Friday, October 23, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

যেসব কারণে বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হতে পারে শিশুরা

সমাজের প্রচলিত ধারণা, বিষণ্ণতা শুধু বড়দেরই হয়ে থাকে

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২৩, ০৩:৩১ পিএম

বিষণ্ণতা যেকোনো বয়সীদের জন্য বেশ ভয়াবহ একটি সমস্যা। শিশুদের ক্ষেত্রে এর পরিণতি আরও বেশি আশঙ্কাজনক। বিষণ্নতা দৈনন্দিন আবেগ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা বিষয় যা শিশুরা বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। বিষাদগ্রস্ততা মানেই বিষণ্ণতা নয়। তবে, বিষাদ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং সেটি যদি দৈনন্দিন কার্যকলাপ, পড়ালেখা বা বা পারিবারিক জীবনকে বাধাগ্রস্ত তাহলে সেটিকে বিষণ্নতা বলে ধরে নেওয়া যায়। বিষণ্ণতা একটি মানসিক স্বাস্থ্যজনিত অসুস্থতা এবং এর চিকিৎসা রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার “হেলথ ফর দ্য ওয়ার্ল্ডস অ্যাডোলেসন্টস্‌” এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দশ থেকে উনিশ বছর বয়সী ছেলে-মেয়েদের অসুস্থতার মূল কারণ মানসিক অবসাদ। 

শিশুদের এ মানসিক অবসাদের বিষয়টিকে প্রায়শই বাবা-মা গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন না। সমাজের প্রচলিত ধারণা, বিষণ্ণতা শুধু বড়দেরই হয়ে থাকে। এটি একটি ভুল ধারণা।

মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট অবলম্বনে শিশুদের বিষণ্ণতার কিছু কারণ তুলে ধরা হলো-

 সন্তানের কাছে অভিভাবকের অতিরিক্ত আশা

আমাদের সমাজের কথাই যদি ধরা যায়, তাহলে দেখা যায় পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য সন্তানকে চাপ দেওয়া হয়। লেখাপড়া, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সব জায়গায়ই প্রতিযোগিতা। কিন্তু অন্যদের সঙ্গে তুলনা করে চাপ দেওয়া হলে শিশুরা  আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। তারা হয়ে পড়ে দিশেহারা এবং অবসাদ তাদের গ্রাস করে ফেলে। এই চাপের ফলে অনেক সময় অনেক শিশু আত্মহত্যার পথও বেছে নেয়।

পরিবারের মধ্যে ভাঙন

আমাদের সমাজে অনেক পরিবারে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। এসব পরিবারের শিশুরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। বাবা-মায়ের অমিল শিশুর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার জন্ম দেয়। অভিভাবকের মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। “ম্যারিজ অ্যান্ড ফ্যামিলি” জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এসব পরিবারের সন্তানদের মধ্যে মানসিক অবসাদ এবং আত্মহত্যার প্রবণতা অনেক বেশি।

খেলাধুলা কম করা এবং ইলেক্ট্রনিক গেমের প্রতি আসক্তি

খেলাধুলা শিশুদের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। খেলাধুলা শিশুদের বেড়ে ওঠা, মেধার বিকাশ এবং শেখার আগ্রহ তৈরি করতে সাহায্য করে। তবে এমন শারীরিক চলাফেরা কমে গেলে বা বাড়ি বসে খেলাধুলার (ইলেক্ট্রনিক গেম) পরিমাণ বেড়ে গেলে তখন ধীরে ধীরে সৃষ্টি হয় অবসাদের। অ্যামেরিকান জার্নাল অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল মেডিসিন-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, যে শিশুরা দিনে ৫ ঘন্টার বেশি ভিডিও গেম খেলে তাদের মধ্যে মানসিক অবসাদ ভোগার সম্ভাবনা অনেক বেশি।বিজ্ঞানীদের মতে, দীর্ঘদিন সপ্তাহে ২০ ঘণ্টার বেশি ভিডিও গেম খেললে শিশুদের মস্তিষ্কের কোষ সঙ্কুচিত হতে শুরু করে।

অতিরিক্ত চিনি খাওয়া

ব্রিটিশ মনস্তত্ত্ববিদ ম্যালকম পিট গবেষণা করে দেখেছেন, বেশি মিষ্টি জাতীয় জিনিস বা কার্বোনেটেড পানীয় বেশি পানের অভ্যাস শিশুদের মানসিক অবসাদের সৃষ্টির জন্য দায়ী। এছাড়া চিনি বেশি খেলে মস্তিষ্কে বৃ্দ্ধি হরমোন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অ্যান্টিবায়োটিক বেশি খেলে

অ্যান্টিবায়োটিক বেশি খাওয়া অনেক কারণেই খারাপ। শিশুদের মানসিক অবসাদ সৃষ্টির পেছনেও এটি দায়ী।

পারিবারিক ইতিহাস

পরিবারের কারো বিষণ্নতার সমস্যা থাকলে পরবর্তী প্রজন্মও সেটিতে আক্রান্ত হতে পারে। তবে তা শিশুদের মধ্যে ভিন্নভাবে প্রকাশ পায়। যেমন- শিশুরা খিটখিটে হয় এমনকি শারীরিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এ সকল কারণে শিশুরা সকল বিষয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তারা  বন্ধুদের সঙ্গে খেলার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে,পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মিশতে চায় না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আশঙ্কা,২০৩০ সালের মধ্যে অন্যান্য অসুখের চেয়ে মানসিক অবসাদে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে।

তাই এ সমস্যাদের হাত থেকে শিশুদের রক্ষা করতে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। প্রয়োজনে বিশষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে হবে।

   

About

Popular Links

x