২৪ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির পর ফের সংঘাতে জড়িয়েছে সুদানে লড়াইরত সামরিক বাহিনী ও আধা সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (আরএসএফ)।
ক্ষমতার দ্বন্দ্বে সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং আধা সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগলোর বাহিনীর মধ্যে এপ্রিল মাসে এই লড়াই শুরু হয়। হামদান অবশ্য হেমেদতি হিসেবেই বেশি পরিচিত।
সারা দেশে নির্বিঘ্নে চলাচল এবং মানবিক সহায়তা প্রদানের অনুমতি দিয়ে দুই পক্ষ যুদ্ধ বিরতিতে সম্মত হয়। এই সময়ে বেসামরিক নাগরিকদের খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, রবিবার সকাল ৬:০০ টায় (জিএমটি) যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই খার্তুম ও পাশের শহর ওমদুরমানে আবারও গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
এ সংঘাতে প্রায় ১.৯ মিলিয়ন মানুষ ঘরহারা হয়েছেন। আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্ট অনুসারে, যুদ্ধে ১,৮০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বেশ কয়েকবার যুদ্ধবিরতি হলেও বারবার দুই পক্ষ সেটি ভঙ্গ করেছে। সর্বশেষ মার্কিন ও সৌদি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে মধ্যস্থতায় পৌঁছেছিল দুই পক্ষ।
খার্তুম থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধ এরইমধ্যে উত্তর-পূর্ব আফ্রিকান দেশটির অন্যান্য এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম দারফুর অঞ্চলে এটি ছড়িয়ে পড়েছে।
চাদের সীমান্তবর্তী এল জেনিনা শহরের পরিস্থিতিও খারাপ হচ্ছে। বাসিন্দারা ও কর্মীরা বলছেন, আরএসএফ সমর্থিত যাযাবর উপজাতিরা সংঘাতে যোগ দিচ্ছেন। এটি ভয়াবহতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, সংঘাতের কারণে সুদানে তীব্রভাবে অপুষ্টিতে আক্রান্ত প্রায় ৫০ হাজার শিশুর চিকিৎসা ব্যাহত হয়েছে। বিশ্বের বেশির ভাগ মানুষ, সেই সঙ্গে পাঁচ বছরের কম বয়সী দীর্ঘস্থায়ী অপুষ্টির শিকার শিশুদের ৭৫% সশস্ত্র সংঘাত ও সহিংসতাপ্রবণ দেশগুলোয় বাস করে।
বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার প্রাথমিক কারণ হলো এ ধরনের সংঘাত। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে খরা, বন্যা, রোগের প্রাদুর্ভাব, অনিয়মিত বৃষ্টি এবং ফসলহানির মতো বিষয়।
সুদানে ২০২১ সালে যখন সশস্ত্র বাহিনী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে, তখন পশ্চিম দারফুরে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার হার ছিল ৬৫%, মধ্য দারফুরে ৫৯% আর উত্তর দারফুরে ৫৬%।
জাতিসংঘ শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) তথ্য অনুযায়ী, সুদানজুড়ে অপুষ্টি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে; বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে। পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ৩০ লাখ শিশু প্রতিবছর অপুষ্টিতে ভোগে।
সুদানে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে সামরিক বাহিনী ও আধা সামরিক বাহিনীর মধ্যে চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে দেশটিতে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়বে। জাতিসংঘের একাধিক সংস্থা এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে।



