Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

উত্তর কোরিয়া-ইরান: শত্রুর শত্রু যখন আমার বন্ধু

  • দুই দেশই যুক্তরাষ্ট্র-বিরোধী
  • উভয়েই ড্রোন প্রযুক্তি নিয়ে উৎসাহী
আপডেট : ০৮ মে ২০২৪, ০৫:৫১ পিএম

উত্তর কোরিয়া ও ইরান দুই দেশই যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য বিরোধী। উত্তর কোরিয়া এখন রাশিয়া ও চীনের বাইরে সম-মনোভাবাপন্ন দেশের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন বলে জানা গেছে। 

সিউলে ইউনিভার্সিটি অব নর্থ কোরিয়া স্টাডিসের অধ্যাপক কিম সুং কিয়ুং বলেন, “উত্তর কোরিয়ার মনে হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধাচরণ করার জন্য এবং ইরানের পাশে দাঁড়ানোর এত ভালো সুযোগ তাদের সামনে এসেছে।” 

তিনি আরও বলেন, “উত্তর কোরিয়া মনে করছে, তেহরানকে অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তি বিক্রির একটা সুযোগও তাদের সামনে এসেছে। উত্তর কোরিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পশ্চিমা দেশের নিষেধাজ্ঞা আছে। এর মধ্যেই কিছুটা আর্থিক সুবিধা পেতে চাইছে উত্তর কোরিয়া।” 

এপ্রিলে উত্তর কোরিয়া তেহরানে একটি উচ্চপর্যায়ের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক প্রতিনিধিদল পাঠায়। ২০১৯ সালের পর আবার ইরানে এই ধরনের প্রতিনিধিদল পাঠাল তারা। কী কথা হয়েছে, কোনো সমঝোতা হয়েছে কি-না, তা নিয়ে দুই দেশই মুখ বন্ধ রেখেছে। 

তবে সামরিক প্রযুক্তি, পরমাণু অস্ত্র ও ব্যালেস্টিক মিসাইল নিয়ে কথা হয়েছে বলে ধারণা করছেন অনেক বিশ্লেষক। 

ইরানের অস্বীকার

ইরান জানিয়েছে, পরমাণু প্রযুক্তি নিয়ে সহযোগিতার বিষয়ে তাদের মধ্যে কোনো কথা হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের কানানি বলেছেন, বিদেশি মিডিয়া পক্ষপাতমূলক জল্পনা করছে। এর সঙ্গে সত্যের কোনো মিল নেই। 

এরপর উত্তর কোরিয়া জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, তা অনুচিত। 

সন্দেহ করা হয়েছে, তেহরান মস্কোকে ড্রোন দিয়েছে এবং যা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে। 

বিরোধ ও মিল 

ট্রয় ইউনিভার্সিটির সিউল ক্যাম্পাসের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক ড্যানিয়েল পিংকস্টন বলেছেন, “তেহরান ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আছে। অনেক ক্ষেত্রেই তা আপাতবিরোধী। ইরান হলো ধর্মতান্ত্রিক ইসলামিক দেশ এবং উত্তর কোরিয়া হলো এক নেতাভিত্তিক কমিউনিস্ট দেশ।” 

তবে তার মতে, “দুই দেশ যেমন একদিকে খুবই আলাদা, অন্যদিকে তাদের মিলও আছে। দুই জায়গাতেই কর্তৃত্ববাদী শাসন রয়েছে। দুই দেশই যুক্তরাষ্ট্র-বিরোধী।” 

কেন ইরানকে গুরুত্ব দিচ্ছে উত্তর কোরিয়া? 

উত্তর কোরিয়া এখন রাশিয়া, চীন, সিরিয়া ও বেলারুশের পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করতে চাইছে। পাশাপাশি তারা একের পর এক দেশে তাদের দূতাবাস বন্ধ করছে। তারা স্পেন, অ্যাঙ্গোলা, উগান্ডা, হংকং ও নেপালে দূতাবাস বন্ধ করে দিয়েছে। 

পিয়ং ইয়ং এখন সেসব দেশকে গুরুত্ব দিচ্ছে, যারা সামরিক ও আর্থিক দিক দিয়ে তাদের সাহায্য করবে। 

পিংকস্টন মনে করেন, “ইরান ও কোরিয়া আরও কাছাকাছি আসবে। তারা একে অন্যকে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সাহায্য দেবে।” 

তিনি বলেছেন, “উত্তর কোরিয়া ইরানকে পরমাণু প্রযুক্তি দিয়েছে। যার ফলে ইসরায়েল ক্ষুব্ধ হয়েছে। এখন উত্তর কোরিয়া নিজেরা যেসব অস্ত্র তৈরি করেছে, তা ইরানকে দিতে পারে। পরমাণু পরীক্ষা থেকে পাওয়া তথ্য তারা ইরানকে দিতে পারে। তারা মহাকাশ প্রযুক্তিও দিতে পারে।” 

দুই দেশই ড্রোন প্রযুক্তি নিয়ে উৎসাহী। তারা যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনকে আরও কার্যকর অস্ত্র হিসাবে গড়ে তুলতে চায়। ইউক্রেনে দেখা গেছে, লড়াইয়ের ক্ষেত্রে ড্রোন কতটা কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে। এছাড়া উত্তর কোরিয়ার জন্য ইরান থেকে তেল পাওয়াও খুব জরুরি। ইরান রাশিয়ার মাধ্যমে এই তেল উত্তর কোরিয়ার কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।

About

Popular Links