Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ঘোড়ায় চেপে সমুদ্রে চিংড়ি ধরার বিরল পেশা

২০১৩ সালে ইউনেস্কো আদিকালের এই পেশাকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তালিকায় স্থান দিয়েছে

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২২, ০৫:২৭ পিএম

সমুদ্রসৈকতে জেলেদের কার্যকলাপ পর্যটকদের আকর্ষণ করে। বেলজিয়ামের এক শহরে সেই কাজের আকর্ষণই আলাদা। ইউনেস্কোর স্বীকৃতির দৌলতে নারীরাও অসাধারণ দক্ষতা আয়ত্ত করে আসরে নামছেন।

শুধু বেলজিয়ামের অস্টডেনক্যার্কে শহরের সৈকতেই ৫০০ বছর আগের মতো মাছ ধরা হয়। ঘোড়ায় চেপে চিংড়ি ধরার রোমাঞ্চই আলাদা।

ভোরেই নেলে বেকার্ট ও তার ঘোড়া আক্সেল কাজ শুরু করে। তিনি গোটা বিশ্বের প্রথম স্বীকৃত নারী ঘোড়সওয়ার জেলে। ২০১৩ সালে ইউনেস্কো আদিকালের এই পেশাকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তালিকায় স্থান দিয়েছে। তবে পুরুষ ও নারী সবার জন্য সেই সুযোগ ছিল এই স্বীকৃতির পূর্বশর্ত।

নেলে বলেন, “সত্যি অসাধারণ অভিজ্ঞতা! একটি প্রাণীর পিঠে চড়ে সমুদ্রের উপর দিয়ে যাবার সময় সেটির পুরো শক্তি টের পাওয়া যায়। সমুদ্রের দিকে তাকালে সবকিছু কত শান্ত লাগে।”

এমন বিরল পেশা গ্রহণের সুযোগ সম্পর্কে নেলে বলেন, “ইউনেস্কোর স্বীকৃতির কারণেই আমি ঘোড়সওয়ার জেলে হতে পেরেছি। তার আগে এ ক্ষেত্রে পুরুষদের একচেটিয়া আধিপত্য ছিলো। আমাকে দ্বিগুণ পরিশ্রম করে যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হয়েছে। কিন্তু আমি সফল হয়েছি। এখন তারা আমাকে পুরোপুরি মেনে নিয়েছে।”


শুধু বেলজিয়ামের অস্টডেনক্যার্কে শহরের সৈকতেই ৫০০ বছর আগের মতো ঘোড়ায় চেপে ধরা হয় চিংড়ি/ স্ক্রিনশট


নেলে বেকার্ট-কে দুই বছর শিক্ষানবিস হিসেবে কাজ এবং বেশ কয়েকটি পরীক্ষা পাশ করতে হয়েছে। তিন সন্তানের মা হিসেবে তিনি এক বৃদ্ধাবাসে কাজ করেন। সেটাই তার উপার্জনের মূল উৎস। অবসর সময়ে ভাটার দুই ঘণ্টা আগে সৈকত তাকে টানে।

প্রায় আধ ঘণ্টা পর নেলে ও তার সহকর্মী কাটরিন টেরেন প্রথম বার জাল তুললেন। দুজনেই দেখতে চান, কত পরিমাণ ধরা পড়েছে। এ দিন জালে তেমন বেশি মাছ ওঠে নি। কিন্তু পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে জায়গাটির বেশ লাভ হচ্ছে। ঘোড়সওয়ার জেলেদের আকর্ষণে অনেক মানুষ সেখানে আসেন।

বর্তমানে শহরের ১৭ জন জেলে এই পেশা ধরে রেখেছেন। অতীতেও নারী-পুরুষ একসঙ্গেই সেই কাজ করতো।

স্টেফান হানকে বলেন, “অনেককাল আগে, যখন ছোট গাধায় চেপে মাছ ধরা হতো, তখন নারীরাই সেই কাজ বেশি করতো। পুরুষরা নৌকা নিয়ে সমুদ্রে যেত। শিশুদের মানুষ করতে নারীদের কিছু বাড়তি আয় হতো।”

কাটরিন ও তার সঙ্গীর খামারে মাছ বাছাইয়ের কাজ চলে। তারপর ঘোড়াও দেখাশোনা করতে হয়। বিরল প্রজাতির এই ঘোড়া সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও মাছ ধরার পেশা সহায়ক হচ্ছে।

কাটরিন বলেন, “আমি একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করছি। ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ রয়েছে। অবশ্যই সবার নেই। কিছু মানুষ সবকিছু আরও আধুনিক দেখতে চান। আরও ভালো কম্পিউটার, আরও দ্রুতগতির ইন্টারনেট, সবকিছু ডিজিটাল চান। অনেকে আবার অতীতের অভিজ্ঞতার স্বাদ পেতে চান।”

ঘোড়ায় চেপে মাছ ধরার আদিকালের পেশা চিংড়ি শিকারের অত্যন্ত টেকসই ও কম ক্ষতিকারক পদ্ধতি৷ দুই নারী ঘোড়সওয়ার জেলের কারণেও সেই পেশা নতুন উদ্দীপনা পাচ্ছে।

About

Popular Links