Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর ১০৪তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপিত

দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২৪, ০৪:৫৩ পিএম

স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি, মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর ১০৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

রবিবার (১৭ মার্চ) সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচির শুভ সূচনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড মো. শাহ আজম । এরপর  বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর  প্রতিকৃতিতে  শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়।

এ সময় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়  শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মো. ফখরুল ইসলাম,  চেয়ারম্যানবৃন্দ, শিক্ষকমণ্ডলী, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধাজ্ঞাপন শেষে ১৫ আগস্টের শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-৩ এ দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে আলোচনা করেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শাহ্ আজম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন,  “বাংলাদেশে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুকে চিনছে তার ৭ই মার্চের ভাষণ শুনে, আত্ম-অধিকার ও মুক্তিসংগ্রামের বিশ্ব-ইতিহাস পাঠের মধ্য দিয়ে। বিশ্বের নানা প্রান্তে তরুণরা আগ্রহী হয়ে উঠছে মানুষটিকে গভীরভাবে জানতে। যার হাত ধরে সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল; ঔপনিবেশিক নিপীড়ন এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য থেকে বাংলার মানুষকে যিনি নিজের জীবন বিপন্ন করে মুক্ত করেছিলেন। আমাদের দুর্ভাগ্য,  ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে সপরিবারে আমরা  তাঁকে হারায়।  দেশি-বিদেশি ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের শিকার কেবল বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারবর্গই হয়েছেন তা নয়, অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছিল গোটা জাতি। লজ্জায় মাথা নত হয় প্রতিটি বাঙালির। বঙ্গবন্ধু চির অমর, বঙ্গবন্ধু আজও বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের অন্তহীন প্রেরণার উৎস, সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে দ্রোহের প্রতীক। তিনি শুধু বাঙালি জাতীয়তাবাদী শক্তির অনুপ্রেরণা নন, বিশ্বের মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের সহযোদ্ধা।”

উপাচার্য আরও বলেন, “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মনে করেছিলেন একটি শিশুকে যদি স্বাধীনভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ দেওয়া যায়-- যদি তাকে শিল্পে, সাহিত্যে, সংগীতে আকৃষ্ট করে, তার প্রতিভার স্ফুরণ ঘটানোর সুযোগ দিলে সে তার শিল্পচর্চার মাধ্যমে আনন্দের সাথে দেশপ্রেম শিখবে, মাটি এবং মানুষকে ভালোবাসতে শিখবে। এর মাধ্যমে শিশুর মধ্যে যে সক্ষমতা তৈরি হবে তাই দিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। সে জন্যই তিনি শিশু সংগঠনগুলোকে খুব ভালোবাসতেন। তিনি ‘কচি-কাঁচার মেলা’ এবং ‘খেলাঘর’র প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন।”

প্রফেসর শাহ্ আজম বলেন,  “বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সনে শিশু অধিকার আইন প্রণয়ন করেন, জাতিসংঘ  তার পনেরো বছর পর শিশু অধিকার বিষয়ে তার অঙ্গীকার আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধু যে চিন্তা-ভাবনায় কতো অগ্রসর ছিলেন,  এ থেকে আমরা তার প্রমাণ পাই। শেখ হাসিনা ১৯৯৭ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনকে ‘শিশুদিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেন, যাতে করে শিশুদের প্রতি আমরা বিশেষ গুরুত্ব দেই। তিনি পিতার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার জন্যে ২০১৩ সালে নতুন করে শিশু আইন প্রবর্তন করেন। সুবিধাবঞ্চিত শিশু কিংবা যে সমস্ত শিশুরা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে, যে সমস্ত শিশুরা স্কুল থেকে ঝড়ে পড়ছে তাদের তিনি প্রণোদনা দিয়ে স্কুলগামী করেছেন। প্রতিবছর শিশুরা বছরের প্রথমদিন পাঠ্যপুস্তক পায় বিনামূল্যে। এ কত বড় অর্জন! শিশুদেরকে প্রনোদনা দেবার জন্যে স্কুলে মিড ডে মিল চালু করা হয়েছে। তারা স্কুলে আনন্দের সঙ্গে পড়ালেখা করছে।  তিনি বলেন, পিতা যা শুরু করেছিলেন কিংবা যা প্রত্যাশা করেছিলেন তার কন্যা সেই কাজটিই করে যাচ্ছেন। এ যেন পরম্পরা। এখানেই শেষ নয়, পরম্পরাক্রমে অনাগত ভবিষ্যতেও এই কাজটি হতে থাকবেই বলে অনুমান করা যায়। প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার দায়িত্বটি গ্রহণ করেছেন। তার মানে বঙ্গবন্ধু, তার কন্যা, কন্যার কন্যা সকলেই শিশুর প্রতি গুরুত্ব দেন। বঙ্গবন্ধু কন্যার অপর সন্তান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা, সজীব ওয়াজেদ জয়ও গ্রামে-গঞ্জে শেখ রাসেল পাঠাগার, শেখ রাসেল আই.টি ল্যাব প্রতিষ্ঠা করে তথ্যপ্রযুক্তির সেবা পৌঁছে দিচ্ছেন প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিশুদের বিকাশের জন্য। তিনিও শিশু অধিকারের বিষয়টি মাথায় নিয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “সবাই নিজের অবস্থানে থেকে সততা ও দেশপ্রেমের  সঙ্গে নিজ দায়িত্ব পালন করলে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা নির্মাণ করা সম্ভব হবে।  এদিনটিকে আমরা  বিশেষভাবে স্মরণ করি মূলত সেই শপথে নিজেদের  উজ্জীবিত হবার প্রেরণা হিসেবে গ্রহণের জন্য।”

   

About

Popular Links

x