Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পর্দা নামলো ঢাকা লিট ফেস্টের দশম আসরের

চার দিনের এই উৎসব বিভিন্ন দেশের সাহিত্যপ্রেমীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৩, ০৮:২২ পিএম

চার দিনের জমকালো আয়োজন শেষে পর্দা নামলো দেশি বিদেশি কবি, সাহিত্যিক, চিন্তাবিদ, লেখকদের মিলনমেলা ঢাকা লিট ফেস্টের।

রবিবার (৮ জানুয়ারি) বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে ঢাকা লিট ফেস্টের দশম আসরের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানের শুরুকেই ঢাকা লিট ফেস্টের আয়োজক প্রতিষ্ঠান যাত্রীকের প্রযোজনায় নায়লা আজাদের পরিচালনায় নারী অধিকার, সমতা, সংগ্রামকে প্রাধান্য দিয়ে প্রদর্শিত হয়েছে নৃত্য। পরে শুরু হয় বক্তব্য পর্ব।

সমাপনী অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক বুকারজয়ী ভারতীয় লেখক গীতাঞ্জলি শ্রী বলেন, “অসাধারণ পাঁচটি দিন (উৎসবের চারদিনসহ) কাটিয়েছি এখানে। এটি একটি চমৎকার আয়োজন। আয়োজকদের অতিথেয়তায় আমি মুগ্ধ। এটি একটি সত্যিকার অর্থে পাঠক লেখকদের সমাবেশ। একজন ভারতীয় হিসেবে বলতে চাই, এখানে আমি নিজেকে ভিনদেশি মনে করিনি। আমাদের মধ্যে অনেক কিছু আছে। দুই দেশের সীমানা কখনো আমাদের আলাদা করতে পারে না।”

ফেস্টে অন্যতম আলোচক ছিলেন সোমালিয়ান সাহিত্যিক নুরুদ্দিন ফারাহ। বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসকারী এই বিশ্বখ্যাত এই ঔপন্যাসিক সমাপনী অনুষ্ঠানে বলেন, “আমি যখন কেপটাউনে ফিরে যাবো। আমার বন্ধুরা জিজ্ঞাসা করবে এখানে কি হয়েছে, কারা এসেছে। আমি বলবো, এই উৎসব অন্যান্য উৎসব থেকে একেবারেই ভিন্ন। আমি এখানে নেমে যা ধারণা করেছিলাম তা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমাকে যখন জিজ্ঞেস করবে, কী সংখ্যক মানুষ শুনতে এসেছিল, আমি বলবো ডোনাল্ড ট্রাম্পের এনিভার্সারি থেকেও বেশি মানুষ এসেছিল (মজার ছলে বলেন)। এখানকার খাবার চমৎকার। আয়োজকদের ব্যক্তিগত বাড়িতে আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমি তাদের অতিথেয়তায় মুগ্ধ। তাদের ধন্যবাদ জানাই। এই আয়োজন থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি, আশা করি আপনারাও শিখেছেন।”

সমাপনী অনুষ্ঠানে লিট ফেস্টের টাইটেল স্পন্সর ঢাকা ট্রিবিউন ও বাংলা ট্রিবিউনের পক্ষে ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহান বলেন, “মহামারির তিন বছর স্থগিত থাকার পর শুরু হয়, এই আয়োজন শেষ হয়ে যাচ্ছে। ঢাকা লিট ফেস্ট এই শহরের একটি অংশ হয়ে গেছে। তরুণ-তরুণীদের পদচারণায় মুখর এই প্রাঙ্গণ দেখে বোঝা যায়, এই আয়োজনের সফলতা। আয়োজকরা চমৎকার একটি আয়োজন দিয়েছে এই শহরে।”

আয়োজনের প্লাটিনাম স্পন্সর সিটি ব্যাংকের সিইও মাসরুর আরেফীন বলেন, “আমি একজন সিরিয়াস ধরনের লেখক। আমি কাজী আনিস আহমেদকে নিয়ে খুব আশাবাদী। তিনি একজন ভালো লেখক। লেখা এবং লেখক নিয়ে তার লক্ষ্য স্পষ্ট। যখন বিদেশি লেখকরা আমাদের এখানে আসে তখন আমাদের লেখকদের সঙ্গে তাদের একটি আদান-প্রদান হয়। আগামীবার আমরা এই আয়োজনের বড় স্পন্সর হবো বলে আশা করি।” 

এ সময় তিনি ঢাকা লিট ফেস্ট কর্তৃপক্ষকে একটি ট্রান্সলেশন সেন্টার তৈরির আহ্বান করেন এবং তাতে সিটি ব্যাংকের অর্থায়নের নিশ্চয়তা দেন। 

ঢাকা লিট ফেস্টের পরিচালক ও প্রযোজক সাদাফ সায বলেন, “সব কিছু পাশে রেখে আমার বিশ্বাস ছিল উৎসবে। সবার অংশগ্রহণ ছাড়া এই আয়োজন সফল হতো না। আমি আপনাদের ধন্যবাদ জানাই।”

সমাপনী অনুষ্ঠানে আয়োজনের অপর দুই পরিচালক আহসান আকবার ও ড. কাজী আনিস আহমেদও উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে দিনভর নানা সেশনে পার হয়েছে শেষ দিন। সেই সঙ্গে এদিন ছিল ফিল্ম স্ক্রিনিং, আলোচনা, সংগীত পরিবেশন করা হয়। দিন শেষে দর্শকদের আন্দোলিত করে কোক স্টুডিও বাংলার কনসার্ট।

৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এবারের আসরে অংশ নেন পাঁচ মহাদেশের পাঁচ শতাধিক বক্তা। চার দিনের এই উৎসবে ১৭৫টির বেশি সেশনে অংশ নিয়েছেন তারা।

এ বছর লিট ফেস্টে অংশগ্রহণকারী মধ্যে ছিলেন নোবেল বিজয়ী সাহিত্যিক আব্দুলরাজাক গুরনাহ। এছাড়া নুরুদ্দিন ফারাহ, অমিতাভ ঘোষ, হানিফ কুরেশী, পঙ্কজ মিশ্র, টিলডা সুইন্টন, জন লি এন্ডারসন, অঞ্জলি রউফ, সারাহ চার্চওয়েল, গীতাঞ্জলি শ্রী, ডেইজি রকওয়েল, গ্রন্থার ফ্রয়েড, অ্যালেকজান্দ্রা প্রিঙ্গেল, ডাইম সারাহ গিশ্বার্ট, মারিনা মাহাথির, জয় গোস্বামী, কামাল চৌধুরী, মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, আনিসুল হক, মাসরুর আরেফিন, মারিনা তাবাসসুম, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, ইমদাদুল হক মিলন, কায়সার হক, শাহীন আখতার, অমিতাভ রেজা এবং আজমেরী হক বাঁধনসহ আরও অনেকেই অংশ নেন।

   

About

Popular Links

x