বাঙালিকে নিয়ে ইতিবাচক কথা কম। “ভেতো বাঙালি”, “অলস বাঙালি”, “বাঁচাল বাঙালি” ইত্যকার কথারই প্রচার বেশি। কিন্তু বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া এর পুরোপরি ব্যতিক্রম স্বভাবের মানুষও আছেন। অজস্র নেতিবাচকতার ভিড়ে যারা বিশ্ব মানচিত্রে উজ্জ্বল করেন জন্মভূমিকে।
প্রতিকূলতায় এ মানুষরা ভেঙে পড়েন না। তাদের জীবনের গল্প বরং প্রেরণা হয়ে ওঠে। স্ফূলিঙ্গের মতো জ্বলে উঠে সে গল্প স্বপ্ন দেখায় বহুজনকে। “জার্মানির ডায়েরি” বইয়ের লেখক আদনান সাদেক এমন বিস্ময়কর ব্যক্তিত্ব। আলোচ্য বই তার জীবন সংগ্রামের।
ভিনদেশে প্রতিষ্ঠিত ও বিরল সম্মানে ভূষিত হয়ে যিনি অনবদ্য লেখনীতে তা দ্বিধাহীন ভাবে প্রকাশ করেছেন। অনুপ্রেরণার অসংখ্য উপাদান সহজ গদ্যে প্রকাশ করায় আদনান সাদেকের প্রথম বই হলেও “জার্মানির ডায়েরি” এক “মাস্টারপিস” হয়ে উঠতে সক্ষম।
ডায়েরি মানুষের ব্যক্তিগত জীবন কথা। অনেক বিখ্যাত মানুষের ডায়েরি বিশ্বসাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ। আবার এমনও হতে পারে ডায়েরি লেখার প্রকাশভঙ্গিতে অনেকের লেখক সত্ত্বা উন্মোচিত হয়। আদনান সাদেক সমসমায়িক সাহিত্যে আলোচনায় আসতে পারেন এ কারণেও।
লেখক আদনান সাদেক “জার্মানির ডায়েরি” বইটি শুরু করেছেন তার প্রবাস জীবনের সংগ্রাম দিয়ে। অধ্যায়ের নামই “অপমান”। কিন্তু তার গ্লানি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। শুরুতে ধাক্কা খেলেও বইয়ের শেষে আমরা পাই এক সফল স্বার্থক কীর্তিমান মানুষকে। যিনি জীবনের ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।
এ বইয়ে লেখক দায়বদ্ধ ছিলেন নিজের কাছে। সৃষ্টিকর্মে কোনো ছলনা বা লুকাছুপি জায়গা পায়নি তাই। লেখক তার জীবনের গল্প বলে গেছেন। বাদ যায়নি তাতে তার শিক্ষাজীবন, প্রেমপর্ব, উদ্যোক্তা হওয়া কথা, আশৈশব খেলায় অনুরাগ, তিন কন্যা সন্তানের বাবা হওয়ার অভিজ্ঞতার মতো বিষয়গুলো।
বইটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে জার্মানির সমাজ ব্যবস্থা নিয়ে খুঁটিনাটি পর্ব বিশ্লেষণে। ঢাকা বা বাংলাদেশের জীবনের সঙ্গে ইউরোপিয় সংস্কৃতির ফারাক বুঝতে “জার্মানির ডায়েরি” বইটির পাঠ জরুরি।
বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর অনেক শিক্ষার্থী উচ্চতর শিক্ষা নিতে বিদেশে পাড়ি জমান। শিক্ষার্থী ছাড়াও বহু বাংলাদেশি কাজের জন্য ভিনদেশে যান। আগাম এ বই পাঠে তাদের প্রবাস জীবন হবে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যের। “জার্মানির ডায়েরি” বইয়ের স্রষ্টা আদনান সাদেকের সহজ গদ্যের কাছে এর জন্য ঋণী থাকতে হবে তাদের। সব মিলিয়ে এ বই বাংলাদেশি যেকোনো নাগরিককে গর্বিত করে। বাঙালির বিশ্বজয়ের যাত্রায় সাথী হোক “জার্মানির ডায়েরি”।



