কলকাতার শহরের রাস্তায় সবার আগে নজরকাড়ে হলুদ রংয়ের ট্যাক্সির। এটি একসময় ভারতের আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিল। কলকাতা ভ্রমণে গিয়েছেন এবং হলুদ ট্যাক্সিতে ওঠেননি বা এর সঙ্গে ছবি তোলেননি, এমন ব্যক্তি পাওয়া খুবই দুষ্কর। যদিও বর্তমানে এই ট্যাক্সিগুলোর চাহিদা অনেক কম, তা সত্ত্বেও কলকাতার শহরে এখনো চলছে প্রায় ২০,০০০ এর মতো হলুদ ট্যাক্সি।
অনেকেই কৌতূহলবশত জানতে চান ট্যাক্সির রং ভিন্ন না হয়ে কেন হলুদ রংয়ের হলো আর এর চলন শুরু হলো কিভাবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক।
ট্যাক্সির রং হলুদ কেন তা জানতে হলে প্রথমেই জানতে হবে, ট্যাক্সির ইতিহাস। ট্যাক্সির মডেলটি আসলে অ্যাম্বাসেডর মডেল। ১৯৫৮ সালে এই মডেল নির্মাণ শুরু হয়েছিল। হিন্দুস্তান মোটরস বিখ্যাত অ্যাম্বাসেডর মডেল নির্মাণ শুরু করে বিড়লা টেকনিকাল সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রুপের অংশ হিসেবে। প্রসঙ্গত, এই মডেলটির ডিজাইনার ছিলেন ব্রিটিশ ইঞ্জিনিয়ার স্যার আলেক্সান্ডার ইসিগনিস। নির্মাণের পরে পরেই ভীষণ জনপ্রিয় হয়ে যায় হিন্দুস্তান কোম্পানির অ্যাম্বাসেডর। ক্লাসিক ডিজাইন সকলের মন কাড়ে। যার ফলে দ্রুত এটি বিভিন্ন সরকারি অফিসার ও জনপ্রতিনিধিদের পছন্দের মডেল হয়ে যায়। পরে ১৯৬২ সালে এই জনপ্রিয়তাই মডেলটিকে পৌঁছে দেয় কলকাতার ট্যাক্সি ভাবনায়। কলকাতা ট্যাক্সি অ্যাসোসিয়েশন মডেলটিকে অনুকরণ করে ট্যাক্সি বানায়। কিন্তু গাড়িগুলিকে আলাদা করে চিহ্নিত করার জন্য় রং করা হয় হলুদ। অনেকে বলেন, হলুদ রংটি নজরে আসার জন্য রাখা হয়েছিল। যাতে রাতেও ভালো করে দেখা যায় গাড়িটিকে।
এই ট্যাক্সিটি ভারতের তৈরি প্রথম ডিজেলচালিত গাড়ি। রাস্তায় নামার কিছু দিনের মধ্যেই এটি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে। যত সময় পেড়োতে থাকে, ততই এটি নস্টালজিয়ায় পরিণত হয়।



