, অথবা রাজনীতি নিয়ে গরম তর্ক, অনেকের কাছে বিস্ত্রোই দ্বিতীয় বাসার মতো। তবে ইতোমধ্যে বাইরের জগত মারাত্মকভাবে বদলে গেছে। ৪০ বছর আগে ফ্রান্সে এখনকার তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি বিস্ত্রো ছিল।

ইউনেস্কো যদি সত্যি প্যারিসের এই ছোট খাবার জায়গাগুলোকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান দেয়, তাহলে এগুলো বাঁচানো সম্ভব হবে বলে মনে করেন মালিকরা।

সরাসরি কোনো আর্থিক সুবিধা না পেলেও এমন স্বীকৃতি বিজ্ঞাপন হিসেবে মন্দ হবে না। বিশেষ করে ফাস্ট ফুড কোম্পানিগুলো বর্তমানে যেভাবে প্যারিসের জমি দখল করে চলেছে, ইউনেস্কোর স্বীকৃতি সেগুলোর বিজ্ঞাপনের মোকাবিলা করতে পারবে বলে মনে করেন তারা।

তবে ফ্রান্স সরকার ইউনেস্কোর স্বীকৃতির ব্যাপারে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না বলে অভিযোগ আছে। আল্যাঁ বলেন, “তারা দুইবার আমাদের হতাশ করেছে। আমরা নাকি ইউনেস্কোর কনভেনশনের সঙ্গে খাপ খাই না।”

বিস্ত্রোর মালিকরা কিছুতেই নিজেদের স্পষ্ট সংজ্ঞা স্থির করতে পারছেন না। কারণ প্রত্যেকটি বিস্ত্রোই আলাদা আলাদা। কিন্তু বিস্ত্রো জগতে এমন বৈচিত্র্য সত্ত্বেও একেবারে নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্যও রয়েছে। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে আল্যাঁ ফঁতেইন মনে করেন। তার মতে, “পর্যটকরা বহুকাল আগে থেকেই টের পেয়েছেন যে বিস্ত্রো ছাড়া ফ্রান্সের কথা ভাবাই যায় না।”

   

About

Popular Links

x