Thursday, May 30, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ঢাকা লিট ফেস্ট

‘বিশ্বায়নের কবিতা হবে মুক্ত কবিতা’

দশম ঢাকা লিট ফেস্টের সমাপনী দিনে ‘বিশ্বায়নের কালে ভবিষ্যতের কবিতা’ শিরোনামের একটি সেশনে আলোচনা করেন জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নুরুল হুদা ও পশ্চিমবঙ্গের কবি গৌতম গুহ রায়

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৩, ০৩:৫০ পিএম

বাংলা একাডেমিতে চলছে সাহিত্যের অন্যতম শীর্ষ আসর ঢাকা লিট ফেস্ট। করোনাভাইরাস মহামারির বাঁধা পেরিয়ে তিন বছর পর গত বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া ঢাকা লিট ফেস্টের দশম আসরের সমাপনী দিন আজ রবিবার (৮ জানুয়ারি) । এবারের আসরে অংশ নিচ্ছেন পাঁচ মহাদেশের পাঁচ শতাধিক বক্তা। চার দিনের এই উৎসবে ১৭৫টির বেশি সেশনে অংশ নিচ্ছেন তারা।

সমাপনী দিনের সকাল থেকে তীব্র শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করে বাংলা বিশ্ব সাহিত্যের মেলবন্ধনের এ উৎসবে হাজির হয়েছেন দর্শনার্থীরা।

প্রথম তিন দিনের মতো রবিবারও ঢাকা লিট ফেস্টে রয়েছে নানা আয়োজন। এদিন সকালে বাংলা একাডেমির লনে “বিশ্বায়নের কালে ভবিষ্যতের কবিতা” শিরোনামের একটি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। সেশনটি সঞ্চালনা করেন কবি আসাদ জুয়েল।

এই সেশনে আলোচনা করেন জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নুরুল হুদা ও পশ্চিমবঙ্গের কবি গৌতম গুহ রায়। আলোচানায় কবি ও কবিতার নানা দিক দিয়ে আলোচনা হয়।  ভবিষ্যতে কারা কবিতা পড়বেন, ভবিষ্যতের কবিতায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটির প্রভাব কতটুকু থাকবে সেই প্রসঙ্গও উঠে আসে কবিদের বক্তব্যে।

বাংলা ভাষার জন্য যারা লড়াই করছেন তাদের শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তব্য শুরু করেন কবি মুহম্মদ নুরুল হুদা। একুশে পদক ও বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত এই কবির প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা অর্ধ শতাধিক। 

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে মায়ের ভাষা বাংলা ভাষা। সব ভাষার মূলে হচ্ছে চেতনা। ভাষার কোনো বৈরিতা নেই। বাংলা আমার প্রকৃতির ভাষা। বাংলা ভাষায় আমি সতস্ফূর্ত। অনুবাদ হচ্ছে ট্রানজিট। অনুবাদের মধ্য দিয়ে  এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় রূপান্তরিত হয়।”

আলোচানায় পশ্চিমবঙ্গের কবি গৌতম গুহ রায় বলেন, “আজকের দিনে মানুষ কিন্তু একক হয়ে গেছে। অধিকাংশ ভাষা লুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। ভাষা যখন বিপন্ন, মানুষ যখন বিপন্ন তখন কবিতা কী হবে? মানুষকে জন বিচ্ছিন্ন করার যে প্রক্রিয়া সেখানে কবিতাও বিপন্ন করতে পারে?'”

বিশ্বায়নের কবিতা হবে মুক্ত কবিতা উল্লেখ করে কবি মুহম্মদ নুরুল হুদা বলেন, “বাংলাকে আমার কাছে মনে হয় পৃথিবীর শক্তিশালী ভাষা। একটা সময় বোধ হয়, ১০টি ভাষার মধ্যে বাংলা দুই-তিনের মধ্যে থাকবে। আমাদের যা কিছু লিখেছি, সব অনুবাদ করে বিশ্বের সামনে আনতে হবে। তার মানে এই নয় নিজের ভাষাকে ভুলে যেতে হবে।”

গৌতম গুহ রায় বলেন, “সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে প্রাণবন্ত থাকা। মুক্ত কবিতা মানে শেকড়হীন নয়। দিন দিন ভাষা সম্পর্ক নিবিড় হচ্ছে, এটা মননকে আরও পাশাপাশি আনবে।”

অনুষ্ঠানের শেষে কবিতা পাঠ করেন মুহম্মদ নুরুল হুদা, গৌতম গুহ রায় ও আসাদ জুয়েল।

About

Popular Links