Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিয়ে সংসদে বিল পাস

গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতা আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা পাবেন

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনকারীদের দায়মুক্তির বিধান রেখে “জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬” বিল সংসদে পাস হয়েছে। এর ফলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতা আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা পাবেন।

বুধবার (৭ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের একাদশ দিনে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা অধ্যদেশের এই বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

এই আইন পাসের ফলে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল ধরনের দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা এবং আইনি কার্যধারা স্থায়ীভাবে প্রত্যাহারের পথ প্রশস্ত হলো। পাস হওয়া বিলের বিধান অনুযায়ী, নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট সকল অভিযোগ অবিলম্বে বাতিল করা হবে।

শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে এই অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো মামলা দায়ের বা কোনো প্রকার আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে তা আইনত বাধা বা বারিত হিসেবে গণ্য হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজপথের বিপ্লবীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলো।

এ বিলে বলা হয়েছে ২০২৬ সালের ২৫ জানুয়ারি কার্যকর হয়েছে বলিয়া গণ্য হবে এবং ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে বলবৎ হয়েছে বলে গণ্য হবে।

বিলের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, “গণঅভ্যুত্থানকারী” অর্থ ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার সম্মিলিত আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সংঘটিত অভ্যুত্থানের পক্ষে অংশগ্রহণকারী যেকোনো ব্যক্তি। আইনের বিশেষ তফসিলে “রাজনৈতিক প্রতিরোধ” বলতে ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে পরিচালিত সকল কার্যাবলিকে বোঝানো হয়েছে। তবে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে “বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার” হিসেবে চিহ্নিত করে তা এই সুরক্ষার আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ থাকলে তা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করা যাবে এবং কমিশন ওই অভিযোগ তদন্তের ব্যবস্থা নেবে।

সংসদে পাস হওয়া এই আইনের অন্যতম শক্তিশালী দিক হলো এর শ্রেষ্ঠত্ব বা ওভাররাইডিং ক্ষমতা। বিলে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমানে বলবৎ অন্য কোনো আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলিই প্রাধান্য পাবে। এর ফলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অতীতে দায়েরকৃত সকল দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা আইনি কার্যধারা নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হবে।

একইসঙ্গে আইনের ৫ নম্বর ধারার বিধান সাপেক্ষে, অভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট কোনো ঘটনার জন্য অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে নতুন কোনো মামলা বা অভিযোগ দায়ের করা আইনত নিষিদ্ধ বা বারিত করা হয়েছে। এই আইনি রক্ষাকবচ মূলত বিপ্লবীদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে আজীবনের জন্য মুক্তি প্রদান করল।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে অত্যন্ত জোরালোভাবে বলা হয়েছে যে, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে সর্বাত্মক সংগ্রাম করেছে, তা রাষ্ট্রীয়ভাবে “জুলাই গণঅভ্যুত্থান” হিসেবে স্বীকৃত। ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্দেশে পরিচালিত নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র আক্রমণ প্রতিরোধের সময় আত্মরক্ষা এবং জনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের স্বার্থে আন্দোলনকারীরা যে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তাকে সাংবিধানিক বৈধতা দেওয়া হয়েছে।

   

About

Popular Links

x