কৃষি সামগ্রীতে সরকারি ভর্তুকি তুলে নেওয়ার প্রতিবাদে জার্মানিজুড়ে বিক্ষোভে নেমেছে কৃষকরা। সোমবার (৮ জানুয়ারি) শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ-হরতাল কর্মসূচি এক সপ্তাহ ধরে চলবে। এতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে জার্মানির গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও এলাকা।
জ্বালানি তেলে ভর্তুকি তুলে নেওয়ায় জার্মানির রাজধানী বার্লিনসহ একাধিক শহরে রাস্তায় নেমেছেন কৃষকেরা। ট্রাক্টর নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা অবরুদ্ধ করে রেখেছেন তারা। যার জেরে সোমবার দিনভর একাধিক শহরে যান চলাচল ব্যাহত হয়। একাধিক হাইওয়েও কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে আছে।
সম্প্রতি জার্মানির ওলফ শলৎসের নেতৃত্বাধীন সরকার ঘোষণা করেছিল, কৃষকদের বহু ভর্তুকি দেওয়া হয়। এবার সেই ভর্তুকির অনেকটাই তুলে নেওয়া হবে। তখনই প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন কৃষকেরা। বিক্ষোভের মুখে সরকার পিছু হঠলেও কয়েকটি খাতে ভর্তুকি তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তে সরকার অনড়। এরমধ্যে অন্যতম তেল। তাই সপ্তাহব্যাপী আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কৃষকরা।
সরকারের অবশ্য দাবি, দেশের বাইরের শক্তি এবং অতি ডানপন্থীরা এই আন্দোলন পরিচালনা করছে। তাদের মদতেই ট্রাক-ট্রাক্টর নিয়ে কৃষকেরা রাস্তায় নেমেছেন।
সোমবারের আন্দোলনে একাধিক অতি দক্ষিণপন্থী পোস্টার, ফেস্টুন, পতাকা দেখা গেছে। জার্মানির লোকরঞ্জনবাদী, অভিবাসনবিরোধী দল “অলটারনেটিভ ফর জার্মানির” (এএফডি) মতো দক্ষিণপন্থী দল সরাসরি এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছে। গত কয়েক বছরে এএফডির দ্রুত উত্থান হয়েছে জার্মানিতে। গোটা দেশে প্রায় ২৪% ভোট আছে তাদের।
এছাড়া সাবেক চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের সিডিইউ, সিএসইউ এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছে। সরকারে থেকেও বামপন্থী দল এসপিডির একাংশ কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে সরকারও বিপাকে পড়েছে। চ্যান্সেলর শলৎস প্রস্তাব দিয়েছিলেন, করোনার জন্য যে বিপুল পরিমাণ অর্থের ফান্ড তৈরি করা হয়েছিল তা মূল বাজেটে ঢুকিয়ে নেওয়া হোক। কিন্তু সাংবিধানিক আদালত তাতে রাজি হয়নি। যার ফলে অর্থ সংকট তৈরি হয়েছে। সেই সংকট মেটাতেই ভর্তুকি তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।



