Thursday, August 20, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আলো নয়, অন্ধকারই আকর্ষণ যে গ্রামের

দেশ-বিদেশ থেকে পর্যটকরা ছুটছেন মহারাষ্ট্রের এই ছোট্ট পাহাড়ি গ্রামে 

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম

অন্ধকারকে বাঁচিয়ে রাখাই যে গ্রামের অন্যতম লক্ষ্য। রাত ৮টার পর সেখানে অপ্রয়োজনীয় কৃত্রিম আলো জ্বালানো নিষিদ্ধ। ফলে রাত নামতেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে তারাভরা আকাশ। নক্ষত্রখচিত রাতের এই দৃশ্য দেখতে এখন দেশ-বিদেশ থেকে পর্যটকেরা ভিড় করছেন মহারাষ্ট্রের নাশিক জেলার উধমাল গ্রামে।

রাতের অন্ধকারই গ্রামের সম্পদ

মহারাষ্ট্রের সুরগাণা তালুকের ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম উধমাল। শহুরে কোলাহল, তীব্র আলো কিংবা আলোকদূষণের দাপট এখানে নেই। রাত হলেই গোটা গ্রাম যেন কোটি কোটি নক্ষত্রের আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে।

মহারাষ্ট্র সরকার রাজ্যের কয়েকটি এলাকাকে অ্যাস্ট্রো-ট্যুরিজমের জন্য চিহ্নিত করেছে। সেই তালিকায় উধমালের নামও রয়েছে। গ্রামের যেকোনো প্রান্ত থেকে দেখা যায় তারায় ঝলমলে আকাশ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা নক্ষত্রখচিত আকাশের দিকে তাকিয়ে সময় কাটাতে পারেন পর্যটকেরা।

শহরাঞ্চলে রেস্তরাঁ, শপিং মল, রাস্তার দোকান, বাজার কিংবা বাড়ির বাইরের বাতিস্তম্ভ - সবখানেই কৃত্রিম আলোর ব্যবহার বেড়েছে। তীব্র আলো ও বিভিন্ন ধরনের আলোকসজ্জার কারণে রাতের স্বাভাবিক অন্ধকার অনেকটাই হারিয়ে গেছে। ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস অফ আর্টিফিশিয়াল স্কাই লুমিনিসেন্সের সমীক্ষা অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৮০% মানুষ আলোকদূষণের প্রভাবের মধ্যে রয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে নির্মল ও দূষণমুক্ত রাতের আকাশের জন্য উধমাল হয়ে উঠছে নক্ষত্রসন্ধানীদের আকর্ষণের জায়গা।

৫০০ থেকে ৬০০ মানুষের গ্রাম

উধমালে বসবাস করেন কোকনা আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ। গ্রামটির জনসংখ্যা প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০। স্থানীয় আদিবাসীরাই প্রথম এই গ্রামের তারাভরা আকাশকে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেন।

‘পেসা’ আইনের অধীনে উধমালকে ‘ডার্ক স্কাই কমিউনিটি’-র আওতায় আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ডার্কস্কাই ইন্টারন্যাশনাল’ও গ্রামটিকে এই কর্মসূচির আওতায় আনে। একই সঙ্গে অ্যাস্ট্রো-ট্যুরিজমের কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

গ্রামে অপ্রয়োজনীয় কৃত্রিম আলো ব্যবহার করা হয় না। আলোর দূষণের সঙ্গে সম্পর্কিত ‘লাইট ট্রেসপাস’, ‘ওভার ইলুমিনেশন’ ও ‘লাইট ক্লাটার’-এর মতো সমস্যাও এখানে নেই। ফলে রাতের আকাশে নক্ষত্রপুঞ্জ এবং ছায়াপথ স্পষ্ট দেখা যায়।

কীভাবে পৌঁছোবেন উধমালে?

হাওড়া বা শালিমার থেকে মুম্বইগামী ট্রেনে নাশিক রোড স্টেশনে যেতে হবে। সেখান থেকে বাস বা ট্যাক্সিতে সুরগাণা তালুকে পৌঁছানো যায়। এরপর সুরগাণা থেকে ট্যাক্সি বা জিপে পাহাড়ি রাস্তা পেরিয়ে উধমাল গ্রামে পৌঁছানো সম্ভব। এছাড়া কলকাতা থেকে মুম্বাই বা পুণেগামী বিমানে গিয়ে সেখান থেকে সড়কপথ বা ট্রেনে নাশিক যাওয়া যায়। 

কোথায় থাকবেন?

উধমালে বড় হোটেল বা বিলাসবহুল রিসর্ট নেই। পর্যটকরা স্থানীয় কোকনা আদিবাসীদের মাটির ঘরে থাকতে পারেন। খাবারের ব্যবস্থাও স্থানীয়রাই করেন।

পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে থাকায় গ্রামে হোমস্টের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। তবে রাত ৮টার পর অপ্রয়োজনীয় আলো জ্বালানো নিষিদ্ধ থাকায় অন্ধকার রাতের আকাশই এখানে পর্যটকদের মূল আকর্ষণ।

   

About

Popular Links

x