Wednesday, August 19, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জহির রায়হানের ৯১তম জন্মদিন আজ

মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে তার ভূমিকা আজও নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম

কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, রাজনীতিক, মুক্তিযোদ্ধা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা জহির রায়হানের ৯১তম জন্মদিন আজ। 

বাংলাদেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক ইতিহাসে বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী জহির রায়হান স্বল্প জীবনে যে অনন্য সৃষ্টিশীলতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন, তা আজও বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রে সমানভাবে স্মরণীয়। 

১৯৩৫ সালের ১৯ আগস্ট ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জহির রায়হান। তার প্রকৃত নাম আবু আবদার মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ। 

১৯৫৩ সালে কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেয়ার পর দলের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক কমরেড মণি সিংহের দেয়া ‘রায়হান’ নামটি তার নামের সঙ্গে যুক্ত হয়। এরপর থেকেই তিনি জহির রায়হান নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন।  

ছাত্রজীবন থেকেই সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল তার। মাত্র ১৪ বছর বয়সে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় তার প্রথম কবিতা ‘ওদের জানিয়ে দাও’ প্রকাশিত হয়। পরবর্তী সময়ে প্রগতিশীল মহলে কথাসাহিত্যে নিজস্ব ধারা তৈরি করেন তিনি। 

ভাষা আন্দোলনেও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন জহির রায়হান। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভেঙে বের হওয়া মিছিলে সামনের সারিতে ছিলেন তিনি। 

ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে লেখা তার উপন্যাস ‘আরেক ফাল্গুন’ বাংলা সাহিত্যে বিশেষ স্থান করে নেয়। উপন্যাসটির বিখ্যাত উচ্চারণ- ‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হব’ অধিকার ও প্রতিবাদের প্রতীকী ভাষা হিসেবে সারাদেশে পরিচিত।  

জহির রায়হানের উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে- ‘হাজার বছর ধরে’, ‘আর কত দিন’, ‘শেষ বিকেলের মেয়ে’, ‘বরফ গলা নদী’ ও ‘তৃষ্ণা’। গ্রামীণ সমাজ, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী চেতনা এবং শহুরে মধ্যবিত্ত জীবনের নানা টানাপোড়েন নিয়ে তার লেখনীতে ছিল প্রতিবাদ ও আন্দোলনের ভাষা। 

তার নির্মিত চলচ্চিত্র ‘জীবন থেকে নেয়া’ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক বাস্তবতা, স্বৈরাচার ও বাঙালির মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে চলচ্চিত্রের ভাষায় তুলে ধরে। 

মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় চলচ্চিত্রকে তিনি পরিণত করেছিলেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা ও নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে নির্মাণ করেন প্রামাণ্যচিত্র ‘স্টপ জেনোসাইড’। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বাস্তবতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে এই প্রামাণ্যচিত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও চলচ্চিত্রে যে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন জহির রায়হান, তা তাকে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে স্থায়ী আসন দিয়েছে। 

অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে তার অবস্থান, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে তার সাংস্কৃতিক ভূমিকা আজও নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। 

   

About

Popular Links

x