Sunday, June 14, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বরিশালে আভাসের চক্ষু সেবা প্রকল্প শুরু

এই প্রকল্পের আওতায় বরিশাল সদর, বানারীপাড়া ও বাকেরগঞ্জ উপজেলায় প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ৬ লাখ উপকারভোগীকে বিভিন্ন ধরনের চক্ষু বিষয়ক সেবা দেওয়া হবে 

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২৩, ০৩:৫৮ পিএম

জেলার স্বল্প আয়ের মানুষের পাশাপাশি প্রতিবন্ধী, বৃদ্ধ, নারী, শিশু ও অসহায়দের জন্য বরিশালে একীভূত চক্ষু পরিষেবা প্রকল্প শুরু করেছে আভাস। 

সোমবার (১৬ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় বরিশাল গ্রান্ড পার্ক হোটেলে এক সভায় ‘‘ইমপ্রুভ এ্যাকসেস টু ইনক্লুসিভ এন্ড কম্প্রিহেনসিভ আই হেলথ সাভিসেস ইন বাংলাদেশ'' শীর্ষক প্রকল্পটির বিস্তারিত উপস্থাপন করা হয়।

আভাস-এর নির্বাহী পরিচালক রহিমা সুলতানা কাজলের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম, বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাহজাহান হোসেন, এবং বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ের চক্ষু বিভাগের প্রধান ডা. ডি. বি. পাল। 

আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা সিবিএম-এর সহযোগিতায় এই প্রকল্পের আওতায় বরিশাল সদর, বানারীপাড়া ও বাকেরগঞ্জ উপজেলায় প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ৬ লাখ উপকারভোগীকে বিভিন্ন ধরনের চক্ষু বিষয়ক সেবা দেওয়া হবে। 

আগামী তিন বছর সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, প্রতিবন্ধী সংগঠনগুলোকে দক্ষ ও শক্তিশালী করা এবং  সরকারি চক্ষু সেবার মান বৃদ্ধিতে সহযোগিতা, ভিশন সেন্টার ও বেইজ হাসপাতালগুলোতে সেবার মান বাড়ানো এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সেবা প্রদানে সহায়তা, জাতীয়-স্থানীয় সরকার এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে চক্ষু সেবার প্রতিবন্ধকতা জানানো ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে চক্ষু সেবার মান উন্নয়ন করা হবে বলে সভায় জানানো হয়।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘‘এই প্রকল্পের জন্য আভাসকে ধন্যবাদ। সরকার এসডিজি বাস্তবায়ন ও মধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছে, আর এই লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষদের সামনে নিয়ে আসতে হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে যদি ১০০ জন মানুষও চোখের আলো ফিরে পায় আর তাদের মধ্যে যদি অন্তত ১০ জন সঠিকভাবে দেশের জন্য কাজ করে সেটাই হবে দেশের জন্য বড় প্রাপ্তি।''

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করতে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করেন। পাশাপাশি তিনি নিজেও এটির বাস্তবায়নে সার্বিক সহায়তা করবেন বলে আশ্বাস দেন। 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘‘আভাস যে প্রকল্পটি হাতে নিয়েছে এতে আমরা সার্বিকভাবে সহায়তা করব। আপনারা মাঠ পর্যায়ে রোগীদের সচেতন করবেন, রেফারেলের মাধ্যমে রোগীদের আমাদের কাছে পাঠাবেন। আমাদের যতটুকু আধুনিক সুবিধা রয়েছে সেগুলো দিয়ে আমাদের ডাক্তাররা সাধ্যমত রোগীদের পাশে থাকবে।''

সভাপতির বক্তব্যে আভাস এর নির্বাহী পরিচালক রহিমা সুলতানা কাজল বলেন, ‘‘আমরা সবাই জানি বর্তমান সময়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের চোখের সমস্যা হচ্ছে। এক সময় মানুষ মনে করত বয়স হলে এমনিতেই চোখের সমস্যা হবে বা চোখের সমস্যা এক প্রকারের নিয়তি বলেই ধরে নেওয়া হতো। এই বিষয়ে আমাদের অনেক ভুল ধারণাও রয়েছে। তবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা সাধারন মানুষকে সচেতন করব এবং স্বল্প আয়ের অসহায় মানুষদের প্রাথমিক ও উন্নত চক্ষু সেবা প্রদান করব, প্রতিবন্ধী সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করব।'' 

এছাড়াও, তিনি প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সরকারি-বেসরকারি-নাগরিক প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। 

আভাস-আইইএইচ প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. আকবর হোসেনের পরিচালনায় সভায় বরিশাল জেলার সরকারি, বেসরকারি কর্মকর্তা, নাগরিক প্রতিনিধি, সাংবাদিক, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, বেসরকারি চক্ষু হাসপাতালের প্রতিনিধি ও আভাস-আইইএইচ প্রকল্পের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত  ছিলেন।

   

About

Popular Links

x