প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। টানা চারবার ক্ষমতায় আসার পরও ছাত্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করতে হয় তাকে।
সোমবার (৫ আগস্ট) দেশ ছাড়ার পর প্রথমে ভারতে যান শেখ হাসিনা। সেখান থেকে তার গন্তব্য কোথায় সেটি এখনও জানা যায়নি।
এদিকে শেখ হাসিনার পদত্যাগের দ্রুতই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করার কথা জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
অন্যদিকে, বৈষ্যমবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা তাদের মতো করে অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের রুপরেখা তুলে ধরেছেন। যেখানে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করার দাবি জানিয়েছেন সমন্বয়করা।
এদিকে সদ্য পদত্যাগ করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়তে রাজি ছিলেন না বলে জানিয়েছেন তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। সোমবার দিবাগত রাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির সঙ্গে এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে এমনটা দাবি করেন তিনি।
সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশ ত্যাগ করলেন। তিনি কি দেশেই থাকতে পারতেন, তার নেতাকর্মীদের সঙ্গে থাকতে পারতেন— এমন প্রশ্নের জবাবে সজীব ওয়াজেদ জয় এনডিটিভি বলেন, “তিনি থাকতে চেয়েছিলেন, মোটেও দেশ ছেড়ে যেতে চাননি। কিন্তু আমরা জোর করেছিলাম যে, এটি তার জন্য নিরাপদ নয়। আমরা প্রথমত তার শারীরিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বিগ্ন ছিলাম; তাই আমরা তাকে চলে যেতে রাজি করাই।”
সাক্ষাৎকারগ্রহণকারী জয়কে প্রশ্ন করেন, “আপনি জানেন, আপনার মা এখন নয়া দিল্লিতে। আপনি তার সঙ্গে কথা বলতে পেরেছেন কিংবা আসলে পরিস্থিতিটা এখন কেমন?”
জবাবে জয় বলেন, “আমি তার সঙ্গে কথা বলেছি। আপনি দেখতে পাচ্ছেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতি অরাজক। তিনি ভালো আছেন, কিন্তু খুবই হতাশ। এটা তার জন্য খুবই হতাশাজনক। কারণ বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশে পরিণত করা স্বপ্ন ছিল তার। তিনি গত ১৫ বছর ধরে এ জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছেন। জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ থেকে বাংলাদেশকে নিরাপদ রাখতে তিনি কাজ করেছেন। এত কিছুর পরও এই কিছু লোক, বিরোধী দল ও জঙ্গিরা এখন ক্ষমতা দখল করেছে।”
শেখ হাসিনা এখন কোথায় যাবেন, এ বিষয়ে তার সঙ্গে তিনি আলোচনা করেননি বলে এনডিটিভিকে জানান জয়।
যে পরিস্থিতিতে তিনি দেশ ছেড়ে গেছেন, এরপর দেশে বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর করা হয়েছে। এমনকি বিভিন্ন স্থানে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যও ভাঙা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে জয় বলেন, “এটি হতাশার, ক্ষোভের! আমার নানা (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) দেশ স্বাধীন করেছিলেন এবং তারা তাকে এবং আমার পুরো পরিবারকে হত্যা করেছিল। এখন সেই একই শক্তি, এই সংখ্যালঘু; যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারা এই সুযোগটি ব্যবহার করছে মূলত স্বাধীনতার জন্য আমাদের কঠোর সংগ্রামকে অস্বীকার এবং ধ্বংস করার জন্য। এটা খুবই হতাশাজনক যে, বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ চুপ করে আছে।”
মঙ্গলবার সকালে কারফিউ শেষ হওয়া ও স্কুল-কলেজ-অফিস খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তে আপনি কি মনে করেন, সব স্বাভাবিক হতে যাচ্ছে? এমন প্রশ্নে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, “আমার সন্দেহ আছে যে, সেনাবাহিনী এত দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পারবে। কারণ এই মুহূর্তে যা ঘটছে, তাহলো বিরোধী এবং জঙ্গিরা, তারা শুধু ভাঙচুরই করছে না, তারা আমাদের নেতা, সাবেক মন্ত্রী এবং এমনকি সংখ্যালঘুদেরও খুঁজে বেড়াচ্ছে। তাই অপ্রত্যাশিতভাবে আমি মনে করি না যে, সহিংসতা শেষ হয়েছে।”
তাহলে আপনার মায়ের পদত্যাগের পরও সহিংসতা থামছে না, এটাই কি আপনার পরিবারের মত— জানতে চাইলে জয় বলেন, “না, এটা আমার ব্যক্তিগত মত।”
এখন আপনার পরিবার কী আশা, জানতে চাইলে জয় বলেন, “আমরা আশা করি বাংলাদেশে নির্বাচন হবে। কিন্তু এই সময়ে আমাদের দলের নেতাদের যেভাবে টার্গেট করা হচ্ছে, আমি বুঝতে পারছি না যে— কীভাবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে। একভাবে বলতে গেলে, এটা এখন আর আমার পরিবারের দায়িত্ব নয়। আমরা দেখিয়েছি যে, বাংলাদেশের কতটা উন্নয়ন করতে পারি। বাংলাদেশের জনগণ যদি এর পক্ষে দাঁড়াতে না চায় এবং তারা সংখ্যালঘুদের ওপর দখল-নির্যাতনে সম্মতি দেয়, তাহলে জনগণ তাদের প্রাপ্য নেতৃত্ব পাবে।”
তার মা দেশের জন্য সেরাটা করেছেন কি-না, তার জবাবে তিনি বলেন, “অবশ্যই। আওয়ামী লীগ এখনও দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল। বিএনপির আবার ক্ষমতায় আসার সুযোগ আছে এবং আমরা দেখেছি তারা শেষবার (ক্ষমতায়) কেমন ছিল। তারা দায়মুক্তি সহকারে দেশকে ধ্বংস করেছে।”
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশ ছাড়ার খবরের দেশের বিভিন্ন জায়গায় থানা, সরকারি অফিস ভবন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাসভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এসব ঘটনায় মারা গেছেন বেশ কয়েকজন।



শেখ হাসিনার রাজনীতিতে ফেরা নিয়ে যা বললেন জয়