ফাইলে বন্দি থাকা? রেনে কাউফ কখনোই অফিস কেরানি হতে চাননি। তাই নার্স ছিলেন ২০ বছর। তবে তার কিডনিতে সমস্যা আছে। তাই কাজ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে তার জন্য।
কিডনি রোগী রেনে কাউফ বলেন, “নার্সের কাজ করতে হলে আপনাকে শারীরিকভাবে সক্ষম ও সবসময় মনোযোগী থাকতে হবে। কিডনির কর্মক্ষমতা কমতে থাকলে সেগুলোও আর করা যায় না। কাজে দক্ষতা আর থাকে না। সহকর্মীদের আমাকে অনেক কাজে সাহায্য করতে হত।”
ছয় বছর বয়সে কিডনিতে সিস্ট ধরা পড়ে রেনে কাউফের। তখন থেকেই ডাক্তারের পরামর্শ নিচ্ছেন নিয়মিত। তবে অনেক বছর তিনি খেলাধুলা করতে পেরেছেন।
কিডনি রোগের অনেক কারণ আছে। তবে কারণগুলো সবসময় ধরা পড়ে না।
কাউফের মতো সিস্ট পাওয়া যায় মাত্র ৭% কিডনি রোগীর। ১২% কিডনি রোগ হয় অতিরিক্ত মাদক সেবনের কারণে। প্রদাহের কারণেও কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের কারণ উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস।
মেনজ ইউনিভার্সিটির মেডিকেল সেন্টারের নেফ্রোলজি বিভাগের প্রধান ইউলিয়া ভাইনমান-মেনকে একজন কিডনি বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, “কিডনি আক্রান্ত হয়েছে এটা বোঝা সহজ নয়, কারণ সাধারণত এতে ব্যথা হয় না। কিডনি রোগের এটাই সবচেয়ে বড় সমস্যা। যখন ধরা পড়ে, ততক্ষণে সমস্যা অনেক গভীর হয়ে যায়। যেমন, ক্লান্তি, অবসাদ, কিংবা চুলকানি হতে পারে। হয়ত আপনার মূত্রের পরিমাণ কমে গেছে কিংবা রঙ বদলে গেছে। কিন্তু এমন কোনো লক্ষণ চোখে পড়বে না যে আপনার মনে হবে, আমার কিডনি রোগ হয়েছে।”
নমুনা পরীক্ষায় সম্ভাব্য কিডনি রোগ নির্ণয় করা যেতে পারে। মূত্রে প্রোটিনের উপস্থিতি একটি লক্ষণ হতে পারে। কিংবা মূত্র বা রক্ত পরীক্ষা করে ডায়াবেটিস আছে কি-না দেখা যেতে পারে, যা কিডনির ঝুঁকির কারণ।
ইউলিয়া বলেন, “আমরা ঝুঁকি ফ্যাক্টরগুলো দেখি। রোগীর উচ্চ রক্তচাপ আছে কি-না, রক্তে শর্করার পরিমাণ বেশি কি-না, কিংবা রোগী এমন কোনো ওষুধ খাচ্ছেন কি-না, যা কিডনির জন্য ক্ষতিকর। কিংবা অটোইমিউন ডিজিজের মতো কোনো বংশগত রোগ আছে কি-না, যা কিডনির ক্ষতি করতে পারে। এরপর আপনি এই রোগের চিকিৎসা করতে পারেন এবং কিডনির ক্ষতিরোধ করতে পারেন অথবা অন্তত এর ক্ষতি হবার গতি একেবারে শ্লথ করে দিতে পারেন।”
যদি কিডনির কর্মক্ষমতা একেবারে কমে যায় অথবা হারিয়ে যায়, তখন কেবল ডায়লাইসিস কাজ করে। রক্ত পরিষ্কার করতে হয়। রেনে কাউফের ক্ষেত্রে স্থায়ী উচ্চ রক্তচাপ এই রোগের প্রথম লক্ষণ। প্রথমে নেফ্রোলজিস্টের কাছে বাৎসরিক চেকআপ এবং এরপর ৩০ বছর বয়সে ডায়লাইসিস শুরু। এখন তো সপ্তাহে তিনবার করতে হয়।
বংশগতভাবে পাওয়া রোগটি রেনে কাউফ হয়তো কোনভাবেই ঠেকাতে পারতেন না। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করে কিডনি রোগ ঠেকানো যায়। সঙ্গে প্রয়োজন ডাক্তারের নিয়মিত চেকআপ। এই রোগনির্ণয়ের এটাই একমাত্র উপায়। এমনকি অল্প বয়সে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ নির্ণয় করা গেলে সঠিক উপায়ে চিকিৎসা সম্ভব।



