দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে খরচের সব খাতেই লাগাম টানতে হচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে রান্না ঘরে। আর এই রান্না ঘরের সবচেয়ে অপরিহার্য উপাদান হলো গ্যাস। কিছু কিছু ক্ষেত্রে লাইনের গ্যাসে মাসে বিল নির্ধারিত হলেও প্রি-পেইড সিস্টেম এবং সিলিন্ডারের গ্যাসে এই খাতে মাসিক খরচ নির্ভর করে ব্যবহারের ওপর। আপনি যতবেশি গ্যাস ব্যবহার করবে, সিলিন্ডার ততো তাড়াতাড়ি খালি হবে। আর সেই খরচের প্রভাব পড়বে মাসের মোট হিসেবে। প্রি-পেইড মিটারের ক্ষেত্রেই একই অবস্থা। যত বেশি গ্যাস পুড়বে, ততো বেশি খরচ হবে।
তবে কিছু কৌশল মেনে চললে কিন্তু গ্যাসের অপচয় কমানো যায়। যার ফলে কমবে এই খাতের খরচও। চলুন, জেনে নেওয়া যাক সে সম্পর্কে-
অতিরিক্ত আঁচে রান্না করতে গেলে আগুন পাত্রের তল ছাড়িয়ে আশপাশে দিয়ে বের হয়ে যায়। ফলে অনেক বেশি গ্যাসের অপচয় হয়। তাই গ্যাসের আঁচ মাঝারি রাখুন। এতে সাশ্রয় হবে গ্যাস।
রান্নার গ্যাসের আগুনের রং নীল হওয়াই বাঞ্চনীয়। লাল, হলুদ কিংবা কমলা রঙের আগুন দেখলে বুঝবেন গ্যাসের দহন যথাযথ ভাবে হচ্ছে না। বার্নার অপরিষ্কার থাকলে এমনটা হতে পারে। এজন্য বার্নার নিয়মিত পরিষ্কার করুন। ঈষদুষ্ণ গরম পানিতে ন্যাকড়া ভিজিয়ে ঘষতে পারেন বার্নার। তাতেও সমস্যা দূর না হলে ডাকতে পারেন মেকানিক।
হাঁড়ি-কড়াইয়ের তলায় কালি থাকলে তাপের অপচয় হয়, গ্যাসও বেশি খরচ হয়। তাই রান্নার পাত্রের তলা পরিচ্ছন্ন রাখুন। পাশাপাশি, চুলায় শুকনো পাত্র বসানোর চেষ্টা করুন। পাত্রে পানি লেগে থাকলেও গ্যাস অপচয় হয়।
যেকোনো পাত্রের ক্ষেত্রেই ঢাকা দিয়ে রান্না করলে অনেকটা গ্যাস বাঁচে। চেষ্টা করুন পাত্র ঢাকা দিয়ে রান্না করতে। পাশাপাশি, সাধারণ বাসনের পরিবর্তে যত বেশি সম্ভব প্রেশার কুকার ব্যবহার করুন। গ্যাস সাশ্রয় করতে প্রেশার কুকারের থেকে ভালো বিকল্প নেই। পাশাপাশি, রান্নায় কতটুকু পানি দেবেন, তা-ও মেপে রাখার চেষ্টা করুন আগে থেকে। তরকারিতে পানি প্রয়োজনের তুলনায় বেশি দিলে তার জন্য অতিরিক্ত গ্যাস পোড়াতে হয়।



