Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

তীব্র গরমে অসুস্থ হলে যা করবেন

কোনো ব্যক্তি গরমে অসুস্থ হয়ে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে কোনো শীতল জায়গায় তাকে নিয়ে যেতে হবে। তিনি যদি দ্রুতই সুস্থ হন তাহলে বুঝতে হবে এটি ঝুঁকিপূর্ণ অসুস্থতা নয়

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২৩, ০৫:১৭ পিএম

সারাদেশে বইছে তাপপ্রবাহ। বাতাসেও তীব্র গরমের অনুভূতি। অতিরিক্ত গরমে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। হুটহাট করে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকে।

তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে পড়লে কী করতে হবে তা নিয়ে পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। তারা বলছে, কোনো ব্যক্তি গরমে অসুস্থ হয়ে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে কোনো শীতল জায়গায় তাকে নিয়ে যেতে হবে। তিনি যদি দ্রুতই সুস্থ হন তাহলে বুঝতে হবে এটি ঝুঁকিপূর্ণ অসুস্থতা নয়।

যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা বলছে, আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত ঠাণ্ডা জায়গায় নিয়ে যেতে হবে। শুইয়ে দিতে হবে এবং তার পা কিছুটা ওপরে তুলে দিতে হবে। প্রচুর পানি বা পানীয় খাওয়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। পানিশূন্যতা দূর করতে পানীয় দেওয়া যেতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির ত্বক ঠাণ্ডা করার ব্যবস্থা করতে হবে। ভেজা কাপড় বা স্পঞ্জ দিয়ে শরীর মুছে দিতে হবে। আর যদি আধাঘণ্টার মধ্যে যদি সুস্থ না হয়, তাহলে আক্রান্ত ব্যক্তির হিটস্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

হিটস্ট্রোক হলে মানুষের ঘেমে যাওয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ঢাকার আইসিডিডিআরবি হাসপাতালের চিকিৎসক ড. আলিয়া নাহীদ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বাইরে তাপমাত্রা যাই হোক না কেন আমাদের শরীর স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাপমাত্রা প্রায় স্থির রাখতে সক্ষম। কিন্তু অতিরিক্ত গরমে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কাজ করা বন্ধ করে দিলে তখন তাকে হিটস্ট্রোক বলা হয়। এর ফলে ঘাম বন্ধ হয়ে গিয়ে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়তে শুরু করে।

হিটস্ট্রোকের লক্ষণ

শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যাওয়া। গরমে অচেতন হয়ে যাওয়া। মাথা ঘোরা। তীব্র মাথা ব্যথা। ঘাম কমে যাওয়া। ত্বক গরম ও শুষ্ক হয়ে যাওয়া। শারীরিক দুর্বলতা ও পেশিতে টান অনুভব করা। বমি হওয়া। হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া। শ্বাস কষ্ট। মানসিক বিভ্রম। খিঁচুনি। হিটস্ট্রোকের প্রাথমিক চিকিৎসা।

কারো হিটস্ট্রোক হলে বা অচেতন হয়ে গেলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে যে কাজগুলো করতে হবে তা হলো- হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তিকে অপেক্ষাকৃত ঠাণ্ডা বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে নিয়ে যেতে হবে। রোগীর শরীর থেকে অপ্রয়োজনীয় কাপড় খুলে ফেলতে হবে। রোগীর শরীরে বাতাস করতে হবে। কাপড় ঠাণ্ডা পানিতে ভিজিয়ে গা মুছে ফেলতে হবে। শরীরের তাপমাত্রা কমাতে বগল, ঘাড়, পিঠ ও কুচকিতে আইসপ্যাক ব্যবহার করতে হবে।

গরমে আরও যে ধরনের অসুস্থতায় আক্রান্ত হতে পারেন

পরিবেশের তাপমাত্রা বেশি বাড়লে শরীরে পানিশূন্যতা, হিট ক্রাম্প, অবসাদ ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে। গরমে ঘামের মাধ্যমে প্রচুর লবণ ও পানি হারায় আমাদের ত্বক। এই পানির ঘাটতি পূরণ না করলে পানিশূন্যতা হতে পারে। এর লক্ষণ হিসেবে মাথা ঝিমঝিম করে, ক্লান্তি লাগে, মেজাজ খারাপ হয়, প্রস্রাবের রং গাঢ় হয়ে যায়। এ রকম পরিস্থিতিতে বারবার পানি পান করতে হবে। আর শসা, লেবু-পানি, ডাব ইত্যাদি ফল বেশি বেশি খাওয়া উচিত। অ্যালকোহল, চা-কফি বরং এড়িয়ে যাওয়া ভালো। কেননা, এগুলো শরীরে পানিশূন্যতা বাড়ায়।

গরম থেকে রক্ষা পাবেন যেভাবে

গরম থেকে রক্ষা পেতে পাতলা ও হালকা রঙের পোশাক পরুন। বাড়ির বাইরে থাকার সময় সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। শরীরে পানিশূন্যতা এড়াতে অতিরিক্ত পানি ও শরবত পান করতে হবে। স্যালাইন পানিতে থাকা সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও চিনি শরীর সজীব রাখতে বিশেষভাবে কার্যকর। দীর্ঘ সময় গরমে থাকলে স্যালাইন পান করুন। গ্রীষ্মকালীন ফল দিয়ে তৈরি তাজা জুস পান করুন। মাংস এড়িয়ে বেশি করে ফল ও সবজী খান। প্রস্রাবের রঙ খেয়াল করুন। প্রস্রাবের গাঢ় রঙ পানি স্বল্পতার লক্ষণ। সব সময় ছাতা বা টুপি সাথে রাখুন। ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করতে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। চেষ্টা করুন যেন দিনে কম বাইরে যেতে হয়। ঘরে দিনের বেলাতে পর্দা টেনে দিন।

   

About

Popular Links

x