জাতীয় পার্টি নির্বাচন করার জন্য এসেছে, নির্বাচন থেকে চলে যাওয়ার জন্য আসেনি বলে জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু।
মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
চুন্নু বলেন, “আমি একটা কথা স্পষ্ট করে বলতে পারি জাতীয় পার্টি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এসেছে। জাতীয় পার্টি এখানে ছাড়তে আসেনি।”
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যা বলেছেন, সেই বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।”
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন কমিশন ও সরকার ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরির পরিবেশ নিশ্চিত করলে নির্বাচন ছাড়ার কোনো কারণ নেই।”
সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাপা নির্বাচনী দৌড়ে থাকবে কিনা তা নিশ্চিত নন প্রধানমন্ত্রী এমন বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার মধ্যেই এই মন্তব্যটি করলেন চুন্নু।
এদিকে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ।
রওশনের ছেলে সাদ এরশাদ ও তার মুখপাত্র কাজী মামুনুর রশীদ তার সঙ্গে ছিলেন।
বৈঠক প্রসঙ্গে চুন্নু বলেন, “রওশন এরশাদ এখনো বিরোধী দলীয় নেতা। যে কোনো সময় সংসদ নেতার সঙ্গে দেখা করতে পারেন। তিনি গণভবনে যেতে পারেন। এটি খুব সাধারণ।”
চুন্নু বলেন, “তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারলে জাপা সমর্থকরা খুশি হবেন। এতে জাপার ভাবমূর্তি উন্নত হতে পারে। আমরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহের শেষ দিন রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি।”
আগামী মাসের জাতীয় নির্বাচনে আসন ভাগাভাগি নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় পার্টির এখনও দরকষাকষি চলছে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জাপা নেতা রওশন বলেন, “বর্তমান নির্বাচনী বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।”
জাপা মহাসচিব বলেন, “এবারের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতার স্ত্রী, ছেলে ও দুইবারের মহাসচিব নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি। তাহলে তারা কার সঙ্গে নির্বাচনে লড়ছেন? আমরা জাতীয় পার্টির সঙ্গে নেই। আমরা তাদের সঙ্গে নির্বাচনে যোগ দেব না।”
তিনি আরও বলেন, “দলের প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়ন না দিয়ে অপমান করা হয়েছে। আমরা অনুরোধ করেছি জিএম কাদেরের জাতীয় পার্টির সঙ্গে যেন কোনো জোট না হয়।”
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে রাঙ্গা বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন তিনি বিষয়টি দেখবেন।”
রওশন এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাপার মুখপাত্র কাজী মামুনুর রশীদ জিএম কাদের অবৈধভাবে জাতীয় পার্টির দখল নেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “জাতীয় পার্টির সঙ্গে সমঝোতার কোনো কথা থাকলে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। আমরা জিএম কাদেরকে সমর্থন করি না।”



