Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চীনপন্থী মুইজ্জুর জয়

ভারত-ঘেঁষা ক্ষমতাসীন ইব্রাহিম মোহাম্মদ সোলিহকে হারিয়ে দিয়েছেন তিনি

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৩, ০৬:৫৯ পিএম

মালদ্বীপে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন বিরোধী দল পিপলস ন্যাশনাল কংগ্রেসের (পিএনএস) প্রার্থী মোহামেদ মুইজ্জু। তাকে চীনপন্থী বলে মনে করা হয়। নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা ক্ষমতাসীন ইব্রাহিম মোহাম্মদ সোলিহ।

রবিবার (১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, মুইজ্জু ৫৪% ভোট পেয়েছেন। এদিকে, পরাজয় স্বীকার করে নিয়ে মুইজ্জুকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ইব্রাহিম মোহাম্মদ সোলিহ।

নির্বাচনে “ইন্ডিয়া আউট” স্লোগান দিয়ে প্রচারণা চালান রাজধানী মালের মেয়র মুইজ্জু।

আগামী ১৭ নভেম্বর দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেবেন তিনি। এর আগ পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন মোহাম্মদ সলিহ।

২০১৮ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা মালদ্বীপের ডেমোক্রেটিক পার্টির (এমডিপি) প্রধান সোলিহ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেন। তার আমলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ইস্যুতে নেওয়া নীতিকে বলা হয়েছিল, “ভারত-প্রথম” নীতি। ভোটের মধ্য দিয়ে দেশটির জনগণ এর বিরুদ্ধেই যেন বার্তা দিল।

দীর্ঘদিন ধরে মালদ্বীপ ভারতের বড় প্রভাব রয়েছে। দেশটিতে উপস্থিতির মাধ্যমে দিল্লি ভারত মহাসাগরের বড় একটি অংশের পর্যবেক্ষণ করতে পারে।

অপরদিকে প্রগতিশীল নেতা মুইজ্জুর চীনের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রয়েছে।

মালদ্বীপের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ভোটে কোনো প্রার্থী একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা (৫০%-এর বেশি ভোট) না পেলে নির্বাচন দ্বিতীয় দফায় গড়ায়। এভাবেই নির্বাচনে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী মুইজ্জু ও সলিহ”র মধ্যে শনিবার দ্বিতীয়বার প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়।

প্রথম দফার নির্বাচনে মুইজ্জু ও সলিহ যথাক্রমে ৪৬% ও ৩৯% ভোট পান। শনিবার এ দুই প্রার্থীর মধ্যে দ্বিতীয় দফার ভোট হয়। এতে মুইজ্জু ৫৪.০৬% ভোট পান।

নির্বাচন কমিশন জানায়, ভোট গ্রহণ শুরুর প্রথম দুই ঘণ্টায় মোট দুই লাখ ৮২ হাজার ভোটারের এক চতুর্থাংশ ভোট দেন। ২০১৮ সালে ইয়ামিনের কর্তৃত্ববাদী শাসনকে হটিয়ে ক্ষমতায় আসেন ৬১ বছর বয়সী সলিহ।

অভিযোগ রয়েছে, ইয়ামিন দেশটিকে চীনা ঋণের ফাঁদে ঠেলে দিয়েছেন। ইয়ামিনের চীনবান্ধব নীতি নয়াদিল্লিকে শঙ্কিত করে তুলেছিল। ভারত মহাসাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি নিয়ে নয়াদিল্লি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদেশগুলোর কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করে।

ইয়ামিন বর্তমানে দুর্নীতির দায়ে ১১ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তিনি ভোটেও অংশ নিতে পারেননি। এর আগে, মোহামেদ মুইজ্জু জানান, তিনি নির্বাচিত হলে ইয়ামিনকে মুক্ত করবেন।

কে এই মুইজ্জু?

১৯৭৮ সালে জন্মগ্রহণ করা মুইজ্জু যুক্তরাজ্যের লিডস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করেছেন। তিনি ২০১২ সালে গৃহায়ন মন্ত্রী হিসেবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ইয়ামিনের শাসনামলে তিনি সরকারের বড় বড় প্রকল্পের নেপথ্যে ভূমিকা রেখেছেন। ২০২১ সালে তিনি মালেতে মেয়র পদে জয়লাভ করেন।

About

Popular Links