বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।
বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে ওয়াকআউটের ঘোষণা দিয়ে বিরোধী সদস্যদের নিয়ে সংসদ কক্ষ থেকে বের হয়ে যান বিরোধীদলীয় নেতা।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা নিয়ে সংসদে মঙ্গলবার দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হলেও বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়ায় এবং এ ব্যাপারে কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় ওয়াকআউট করে বিরোধী দল।
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম তাদের ওয়াকআউট না করে সংসদে উত্থাপিত আরেকটি নোটিশের আলোচনায় অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানালেও তাতে সাড়া দেননি বিরোধীদলীয় নেতা।
সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দেওয়া বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, “সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান যেহেতু এটা জন-আকাঙ্ক্ষার বিষয়, গণভোটের বিষয়, প্রায় ৭০ ভাগ মানুষের রায়ের বিষয়, তাই প্রত্যাশা করেছিলাম, স্পিকারের মাধ্যমে প্রতিকার পাবেন। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত হলো কি না, তা বুঝতে পারিনি।”
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “প্রস্তাবটি ছিল একটি মূলতবি প্রস্তাব। এটি আমার অনুপস্থিতিতে হয়েছিল। দেশের ৫৩ বছরের সংসদীয় ইতিহাসে মাত্র তিনটি মুলতবি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল। আলোচনার জন্য ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে বিরোধী দলের মুলতবি প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়েছিল।”
স্পিকার বলেন, “যে সমস্যার সমাধান আইন প্রণয়নের মাধ্যমেই কেবল করা যায়, সেটি নিয়ে মুলতবি প্রস্তাব হতে পারে না। তারপরও কথা বলতে চাইলে সেটা বিবেচনা করা হবে। এ বিষয়ে বিরোধী দলের আরও বক্তব্য থাকলে সে সুযোগ দেওয়া হবে।”
শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা প্রতিকার চেয়েছি। বিষয়টি কোনো দলের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচনের আগে সরকারি দল, বিরোধী দল—সবাই একমত হয়েছে, সপক্ষে কথাও বলেছে।”
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, “আমরা প্রতিকার যে পেলাম না, এটা আমরা না, এটা দেশবাসী। তাদের রায়ের প্রতিফলন হলো না, মূল্যায়ন হলো না, আমরা বিরোধী দলে বসে এই অবমূল্যায়ন আমরা মেনে নিতে পারি না। এ জন্য তার প্রতিবাদে আমরা ওয়াকআউট করছি।”
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা, আপনি আমার বক্তব্য তো সম্পূর্ণ করতে দিলেন না। আমি আপনার পুরো বক্তব্য শুনেছি। ওয়াকআউট করা আপনাদের অধিকার। কিন্তু আমি বলতে চাই, আজকে একটু পরে আরেকটি মুলতবি প্রস্তাব বিবেচিত হবে। সেখানে আমার মনে হয় যে আপনি আপনাদের প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন এবং সেখানে মন খুলে আপনারা আরও কথা বলতে পারবেন।”
জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ওই নোটিশও তাদের নজরে এসেছে। তিনি মনে করেন, মূল নোটিশটা (বিরোধী দলেরটা) চাপা দেওয়ার জন্য ওই নোটিশ সামনে আনা হয়েছে। এ জন্য দুইটার প্রতিবাদেই তারা সংসদ থেকে আপাতত ওয়াকআউট করছেন।
তখন স্পিকার বলেন, “নোটিশই তো উত্থাপন হয় নাই। আপনি কী করে বুঝলেন, কোনটা চাপা দেওয়ার জন্য এটা করা হচ্ছে। আমি অনুরোধ করছি, একটু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেন। নোটিশের বিষয়বস্তু শুনুন।”
উত্তরে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “মাননীয় স্পিকার, আপনার অনুপস্থিতিতে এই হাউসে সংশ্লিষ্ট সদস্য নোটিশটি পাঠ করেছেন এবং আমরা তা শুনেছি। আমরা জেনেশুনেই বলছি যে, মূল বিষয়টিকে পাশ কাটানোর এই প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে আমরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করছি।”
জবাবে স্পিকার বলেন, “সংসদীয় রীতি অনুযায়ী ওয়াকআউট করা আপনাদের অধিকার, আপনারা চাইলে তা করতে পারেন।”
এরপর এক যোগে বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদ ত্যাগ করেন।
এর আগে, মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সংবিধান সংস্কারে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান করা নিয়ে একটি মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। সরকারি দল সংবিধান সংশোধনে একটি সর্বদলীয় বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেয়। তবে এতে একমত হয়নি বিরোধী দল। তারা জানায়, সংবিধান সংস্কার পরিষদকে কেন্দ্র করে কোনো কমিটি হলে বিরোধী দল সেটা ভেবে দেখবে।



