বাংলাদেশে সবচেয়ে কম বয়সে “বোয়িং ৭৭৭–৩০০ইআর” উড়োজাহাজের ক্যাপ্টেন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন শারহান আলী। মাত্র ৩৮ বছর বয়সেই তিনি জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এই প্রশিক্ষিত ও মর্যাদাপূর্ণ পদের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
সোমবার (২৬ মে) জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক এ.বি.এম রওশন কবীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এ তথ্য জানান।
বিমান সূত্রে জানা গেছে, শারহান আলী বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতে তৃতীয় প্রজন্মের একজন পাইলট। তার দাদা ক্যাপ্টেন সিকান্দার আলী ছিলেন পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের পাইলট এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহিদ হন। পিতা ক্যাপ্টেন শোয়েব আলী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে চার দশকের বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই পারিবারিক ঐতিহ্যেই নিজেকে যুক্ত করলেন ক্যাপ্টেন শারহান।

১৯৮৬ সালের ২৯ জুলাই জন্ম নেওয়া শারহান আলীর পাইলট হওয়ার যাত্রা শুরু হয় বাংলাদেশ ফ্লাইং ক্লাব থেকে। তিনি সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশের (ক্যাব) অধীনে বাণিজ্যিক পাইলট লাইসেন্স (সিপিএল) এবং এয়ারলাইন পরিবহন পাইলট লাইসেন্স (এটিপিএল) অর্জন করেন।
২০০৮ সালে তিনি একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সে ক্যারিয়ার শুরু করেন এবং ২০১০ সালে মাত্র ২৪ বছর বয়সে যোগ দেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে। এরপর তাকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি। ৩৪ বছর বয়সে তিনি ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি পান এবং ৩৮ বছর বয়সে “বোয়িং ৭৭৭–৩০০ইআর”-এর অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেন।
এ পর্যন্ত শারহানের ঝুলিতে রয়েছে ৯,৩০০ ঘণ্টার বেশি ফ্লাইট অভিজ্ঞতা। তিনি “ড্যাশ-৮”, “ফকার-২৮”, “এয়ারবাস-৩১০”, “বোয়িং ৭৩৭ ও ৭৭৭” মডেলের উড়োজাহাজ পরিচালনায় দক্ষতা অর্জন করেছেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে অংশ নিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে ভিভিআইপি ফ্লাইট পরিচালনা, টানা ১২ ঘণ্টার ফেরি ফ্লাইট এবং ঘূর্ণিঝড় “সিত্রাং” ও “রেমাল”-এর সময় সাহসিকতার সঙ্গে উড়োজাহাজ পরিচালনা।
বিমানের এক মুখপাত্র বলেন, “শারহান আলীর অর্জন শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং এটি জাতীয়ভাবে গর্বের। তিনি তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।”
এভিয়েশন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শারহানের এই অর্জন প্রমাণ করে দিয়েছে- আকাশ আর সীমা নয়, বরং নতুন যাত্রার শুরু।



