Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

তৃণমূল পুনর্গঠনে মনোযোগী বিএনপি

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে লক্ষ নির্ধারণ করে মাঠ গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পরেছে বিএনপি

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৪, ১১:২৫ এএম

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তৃণমূলে দল পুনর্গঠনে মনোযোগী হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। জেলায় জেলায় গণসমাবেশ করছে দলটি। এসব সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনা মূলক বক্তব্য রাখছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি সকল ভেদাভেদ ভুলে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছেন। এদিকে সহযোগী সংগঠনগুলোকে সারাদেশে সক্রিয় করতে যৌথ কর্মীসভা করছে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল। এজন্য তিন সংগঠনের শীর্ষ পাঁচ নেতার সমন্বয়ে তিনটি টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিমের সদস্যরা সবকটি বিভাগে কর্মীসভা করবেন। কর্মীসভা থেকে নেতাকর্মীদের সংগঠিত হয়ে স্থানীয় বিএনপির হাতকে শক্তিশালী করার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।

বিএনপির সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দাবি নিয়ে চলতি বছরের শেষের দিকে আন্দোলন করার পরিকল্পনা ছিলো বিএনপির। দলের শীর্ষ নেতারা সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে তীব্র ছাত্র আন্দোলনে সরকার পতনের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে বিএনপি। দলটি এখন আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে লক্ষ নির্ধারণ করে মাঠ গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পরেছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনে গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি। সেজন্য রাজনৈতিক মিত্রদের ধরে রাখা, কূটনৈতিক সম্পর্কোন্নয়ন ও সংগঠন শক্তিশালী করার পাশাপাশি নেতাকর্মীদের আরও জনবান্ধব হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান। সম্প্রতি ঝিনাইদহে এক গণসমাবেশে তারেক রহমান দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত নির্বাচনের তাগিদ দিয়ে বলেছেন, “যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, মানুষের অধিকারে বিশ্বাস করেন, তারা সকলে বুঝতে সক্ষম বৈদেশিক বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক বিশ্বের আস্থা, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, ব্যবসা বাণিজ্যে স্বস্তি, জনগণের নিরাপত্তা, দেশ ও জনগণের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা; এই সব কিছু দিতে পারে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার। আমাদের যদি এই বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হয় তাহলে নির্বাচিত সরকারের বিকল্প নেই। আগামীতে সরকার গঠন করতে হলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।”

বিএনপি নেতারা জানায়, গত ১৮ বছর যাবৎ বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতার বাহিরে রয়েছে। দীর্ঘ এই সময়ে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির মিথ্যা মামলায় কারাবরণ করতে হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকেও একাধিক মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এরপরও যুক্তরাজ্য থেকে নেতৃত্ব দিয়ে বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন তারেক রহমান। সর্বশেষ এ বছর ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ডামি আখ্যা দিয়ে বর্জন করে বিএনপিসহ দেশের প্রায় ৬৩টি রাজনৈতিক দল। এ সিদ্ধান্তকে তারেক রহমানের দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্বের প্রতিফলন বলে মনে করেন তারা। তবে বিগত সরকারের বাধায় এতদিন দলগঠনে কাজে হাত দেওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন বিএনপি নেতারা। তবে এখন নতুনভাবে সারাদেশে বিএনপিকে গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে জেলায় জেলায় গণসমাবেশ, কর্মীসভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

তৃণমূল নেতারা বলছেন, তারেক রহমান সবসময় তৃণমূলকে গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। আন্দোলন থেকে শুরু করে যেকোনো কর্মসূচি পালনে ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন। সবার মতামতের ভিত্তিতে সংগঠনকে ঢেলে সাজাচ্ছেন। আন্দোলন কর্মসূচিতে সক্রিয়দের নেতৃত্বের সামনে আনা হচ্ছে। জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “তারেক রহমান তৃণমূলসহ সারা দেশে বিএনপিকে সংগঠিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন। স্বৈরাচার বিতাড়িত করার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আগামী নির্বাচনের জন্য তারেক রহমান জেলায় জেলায়, বিভাগীয় পর্যায়ে সভাবেশ করে নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করছেন। আগামী দিনে একটি নিরপেক্ষ ভোটের মাধ্যমেই দেশের সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে বলে আমরা আশাবাদী।”

বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশাহ বলেন, “আমাদের নেতার নির্দেশে সংগঠনকে চাঙ্গা করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তিনি আমরাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা আগামী নির্বাচনকে লক্ষ হিসেবে নির্ধারণ করে কাজ করে যাচ্ছি।

বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, “বিএনপির প্রাণ হচ্ছে তৃনমূল। কেন্দ্রীয় নেতারা সারাদেশের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়োমিত যোগাযোগ রাখছেন। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিয়মিতভাবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের জেলা-উপজেলা সফরের উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। এতে তৃণমূলের নেতাকর্মীর মনোবল চাঙ্গা হবে।”

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুর নবী খান সোহেল বলেন, “দলকে সংগঠিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে আমরা ৩১ দফা নিয়ে কাজ করছি। এই দফাগুলোর মধ্যে রাষ্ট্র সংস্কারের সব দিক তুলে ধরা হয়েছে৷ আমাদের কেন্দ্রীয় নেতারা বিভিন্ন ভাগে ভাগ হয়ে সারাদেশে দলকে পুনগঠনের করতে কাজ শুরু করেছেন। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।“

এদিকে সহযোগী সংগঠনের দেশব্যাপী সফরকে কেন্দ্র করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে সংগঠনগুলোর মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে কেন্দ্রীয় নেতারা জেলায় জেলায় কর্মী সামবেশ করছেন। খোঁজ নিচ্ছেন সরকার পতনের আন্দোলনে অংশ নেওয়া আহত ও নিহত নেতাকর্মীদের পরিবারের সদস্যদের। এছাড়াও ছাত্রদলের নেতারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছেন; সেইসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে করছেন মতবিনিময়। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বর্তমানে বরিশাল বিভাগের জেলাগুলো সফর করছেন। তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছেন, ছাত্র রাজনীতি নিয়ে সেখানকার শিক্ষার্থীদের ভাবনা শুনছেন। সাংগঠনিক সফরের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে নাছির উদ্দিন নাছির ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমরা তারেক রহমানের বার্তা তৃণমূলে পৌঁছে দিচ্ছি। তারেক রহমান আমাদের সেতু বন্ধন হিসেবে কাজ করতে বলেছেন। তার কল্যাণ রাষ্ট্রের ধারণা আমরা কর্মীদের মাঝে তুলে ধরছি। আমাদের এই সফরের ফলে তৃণমূলের কর্মীরা অনেকটা চাঙ্গা হয়েছেন। তাদেরকে আমরা সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ প্রদান করছি।”

   

About

Popular Links

x