এক বুনো, এক দ্রোহী শিল্পী তিনি। শুধু ক্যানভাস নয়, আঁকেন বিশাল করে গ্রাফিতি বা দেয়াল চিত্র। বলা হচ্ছে, ব্রিটিশ রাজনৈতিক কর্মী, চিত্রকর, চলচ্চিত্র নির্মাতা ব্যাঙ্কসির কথা। এখনো পর্যন্ত যিনি আছেন আড়ালে। কিন্তু তার নিজস্ব ঘরানার গ্রাফিতি পরিচিত বিশ্বজুড়ে।
নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলের দেয়াল চিত্র আঁকার মাধ্যমে ব্যাঙ্কসি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এরপর একের পর এক প্রদর্শনী। মুহুর্মুহু বিতর্ক তাকে নিয়ে। স্বাধীনতার আর্তি নিয়ে প্রতিক্ষণ লড়াই করা ফিলিস্তিনি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ব্যাঙ্কসি। ইসরাইলি সীমানার পিলারে যিনি এঁকেছেন গ্রাফিতি। অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট আন্দোলনে যার কাজ প্রেরণা দেয়। তারকা হওয়ার যার কোনো খায়েশ নেই। নিজেকে আড়ালে রেখে যিনি কাজ দিয়ে সংহতি জানাচ্ছেন গোটা পৃথিবীর নিপীড়িত শ্রেণির আন্দোলনের প্রতি।
ইংল্যান্ডের দক্ষিণ লন্ডনের ক্রোইডেনে একটি দোকান আছে ব্যাঙ্কসির আঁকা পণ্যের। তিনি অভিনব এই শপের নাম রেখেছেন “গ্রস ডোমেস্টিক প্রোডাক্ট”। এখানে শোভা পায় তার কাজের প্রতিকৃতি। আছে টিশার্ট, মগ, পার্সের মতো নিত্য ব্যবহার্য সব পণ্য। পণ্যেও দামও এখানে ভোক্তাদের হাতের নাগালে। এর মাধ্যমে এই শিল্পীর কাজ ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বজুড়ে। কোটি কোটি ব্যাঙ্কসি ভক্ত সংগ্রহে রাখতে পারবেন তার কাজ।
৯০ এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ব্যাঙ্কসির সঙ্গে পরিচয় ঘটে আর্ট কিউরেটর স্টিভ ল্যাযারিডসের সঙ্গে। তিনি প্রথম ব্যাঙ্কসির কাজের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা খুঁজে পান। এরপর চলতে থাকে একের পর এক ব্যাঙ্কসির চিত্র প্রদর্শনী। সেই সঙ্গে চিত্রকর্ম বিক্রি। পরে তিনি লন্ডনে কাজ শুরু করেন। ২০০০ সালের আগেই পুরো ব্রিটেন জুড়েই ব্যাঙ্কসি পরিচিত হয়ে ওঠেন। এরপরই বিশ্বের অনন্য এক শিল্পী হিসেবে খ্যাত হয়ে ওঠেন তিনি। কিন্তু তার চেহারা থাকে অদেখা।
চলচ্চিত্র তারকা ব্র্যাড পিট একবার বলেছিলেন, সবাই যখন নিজেকে দেখাতে, নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত তখন ব্যাঙ্কসি অবশ্যই এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ। তার কাজ স্বীকৃতি পায়। কিন্তু তিনি নিজে থেকে যান আড়ালে।
নিজের চেহারা না দেখানোর শর্তে কয়েকটি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ব্যাঙ্কসি। সাক্ষাৎকারগ্রহিতারা জানিয়েছেন, ব্যাঙ্কসি চল্লিশ বছর বয়সী এক শিল্পী। অধিকাংশ সময় সাদা টি শার্ট আর জিন্স পরে থাকেন যিনি।
বর্তমান ইন্টারনেটময় বাজার ব্যবস্থায় শিল্প ও শিল্পীর বক্তব্য প্রকাশের জন্য খুব উপযুক্ত সময় মনে করেন ব্যাঙ্কসি। এটি অনেক বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো একটি মাধ্যম। বেশ কিছু প্রকাশনা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা তিনি। এর সবই রাজনৈতিক বক্তব্যে ঠাঁসা।
এর সঙ্গে নতুন শপের মাধ্যমে ব্যাঙ্কসি আরও বিস্তৃত হচ্ছেন। একই সঙ্গে তার শিল্পকর্ম। যা কখনো প্রকাশ করে বিদ্রূপ। কখনো করে আন্দোলিত। যা খুব সাধারণ এবং একই সঙ্গে অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।
শিল্পের প্রতিরোধের শক্তি ধারণ করে ব্যাঙ্কসির পথচলা। অবিরাম যেন তা চলে এ কামনাই দুনিয়ার মুক্তিকামী।
লেখক ও ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হাসান শাওনের জন্ম, বেড়ে ওঠা রাজধানীর মিরপুরে। পড়াশোনা করেছেন মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি বাঙলা কলেজ, বাংলাদেশ সিনেমা ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে। ২০০৫ সাল থেকে তিনি লেখালেখি ও সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত। কাজ করেছেন সমকাল, বণিক বার্তা, ক্যানভাস ম্যাগাজিন ও আজকের পত্রিকায়।
২০২০ সালের ১৩ নভেম্বর হাসান শাওনের প্রথম বই “হুমায়ূনকে নিয়ে” প্রকাশিত হয়।
প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। প্রকাশিত লেখার জন্য ঢাকা ট্রিবিউন কোনো ধরনের দায় নেবে না।



