Sunday, July 12, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সন্তান গণিতে দুর্বল? যেভাবে হবে উন্নতি

  • গণিতে শিশুর দক্ষতা অর্জনের জন্য অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে
  • কোনোভাবেই চাপ দেওয়া যাবে না
আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৩, ০৬:৫৩ পিএম

গণিতকে ভয় পায় না- এমন শিশু খুঁজে পাওয়া বিরল। কোনো না কোনো কারণে অন্যান্য পাঠ্যবিষয়ের মতো গণিতকে শিশুরা অপছন্দ করে, তেমনি আগ্রহও পায় না। অভিভাবকরা গণিতকে শিশুদের পছন্দের বিষয় করে তোলার কাজটি অত্যন্ত দুরূহ বলে মনে করেন।

বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় গণিতকে সবচেয়ে কঠিন বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সূত্রের মারপ্যাঁচওয়ালা গণিত বিষয়টি শিশুদের ওপর বেশ চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই এ বিষয়ে শিশুর দক্ষতা অর্জনের জন্য অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে।

অনেক সময় সম্ভাব্য সব চেষ্টার পরেও অনেকেই নিজের শিশুসন্তানকে গণিতের প্রতি বিতৃষ্ণ করে তোলেন। আপনিও সেই অভিভাবকদের মধ্যে একজন হলে নিচের টিপসগুলো আপনার জন্যই-

গণিতকে উপভোগ্য করে তোলা

ইনকর্পোরেট গেমস, পাজল এবং অন্যান্য মজার কার্যকলাপের মাধ্যমে শিশুদের কাছে গণিতকে আনন্দদায়ক করে তুলুন। মনোপলি এবং দাবার মতো বোর্ড গেমগুলোর মাধ্যমে মজার ছলে গণিতের ধারণাগুলো অনুশীলন করতে শিশুদের সহায়তা করে।

ধাঁধা, সুডোকু পাজল বা ব্রেইন টিজারের মাধ্যমে আপনার সন্তানের সমাধান করার জন্য গণিতের চ্যালেঞ্জ বা ধাঁধা তৈরি করুন। দৈনন্দিন জীবনে কীভাবে গণিতের ব্যবহার বিভিন্ন কার্যকলাপের মাধ্যমে শিশুদের দেখান।

বেকিংয়ের উপাদান পরিমাপ, কেনাকাটার সময় ফেরত পাওয়া বাকি টাকার হিসাব বা পারিবারিক ভ্রমণের জন্য বাজেট নির্ধারণের মতো কাজে তাদের যুক্ত করুন। খেলার সময় শিশুদের জিনিসপত্র গণনা, গ্রুপ অবজেক্ট এবং প্যাটার্ন শনাক্তে উৎসাহিত করুন। ব্লক দিয়ে তৈরি করা বা লেগো দিয়ে খেলার অভ্যাস স্থানিক এবং জ্যামিতিক ধারণা শেখাতে পারে।

গল্পের ছলে শেখানো

গল্পের ছলে শেখালে অনেক কঠিন জিনিসও শিশুরা সহজে আত্মস্থ করতে পারে। তাই শিশুদের গণিত সম্পর্কিত গল্পের বই পড়তে দিন। গল্পের মাধ্যমে শিশুরা বিভিন্ন গাণিতিক ধারণার সঙ্গে পরিচিত হবে।

এক্ষেত্রে সন্তানদের মহান গণিতবিদদের আকর্ষণীয় গল্পও বলতে পারেন অভিভাবকরা। এতে শিশুদের মধ্যে গণিত নিয়ে আগ্রহ বাড়বে। কখনো কখনো মহান ব্যক্তিত্বের গল্প শিশুদের তাদের পথ অনুসরণে অনুপ্রাণিত করে।

চর্চায় উৎসাহিত করা

দক্ষতার জন্য ক্রমাগত চর্চা আর অনুশীলনের বিকল্প নেই। তাই বলে অনাগ্রহী শিশুকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গণিত চর্চায় বাধ্য করা যাবে না। তার চেয়ে অল্প সময়ের জন্য হলেও প্রতিদিন গণিতের অনুশীলন আর চর্চার জন্য একটি রুটিন তৈরি করে দিন। 

গণিতের প্রতিটি সেশনের পর শিশুদের গল্প পড়া, ছবি আঁকা বা খেলার মতো ছোট ছোট বিরতি নিতে বলুন। যেমন প্রতিদিন গণিত বিষয়ের জন্য দুই ঘণ্টা সময় দিন এবং শিশুটি আগের দিন যা শিখেছিল তার পুনর্বিবেচনার জন্য ৩০ মিনিট বরাদ্দ করুন। এভাবে নিয়মিত শেখার অভ্যাস করলে ধারাবাহিকতার মাধ্যমে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের মাঝে গণিত নিয়ে আত্মবিশ্বাস এবং দক্ষতা তৈরি হবে।

সাফল্য উদযাপন

সন্তান গণিতে দক্ষতা অর্জন করলে তাকে বাহ্‌বা দিন। যত ছোটই হোক না কেন, সন্তানের যেকোনো সাফল্য উদযাপনের মাধ্যমে তাকে সাহস যোগান। সন্তান যদি গণিত বুঝতে সময় নেয়, তাহলে একদমই হতাশ হবেন না। বরং ভুলগুলোকে শেখার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মনে করে ধৈর্য নিয়ে সন্তানকে উৎসাহ দিন।

   

About

Popular Links

x