সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে এয়ার কন্ডিশনার বা এসির ব্যবহার যেমন বাড়ছে, তেমনি এসি বিস্ফোরণের ঘটনার কথাও শোনা যাচ্ছে প্রায়ই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত এসির ভালো যত্ন নিলে ব্যবহারকারীরা বিস্ফোরণ থেকে রক্ষা পেতে পারেন। আসুন দেখে নেওয়া যাক কী কী কারণে এসি বিস্ফোরিত হতে পারে।
ময়লা কয়েল
কনডেনসার কয়েলে ময়লা জমলে এয়ার কন্ডিশনারটি সিস্টেম থেকে পর্যাপ্ত তাপ বের করে দিতে পারে না এবং স্থান শীতলীকরণের জন্য এটি ক্রমাগত চালাতে বাধ্য হয়। বর্ধিত চাপ এবং তাপমাত্রায় কম্প্রেসর অত্যধিক গরম হয়ে বিস্ফোরিত হতে পারে।
ক্ষতিগ্রস্ত রেফ্রিজারেন্ট লাইন
এসি’র রেফ্রিজারেন্ট লাইনগুলো অবরুদ্ধ বা হলে লক্ষ্য করা যায় যে ইউনিটটি কার্যকরভাবে ঠান্ডা করতে পারছে না। সমস্যাটি ঠিক করা না হলে এর ফলেও বর্ধিত চাপ এবং তাপমাত্রায় কম্প্রেসর অত্যধিক গরম হয়ে বিকল বা বিস্ফোরিত হতে পারে।
পাইপে ছিদ্র
এসির ভেতরের পাইপের কোথাও ছিদ্র বা ব্লকেজ হলে এসির ভেতরে হাই প্রেসার তৈরি হয়ে কম্প্রেসর বিস্ফোরিত হতে হতে পারে।
সক্ষমতার চেয়ে বেশি রেফ্রিজারেন্ট
কম্প্রেসরের সক্ষমতার চেয়ে বেশি রেফ্রিজারেন্ট চার্জ করলে হাই প্রেসার তৈরি হয়ে। এর ফলেও ঘটতে পারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ।
বৈদ্যুতিক সমস্যা
বৈদ্যুতিক সমস্যার কারণে অ্যাসিড তৈরি হতে পারে যা কমপ্রেসর ছাড়াও এসির অন্যান্য অংশেরও বেশি ক্ষতি করে। কারও এসির কমপ্রেসর বিকল হয়ে গেলে তার উচিত এই এসিডের উপস্থিতি টেকনিশিয়ান দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া।
পাওয়ার ক্যাবল
ভালো মানের এবং সঠিক স্পেকের পাওয়ার ক্যাবল ব্যবহার না করলে উচ্চ চাপে যেকোনো সময়ই এসি বিস্ফোরিত হতে পারে।
এছাড়া নিম্নমানের অখ্যাত কিংবা নকল ব্র্যান্ডের এসি বা ব্যবহার করা, সঠিক রেটিংয়ের সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার না করা, রুমের আকার অনুযায়ী সঠিক ক্ষমতার এসি ব্যবহার না করাসহ বিভিন্ন কারণে এসি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে।
যেভাবে দুর্ঘটনা এড়ানো যেতে পারে
অন্য যেকোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্রের মতো এসিরও বিশেষ যত্ন নেওয়ার দরকার। প্রতিমাসে ফিল্টার পরিষ্কার রাখা, বছরে অন্তত দুবার পুরো যন্ত্রটির সার্ভিসিং করানো, আউটডোর ইউনিট পরিষ্কার রাখতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসি দুর্ঘটনা এড়াতে কয়েকটি বিষয়ের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এগুলো হলো-
- পেশাদারদের মাধ্যমে নিয়মিত সার্ভিসিং করানো
- রুমের আকার অনুযায়ী সঠিক মাত্রার এসি নির্ধারণ
- নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ডের এসি কেনা
- দীর্ঘসময় একটানা এসি না চালিয়ে মাঝে মাঝে বিরতি দেওয়া
- বৈদ্যুতিক সংযোগ, সকেট, ফিল্টার নিয়মিতভাবে পরীক্ষা করা
- হাই ভোল্টেজ এড়াতে বাড়িতে সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার করা
- বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় এসির ব্যবহার বন্ধ রাখা। এছাড়া বাড়ির ছাড়ে বজ্রনিরোধক ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে
- একনাগাড়ে আট ঘণ্টার বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়। এছাড়া আউটডোর মেশিন এমন স্থানে বসাতে হবে, যেন পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করতে পারে।



