Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ভালোবাসায় ভরা ১৪ ফেব্রুয়ারিতে উপেক্ষিত সুন্দরবন দিবস

সুন্দরবন দিবস পালন কোনো আবেগ নয়, বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে অত্যন্ত যৌক্তিক

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৪:৪২ পিএম

মানুষের নির্বিচার আচরণে দিন দিন বিপন্ন হচ্ছে সুন্দরবনের পরিবেশ। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৪ ফেব্রুয়ারি “সুন্দরবন দিবস” হিসেবে ঘোষিত হয়। অথচ ভালোবাসা দিবসের আড়ালে অবহেলিত এ দিবসটি।

উপকূলীয় অঞ্চলসহ পুরো দেশের পরিবেশ দৃঢ়ভাবে জড়িয়ে আছে সুন্দরবনের সঙ্গে। তাই সুন্দরবন দিবস পালন কোনো আবেগ নয়, বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে অত্যন্ত যৌক্তিক।

২০০১ সালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণে শহরে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম জাতীয় সুন্দরবন সম্মেলন। এর আয়োজন করে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, জেলার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রূপান্তর ও পরশ। পাশাপাশি অংশ নেয় দেশের আরও ৭০টি পরিবেশবাদী সংগঠন। সম্মেলনে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে “সুন্দরবন দিবস” ঘোষণা করা হয়। এরপর ২০০২ সাল থেকে সুন্দরবনের আশপাশের জেলাগুলোতে বেসরকারিভাবে ১৪ ফেব্রুয়ারি দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

সমুদ্র উপকূলবর্তী নোনা পরিবেশের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। ম্যানগ্রোভ বন ঝড় এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে, উপকূলীয় অঞ্চলকে ক্ষয় থেকে রক্ষা করে এবং উচ্চ বাতাস ও ঢেউয়ের প্রভাব হ্রাস করে। বাংলাদেশের ফুসফুস-খ্যাত সুন্দরবন অক্সিজেনের এক বিশাল ফ্যাক্টরি হিসেবে কাজ করে। এখানকার বন্যপ্রাণীরা প্রাকৃতিক সম্পদ যেমন বন, পানি এবং মাটির ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যে সুন্দরবনের বৃহৎ ভূমিকা ভুলে থাকার সুযোগ নেই। বাফার হয়ে দাঁড়িয়ে ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় প্রতিরোধ করে এই বনভূমি।

সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার/শুভজীৎ নন্দী

একটি দেশের মোট আয়তনের ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা দরকার কিন্তু আমাদের দেশে ১৭ ভাগ বনভূমি আছে, যা দিন দিন কমে আসছে। অসংখ্য জীববৈচিত্র্যের আঁধার এই সুন্দরবনের ওপর  নানা ধরনের বন বিনাশী কর্মকাণ্ড চলছে। পরিবেশ দূষণ ও ম্যানগ্রোভ এই বনের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসকারী শিকারি ও কাঠ পাঁচারকারীদের কারণে সুন্দরবন এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। 

অবাধে উজাড় হচ্ছে সুন্দরবনের গাছ, লুটপাট হচ্ছে বনজ সম্পদ এবং পাচার হচ্ছে প্রাণী। পশুর নদীতে তেলবাহী জাহাজ চলাচল হুমকিতে ফেলেছে সুন্দরবনের জলজ প্রাণীদের অভয়াশ্রম।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বনবিদ্যা ও কাষ্ঠ প্রযুক্তি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদাতের উদ্বেগ, “পরিতাপের বিষয়, পরিবেশগত গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোকে আমরা উপলব্ধি করতে পারছি না। কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও বনবিভাগের অসৎ কর্মকর্তা যোগসাজসে প্রতিনিয়ত সুন্দরবনের ক্ষতি করছে। সুন্দরবনকে বাঁচাতে হলে আসলে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা করা জরুরি। হুমকির মুখে পড়া সুন্দরবনের জীব বৈচিত্র্য রক্ষার জন্য সাধারণ জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যেই সুন্দরবন দিবসের উদ্ভব। এই দিবস জাতীয়ভাবে পালনের মধ্য দিয়ে সুন্দরবন নিয়ে সরকারকে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার পাশাপাশি এর তাৎপর্য প্রান্তিক মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে সবাইকে সচেতন করে তুলতে হবে।”

সুন্দরবন দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পদযাত্রা কর্মসূচির আয়োজন করে গ্রীন ভয়েস/আহাদুল করিম খান/ঢাকা ট্রিবিউন

সুন্দরবন দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, “সুন্দরবন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতি ও  জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। দেশের মোট বনজসম্পদের একক বৃহত্তম উৎস সুন্দরবন। ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসের আড়ালে ভুলে যাওয়া হয় সুন্দরবন দিবসকে। বিশেষ করে গণমাধ্যমগুলোতে ভালোবাসা দিবসের বিষয়সূচি যতটা উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে প্রচার করা হয়, সুন্দরবন দিবসকে ততটাই অবহেলা করা হয়। অথচ প্রাকৃতিক সম্পদ সুন্দরবন সংরক্ষণে যুবসমাজকে সচেতন করতে গণমাধ্যমের তৎপর হওয়া সবচেয়ে জরুরি। বিভিন্ন সেমিনার, আলোচনা সভার মধ্যে সুন্দরবন দিবসকে সীমাবদ্ধ না রেখে দিবসটি জাতীয়ভাবে পালন করা হলে জনসাধারণের মধ্যে সুন্দরবনের গুরুত্ব বাড়বে। সুন্দরবন দিবসে নতুন প্রজন্মের মধ্যে এ বনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরার পাশাপাশি তাদেরকে সুন্দরবন বিষয়ে সচেতন করতে হবে।”

বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় আরও বাড়বে। আমাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সুন্দরবন খুবই জরুরি অবদান রাখে। ভবিষ্যতের মহাবিপদ থেকে বাঁচতে আমাদের অবশ্যই সুন্দরবনকে রক্ষা করতে হবে। জাতীয় স্বার্থেই সুন্দরবন রক্ষার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে।

সায়মা আক্তার এশা
শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্ত ব্যক্তিগত। ঢাকা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ এর জন্য দায়ী নয়।

About

Popular Links