Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জয়তু চকলেট!

কখনো ভেবেছেন চকলেট কেন এত টানে আমাদের

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২২, ০৪:৫০ পিএম

চকলেট পছন্দ করেন না এমন মানুষ কম। আর শিশু মাত্রই থাকবে চকলেটের জন্য এক ভীষণ টান। কত বড়রা ছোটদের চকলেটের লোভ দেখিয়ে কত কিছু আদায় করে নেয়, তার হিসাব দেওয়া যাবে না। সন্তানের প্রিয় চাওয়ার লিস্টে তাই চকলেট থাকে সব সময়ই।

আজকের দিনে শুধু চকলেট নিয়েই কথা হতে পারে। কারণ এই দিন ৭ জুলাই বিশ্ব চকলেট দিবস বা আন্তর্জাতিক চকলেট দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। আজ তাই হয়ে যাক চকলেট নিয়ে এক কিস্তি।

কখনো ভেবেছেন চকলেট কেন এত টানে আমাদের? উত্তর জানতে যেতে হবে বিজ্ঞানে। চকলেট তৈরি হয় কোকো বীজ থেকে। এতে আছে “সেরোটোনিন” নামে একটি যৌগ। যার প্রভাবে আমাদের ইন্দ্রিয়তে ভালো লাগার অনুভূতি সৃষ্টি হয়। চকলেট খেলে শরীরও তাই চনমনে হয়ে যায়।

চকলেট কিন্তু শুধু এখনের টেস্টি খাবার না। ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, খ্রিস্ট জন্মের আগে মায়া ও অ্যাজটেক সভ্যতায় চকলেট ছিল। তখন তা ছিল শুধু তরল। মানে তখনের মানুষ ড্রিংক্স এর ফর্মে চকলেট পান করত।

ইতিহাসবিদদের মতে, দক্ষিণ আমেরিকার আমাজনের কোকো বীজ থেকে প্রথম চকলেট তৈরি হয়। এরপর কোকো চাষ ছড়িয়ে পড়ে মধ্য আমেরিকার আরও অনেক অঞ্চলে। এরপর এই বীজ আসে আফ্রিকায়। এখন কোকো মানে শুধু আফ্রিকা। আফ্রিকার আইভরি কোস্ট, ঘানা, নাইজেরিয়া ও ক্যামেরুনে ব্যাপকভাবে চাষ হয় এর। পৃথিবীর মোট কোকোর ৬০% চাষ হয় ঘানা আর আইভরি কোস্টে। এ কাজে শিশুদের কাজে কর্মরত থাকার অভিযোগ আছে। জাতিসংঘ তা বন্ধে কাজ করছে। অর্থনীতিবিদদের হিসেবে, বিশ্বের মোট চকলেট বিক্রি থেকে যে আয় হয়, কোকো বীজ বিক্রি করে তার প্রায় এক–দশমাংশ আয় করে আফ্রিকা মহাদেশ।

তবে একটি বিষয় হচ্ছে, আফ্রিকা থেকে শুধু অপ্রক্রিয়াজাত কোকো বীজই আসে। এরপর চকলেট বানাতে বাকি থাকে আরও কাজ। বীজ সংগ্রহ, শুকানো, ভাজা ও গাঁজন প্রক্রিয়া - এমন অনেক কিছু।

এখন আমরা যে চকলেট খাই এর উদ্ভাবক হলেন জোসেফ ফ্রে। তিনি ১৮৪৭ সালে কোকোর সঙ্গে আরও উপাদান মিশিয়ে প্রথম চকলেট পেস্ট তৈরি করেন। ১৮৬৮ সাল থেকে “ক্যাডবেরি” কোম্পানি চকলেট ক্যান্ডির বক্স ইংল্যান্ডে বাজারজাত শুরু করে। তুমুল ব্যবসা শুরু হয় চকলেট নিয়ে। কয়েক বছর পর মিল্ক চকলেট বাজারে আনে “নেসলে”। এরপর মার্কিন মুলুকে চকলেট ছাড়া চলেই না। এখনও এমন চলছে। অর্থনীতিবিদদের হিসাবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর চকলেট শিল্পে বিনিয়োগ হয় প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার। আর একজন মার্কিন নাগরিক প্রতি মাসে কমপক্ষে হাফপাউন্ড চকলেট খেয়ে থাকেন। অ্যামেরিকার বাইরে অনেক দেশের চকলেট ভালো। এর মধ্যে বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড, ইতালি, অস্ট্রেলিয়ার নাম বলা যায়। 

বেশি বেশি কিছুই ভালো না। চকলেট বেশি খেলে শিশুরা মোটা হয়ে যায়। তখন ভুগতে হয় আবার স্থূলতা সমস্যার নানা রোগে। এখনের প্যারেন্টসরা বিষয়টি মাথায় রেখে শিশুর হাতে চকলেট দেবেন।

আজ যে বিশ্ব চকলেট দিবস এও কিন্তু নতুন কিছু নয়। ধারনা করা হয়, ইউরোপে ১৫৫০ সাল থেকে এমন দিবসের প্রচলন ছিল।

এ দিবসে সবার জীবন হোক পরিমিত চকলেটময়। জয়তু চকলেট!!!

About

Popular Links