রান্নার অন্যতম প্রধান মসলা পেঁয়াজ । বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলোতে রান্নায় প্রচুর পরিমাণে পেঁয়াজ ব্যবহার করা হয়। সম্প্রতি বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় রান্নায় পেঁয়াজের ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছেন অনেকেই। কেউ কেউ তো ফেসবুকে ইভন্টে খুলে আগামী কয়েক দিন পেঁয়াজ খাওয়া বন্ধ রাখতে বলছেন, যাতে করে দাম কমে আসে।
পেঁয়াজ রান্নার অন্যতম উপকরণ হলেও অপরিহার্য নয় কিন্তু। পেঁয়াজ ছাড়াও রান্না করা যায় সুস্বাদু তরকারি। চলুন জেনে নেওয়া যাক পেঁয়াজের বিকল্প হিসেবে যা ব্যবহার করতে পারেন, সে সম্পর্কে-
রসুন ফোড়ন: রান্নায় পেঁয়াজ ব্যবহার না করে মরিচ, রসুন ও পাঁচফোড়ন ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষ করে পেঁয়াজ দিয়ে রান্না করা মসুরির ডাল, বড়া, ফুলকপির স্বাদ পেঁয়াজ ছাড়াও নিতে পারেন এ পদ্ধতিতে। এটা খাবারের স্বাদ যেমন বাড়িয়ে দেবে তেমনি দারুণ ঘ্রাণও ছড়াবে।
কাঁচা পেঁপে: পেঁয়াজের বিকল্প হিসেবে কাঁচা পেঁপে বেশ দারুণ কার্যকরী। অনেক দোকানেই আজকাল চপ, সিঙারা ও মোগলাইয়ের সঙ্গে সালাদ হিসেবে কাঁচা পেঁপের কুচি দেওয়া হয়। এছাড়া তরকারির ঝোল ঘন করার জন্য কাঁচা পেঁপে সেদ্ধ করে সেটা পিষে মসলা কষানোর সময় দেওয়া যেতে পারে। এটি যকৃতের স্বাস্থ্য ও পেটের সমস্যার জন্য খুবই উপকারী। এছাড়া যারা হৃদরোগে ভুগছেন, তাদের জন্যও উপকারী।
টমেটোর রস: টমেটো ভাপ দিয়ে খোসা ছাড়িয়ে পেস্ট করে রান্নার সময় পেঁয়াজের পরিবর্তে ব্যবহার করলে রান্না করা খাবার সুস্বাদু হয়। মাছ, মাংস, এমনকি সবজিও টমেটো পেস্ট দিয়ে রান্না করলে তরকারির রং খুব সুন্দর হয়। টমেটোর উপকারিতা পেঁয়াজের থেকে অনেক গুণ বেশি, এটা তো সবারই জানা।
ক্যাপসিকাম: পেঁয়াজের বদলে বেল পেপার কিংবা ক্যাপসিকাম ব্যবহার করতে পারেন। ক্যাপসিকাম খাবারের স্বাদ বাড়াবে। ভাজি, মাছ বা মাংসের ঝোলে ক্যাপসিকামের ঝাঁঝালো স্বাদ ও গন্ধ বেশ লাগবে।
পেঁয়াজ কলি: পেঁয়াজ না দিয়েও রান্নায় পেঁয়াজের স্বাদ পেতে চাইলে স্প্রিং অনিয়ন অথবা পেঁয়াজকলি ব্যবহার করুন। পেঁয়াজের মতই স্বাদ পাবেন।
চিভ: পেঁয়াজের ভালো বিকল্প হতে পারে চিভ। এর স্বাদ অনেকটা পেঁয়াজের মতো। চিভ দেখতে অনেকটা কাঁচা পেঁয়াজের মতো। তবে এটিতে পেঁয়াজের মতো গুটি বা দানা হয় না। চিভ শুধু পাতাজাতীয় ফসল। এর পাতা লিনিয়ার আকৃতির, সমান, কিনারা মসৃণ, বাল্ব লম্বাটে। মাটির ওপরের অংশই খাওয়া যায়। এর পাতা, কাণ্ড ও ফুল মসলা হিসেবে ব্যবহার করা যায়। চিভ হজমে সাহায্য করে এবং বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এতে ক্যান্সার প্রতিরোধী গুণাগুণ রয়েছে। আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ভিটামিন বি-১, ভিটামিন বি-২, নায়াসিন, ক্যারোটিন ও খনিজ উপাদান। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) চাষযোগ্য উচ্চ ফলনশীল জাত বারি চিভ-১ আবিষ্কার করেছে।



