Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

যুদ্ধ করতে চাইছে না মিয়ানমারের সেনারা

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অং সান সু চির গণতন্ত্রক সরকারকে সরিয়ে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী

আপডেট : ০২ জুন ২০২৩, ০৩:৪৭ পিএম

দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের বিরুদ্ধে আর লড়তে চাইছেন না মিয়ানমারের সেনা সদস্যরা। অনেক সেনাই চাকরি ছেড়ে পালিয়ে আসছেন। এমনকি তরুণরাও বাহিনীতে যোগ দিতে চাইছে না।

এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

প্রতিবেদনে বাহিনী থেকে পালিয়ে যাওয়া সদস্যদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অং সান সু চির গণতন্ত্রক সরকারকে সরিয়ে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী।

তখন থেকেই সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছে গণতন্ত্রকামী জনগণ। আর এ আন্দোলন দমনে অস্ত্র ব্যবহার করছে সেনাবাহিনী। এরমধ্যেই সেনাবাহিনী ছেড়ে যাচ্ছেন অনেক সেনা।

এমনই একজন দলত্যাগী সেনা নে অং। বিবিসিকে তিনি বলেছেন, “কেউ সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে চায় না। মানুষ তাদের নিষ্ঠুরতা এবং অন্যায় আচরণকে ঘৃণা করে।”

নে অং জানান, প্রথমবার যখন তিনি তার ঘাঁটি ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেন তখন তাকে রাইফেলের বাট দিয়ে প্রচণ্ডভাবে মারধর করা হয় এবং তাকে “বিশ্বাসঘাতক” বলা হয়।

দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় তিনি পালাতে সক্ষম হন ও জান্তাবিরোধী গোষ্ঠীগুলোর সমর্থনে সীমান্ত পেরিয়ে থাইল্যান্ডে চলে যান।

তিনি বলেন, “আমার এক বন্ধু প্রতিরোধ গ্রুপে আছে। আমি তাকে ফোন করেছিলাম এবং সে এখানে থাইল্যান্ডের লোকদের আমার সম্পর্কে বলেছে। আমি তাদের সাহায্যে এখানে এসেছি।”

নে অং এখন আরও ১০০ সদ্যত্যাগী সেনা এবং তাদের পরিবারের সাথে একটি সেফ হাউসে বসবাস করছেন। এরা সবাই মিয়ানমারের নাগরিকদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে অস্বীকার করেছিল।

মিয়ানমারের নির্বাসিত জাতীয় ঐক্য সরকারের (এনইউজি) দেওয়া তথ্য অনুসারে, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর থেকে ১৩ হাজারেরও বেশি সেনা ও পুলিশ সদস্য দেশত্যাগ করেছে। সেনাদের পক্ষ ত্যাগের জন্য নগদ প্রণোদনা এবং সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

দলত্যাগী আরেক সেনা মং সেইন বলেন, “আমরা অনলাইনে দেখেছি মানুষ আমাদেরকে ‘সেনা কুত্তা' বলে সম্বোধন করে। আমাকে এই বিষয়টি অনেক পীড়া দিত।”

মিয়ানমারের সেনা সংখ্যা ঠিক কত তা জানা যায় না। তবে পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের সময় দেশটির সেনা সংখ্যা তিন লাখ ছিল। তবে সেই সংখ্যা এখন অনেক কমে গেছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতেও দেশেটির বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে সামরিক বাহিনী। জানুয়ারি থেকে কমপক্ষে ২০০টির বেশি বিমান হামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতি হামলাটি চালানো হয় গত এপ্রিলে সাগাইং অঞ্চলের পা জি গাই গ্রামে। সেখানে বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ ১৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়।

About

Popular Links