রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। দেয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে শিক্ষার্থীদের এক অংশের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে সোমবার ক্লাস বর্জন করেছেন ২০ সিরিজের (২০২০ সালে এসএসসি উত্তীর্ণ) শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাংশ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনের সড়কে “সাধারণ শিক্ষার্থী” ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি তুলে ধরেন।
তাদের দাবিগুলো হলো - ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি চালুর লক্ষ্যে যারা অরাজকতা সৃষ্টি করছে, তাদের অবিলম্বে বহিষ্কার করতে হবে। ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট রুয়েটে জারি করা প্রজ্ঞাপনে সব ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের পক্ষে প্রশাসনের সুস্পষ্ট অবস্থান ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে রুয়েটে ছাত্ররাজনীতি থাকবে কিনা, তা নির্ধারণে নির্বাচনকালীন কমিটি গঠন করে ১৫ দিনের মধ্যে ভোট গ্রহণের দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ হলেও দু-একটি রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠন সক্রিয় হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছি।”
তিনি আরও বলেন, “ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলে আইন অনুযায়ী কেউ এটা করতে পারে না। তারপরও এটি হচ্ছে বলে আমরা লক্ষ্য করেছি। কী করা যায়, সেটা নিয়ে আমরা ভাবছি। দুপুরে শিক্ষার্থীরা কিছু দাবি জানিয়েছে। সেগুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে।”
এর আগে রবিবার (২৬ এপ্রিল) গভীর রাতে বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে জিয়া হলের সামনে ছাত্রদলপন্থি শিক্ষার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান সৃষ্টি হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট থেকে রুয়েটে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সবধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। তবে এরপরও বিভিন্ন সময়ে গোপন ও প্রকাশ্য রাজনৈতিক তৎপরতার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৩ এপ্রিল। চট্টগ্রাম সিটি কলেজে শিবির-ছাত্রদল সংঘর্ষের ঘটনায় রুয়েট ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে “গুপ্ত রাজনীতি”র বিরুদ্ধে দেয়াল লিখন করা হয়। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ গুপ্ত রাজনীতির পাশাপাশি প্রকাশ্য ছাত্ররাজনীতির বিরুদ্ধেও দেয়াল লিখন করেন এবং কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে একটি ব্যানার টাঙান।
অভিযোগ ওঠে, ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত কিছু শিক্ষার্থী ওই ব্যানার খুলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন। একইসঙ্গে “রুয়েটে জাতীয়তাবাদী স্পন্দন” নামে একটি ফেসবুক পেজে বিষয়টি প্রচার করা হলে শিক্ষার্থীদের একটি অংশের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
এ অবস্থায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এর প্রতিবাদে রবিবার দিনগত রাতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গভীর রাতে শুরু হওয়া মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ও আবাসিক এলাকা প্রদক্ষিণ করে জিয়া হলের সামনে পৌঁছলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় “ছাত্ররাজনীতির ঠিকানা এই রুয়েটে হবে না”সহ বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয় ক্যাম্পাস।
অন্যদিকে, জিয়া হলের সামনে অবস্থান নেওয়া প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন ছাত্রদলপন্থি শিক্ষার্থী দলটির পক্ষে স্লোগান দিতে থাকেন। এতে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি স্লোগানে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। রুয়েট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।



