Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’ ভেঙে ফেলায় বাসদের নিন্দা

মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণের স্থলে জুলাই শহিদদের স্মরণে ‘গণমিনার’ নির্মাণ করা হবে

আপডেট : ৩০ জুন ২০২৫, ০৮:২৫ পিএম

রাজধানী ঢাকার বিজয় সরণি মোড়ের ‘‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’’-এর ম্যুরাল-সংবলিত সাতটি দেয়ালও ভেঙে ফেলা হয়েছে। গত শুক্রবার সকাল থেকে দেয়ালগুলো ভাঙার কাজ শুরু করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) কর্তৃপক্ষ। গত শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাতটি দেয়ালই ভেঙে ফেলা অবস্থায় দেখা গেছে। বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ এই ম্যুরাল ভাঙার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

সোমবার (৩০ জুন) সংবাদপত্রে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজধানী ঢাকার বিজয় স্মরণীতে ‘‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’’-এর দেয়ালে ’৫২-র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত বিভিন্ন গণআন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে ধারণ করে তৈরি করা স্মারক ম্যুরাল ভাঙার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, “বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যে বাঙালি জাতি চেতনার উন্মেষ ঘটেছিল, ’৬২, ’৬৯ এবং ’৭১ এ যা পরিণতি লাভ করে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যার স্মারক স্মৃতিচিহ্ন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ঐসব গণ-সংগ্রামের ইতিহাস সংবলিত ম্যুরাল নির্মাণ করা হয়েছিল। আমরা অবাক বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, ’২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই একদল দুষ্কৃতিকারী সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি চিহ্ন মুছে ফেলায় উন্মত্ত হয়েছে। কারও কারও বক্তব্যেও ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধকে ’২৪ দিয়ে প্রতিস্থাপনের কথা ফুটে ওঠছে। যা ইতিহাস বিকৃতির নামান্তর।”

বিবৃতিতে কমরেড ফিরোজ বলেন, “চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা হলো ’৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনারই ধারবাহিকতা। বিগত ৫৪ বছরে শাসকেরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীতে দেশ পরিচালনা করায় দেশে যে দুর্নীতি, দুঃশাসন, লুটপাটতন্ত্র, পরিবারতন্ত্র ও স্বৈরতন্ত্র কায়েম হয়েছিল। তারই বিরুদ্ধে ’২৪ এর গণ-অভ্যুত্থান সংগঠিত হয়েছে এবং দেশে গণতন্ত্রে উত্তরণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ’২৪ এর জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থান শুধু দেশেই নয়, সারা দুনিয়াতেই গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার। কিন্তু ’৭১ কে বাদ দিয়ে ’২৪ কে ধরাণ করা যাবে না। চব্বিশের স্মারক ভাস্কর্য নির্মাণের জন্য মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণের ম্যুরাল ভেঙে ফেলা হচ্ছে। এটা গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী বলে আমরা মনে করি।”

বিবৃতিতে তিনি বলেন, “চব্বিশকে জাগ্রত রাখতে হলে ’৭১ কে জাগ্রত রাখতে হবে। তাই বিজয় স্মরণীর ম্যুরালসহ সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্যসহ সব স্মৃতি চিহ্ন যথাযোগ্য মার্যাদায় সংরক্ষণ করতে হবে। একইসঙ্গে চব্বিশের স্মারক ভাস্কর্য নির্মাণের জন্য রাজধানীতে অন্য কোনো উপযুক্ত স্থানে ’২৪ এর স্মারক ভাস্কর্য নির্মাণের দাবি জানাই।”

   

About

Popular Links

x