জেন জি’দের ব্যস্ততার শেষ নেই। প্রতিদিন নতুন কিছু না কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চলেছে তারা। বিভিন্ন বিষয়ে শেখার আগ্রহও প্রবল তাদের। এর পিছনে সময় ব্যয় করতেও কার্পণ্য করে না তারা। কিন্তু এই অতিরিক্ত জানার ইচ্ছা তাদের মানসিক চাপ বাড়ায়। এই অক্লান্ত পরিশ্রম তাদের স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবন, সর্বত্র ছাপ ফেলতে শুরু করে। প্রভাব পড়ে কর্মজীবনেও। আর এই পরিস্থিতি সামলাতে প্রয়োজন “পেন্ডুলাম লাইফস্টাইল”। এমন পরামর্শই দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
পেন্ডুলাম লাইফস্টাইল কী?
ভারতের আদিত্য বিড়লা এডুকেশন ট্রাস্টের সিনিয়র মানসিক বিশেষজ্ঞ রিমা ভান্ডেকর বলেন, “পেন্ডুলাম লাইফস্টাইল হলো এমন একরকম জীবনযাপন যেখানে একদিকে থাকবে কাজ, ব্যস্ততা, পরিশ্রম। অন্যদিকে থাকবে নিজেকে নিয়ে ভাবার সময়। থাকবে উদ্বেগমুক্ত জীবন। অর্থাৎ প্রতিদিনের জীবনে কাজ যেমন থাকবে তেমনই থাকবে পর্যাপ্ত বিশ্রামও। অনেকটা পেন্ডুলামের মতো। পেন্ডুলাম যেমন ধারাবাহিক ভাবে ভারসাম্য বজায় রেখে সামনে এবং পিছনে দুলতে থাকে, এটিও তেমনই।”
তিনি আরও বলেন, “কাজের মতো বিশ্রামেরও সমান গুরুত্ব রয়েছে। তাই কাজের বাইরে ব্যক্তিগত ইচ্ছা, ভালোবাসা, ভালোলাগার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। যেমন নিজের প্রতি যত্নবান হওয়া, ব্যায়াম করা, নানারকম শখপূরণ করা, প্রিয়জনের সঙ্গে বিশেষ মুহূর্ত কাটানো ইত্যাদি। এর ফলে শারীরিক এবং মানসিকভাবে সুস্থ থাকা সম্ভব।”
অনেক সময় কাজে অতিরিক্ত মনসংযোগ শারীরিক ও মানসিক অস্থিরতার কারণ হয়ে ওঠে। পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগও তৈরি করে। যা স্বাস্থ্যের উপর গভীর প্রভাব ফেলে। পেন্ডুলাম লাইফস্টাইল মেনে চললে এই চাপ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। সম্ভব কর্মজীবন এবং ব্যক্তিগত জীবনে সামঞ্জস্য রেখে চলাও। তবে পরিস্থিতি যদি কঠিন হয়ে ওঠে, সেক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই ভালো। তিনি আপনার সমস্যাগুলি চিহ্নিত করে সমাধানের পথ দেখিয়ে দেবেন।



