আসন্ন ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে মাওয়া-ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম প্রবেশদ্বার ভাঙ্গা ইন্টারচেঞ্জ এরিয়ায় ও মহাসড়কগুলোতে শৃঙ্খলা রক্ষায় এবং ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ফরিদপুর জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ।
এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (১১ মার্চ) ভাঙ্গা এলাকা পরিদর্শন করেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা। এ সময় ভাঙ্গা থানায় পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এ সময় সেখানে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলাচনা করেন জেলা প্রশাসক। পরে সেখান থেকে পৌরসভা কার্যালয়ে পরিদর্শনে যান তিনি।
স্থানীয় সংবাদকর্মীরা জেলা প্রশাসককে জানান, ঈদে ঘরমুখো মানুষের জন্য অস্থায়ী টয়লেট ও পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা, মহাসড়ক ও সার্ভিস রোডগুলাতে শৃঙ্খলা রক্ষায় যাবতীয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে করা জরুরি। পাশাপাশি, ঢাকা-ভাঙ্গা এসক্সপ্রেসওয়ের ইন্টারচেঞ্জ এরিয়ায় চুরি-ছিনতাই রোধে প্রতিকারের পুলিশের নজরদারি বাড়ানো, এজন্য ইন্টারচেঞ্জ এরিয়ায় রোড লাইটগুলো সচল করা, ভাঙ্গা পৌর বাজারে ফুটপাত দখলমুক্ত করা জরুরি।
পৌরসভায় পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান বলেন, “ভাঙ্গা একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। সড়কে শৃঙ্খলা আনয়ন এবং ঈদে ঘরমুখো মানুষের জান-মালের নিরাপত্বা নিশ্চিত করার লক্ষে পুলিশ বাহিনীকে কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “পুলিশ বিভাগ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে মহাসড়কে কঠোর নিরাপত্তার জন্য জোর দেওয়া হয়েছে। ইন্টারচেঞ্জ এরিয়াসহ সার্ভিস রোডগুলোতে চুরি-ছিনতাইসহ অনাকাঙিক্ষত ঘটনা প্রতিরোধে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হবে।”
এছাড়াও পৌর বাজারের ফুটপাত দখলমুক্ত করার জন্য উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিষয়টির সমাধান করা হবে বলে জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক বলেন, “ভাঙ্গা ইন্টারচেঞ্জ হয়ে ঈদের সময়ে অসংখ্য মানুষ যাতায়াত করবেন। তাই সড়কে শৃঙ্খলা আনতে সকলের সহযোগিতায় কাজ করতে হবে। এছাড়াও ঈদে মানুষের ভোগান্তি নিরসনে পৌরসভা সার্বিকভাবে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। বিশেষ করে অস্থায়ী টয়লেট স্থাপন ও বর্জ্যব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও কিছু নির্দেশনা দিয়েছি। এছাড়াও যে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে সেগুলোর গুণগতমান নিশ্চিত করে কাজ সম্পন্ন করা হয়, সে বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সামনে একটি ভালো ব্যবস্থাপনায় কাজ করতে পারবো বলে আশা রাখি।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান, থানা পুলিশের কর্মকর্তা, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, স্থানীয় সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ।



