বেতন কাঠামোতে লিঙ্গবৈষম্যের জেরে আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্যাটরিন জ্যাকবসডোত্তিরসহ কয়েক হাজার নারী ধর্মঘট পালন করেছেন।
মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) বেতনে লিঙ্গ বৈষম্য ও লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতার প্রতিবাদে কভেনাফ্রি বা নারী দিবসের ছুটির ডাক দেওয়া হয়েছে।
এর জেরে নারী অধ্যুষিত পেশা, যেমন স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতে প্রভাব পড়েছে বলে জানা গেছে।
১৯৭৫ সালের পর এই প্রথম দিনব্যাপী দেশটিতে এমন ধর্মঘট পালন করা হলো।
এতে গৃহস্থালির কাজসহ বেতনভুক্ত ও অবৈতনিক কাজে নিয়োজিত নারী ও ট্রান্সজেন্ডারদের যোগ দিতে আহ্বান জানানো হয়।
ধর্মঘটের কারণে কিছু প্রি-স্কুল ও প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান খোলা থাকলেও তারা সীমিত সেবা দিচ্ছেন। তবে এর জেরে জাদুঘর, পাঠাগার ও চিড়িয়াখানা অচল ছিল।
এই প্রতিবাদের আগে প্রধানমন্ত্রী জ্যাকবসডোত্তির বলেন, “আমি এই দিন কাজ করব না। আমি আশা করি মন্ত্রীসভার অন্য নারীরাও তাই করবেন।”
তিনি জানান, ঐতিহ্যগতভাবে পুরুষদের আধিপত্য থাকা জায়গায় নারীরা কেমন মূল্যায়ন পান, সেটি তার সরকার খতিয়ে দেখছে।
দেশটির শিক্ষক সমিতির মতে, শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে নারীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ শিক্ষক। যার মধ্যে ৯৪% কিন্ডারগার্টেন শিক্ষক নারী।
দেশের সবচেয়ে বড় আইসল্যান্ডের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের প্রায় ৮০% কর্মী নারী।
বিশ্বের সবচেয়ে লিঙ্গ-সমতার দেশ
গত ১৪ বছর ধরে লিঙ্গ সমতার জন্য আইসল্যান্ড বিশ্বের সেরা দেশ হিসাবে স্থান পেয়েছে বলে জানায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ)।
তবে দেশটি এখনও পুরোপুরি সমতা আনতে পারেনি। ডব্লিউইএফ দেশটিকে ৯১.২% স্কোর দিয়েছে।
ধর্মঘটের অন্যতম সংগঠক ফ্রেজা স্টেইনগ্রিমসডোটির বলেন, “আমাদেরকে একটি সমতার স্বর্গ বলা হয়, তবে এখনও লিঙ্গ বৈষম্য রয়েছে এবং জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। আমরা এই বিষয়টির দিকে মনোযোগ দিতে চাই।”
বিশ্বের সবচেয়ে কম জনবহুল দেশের একটি অর্থনৈতিক দিক দিয়ে বিশ্বের ১৪ তম অবস্থানে আছে। এই দেশের ওপরে আছে লাইবেরিয়া, জ্যামাইকা এবং নরওয়ে।
অর্থনীতিতে নারীদের গুরুত্ব তুলে ধরতে আইসল্যান্ডের প্রায় ৯০% নারী কর্মী ১৯৭৫ সালে ধর্মঘটে যায়। এর জেরে, পরের বছর দেশটির পার্লামেন্টে সমান বেতন আইন পাস হয়।
আইসল্যান্ডের সাবেক প্রেসিডেন্ট ভিগদিস ফিনবোগাদোত্তির ২০১৫ সালে বিবিসিকে বলেছিলেন, “১৯৭৫ সালের ধর্মঘট আইসল্যান্ডে নারীমুক্তির প্রথম পদক্ষেপ ছিল।”
এরই কারণে ১৯৮০ সালে বিশ্বের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম নারী রাষ্ট্রপ্রধান হন তিনি।



