ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে দুই দলের মধ্যে ব্যবধান ৫৯ ধাপ। ইরান ২৩তম, নিউজিল্যান্ড ৮২তম। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে সেই পার্থক্যের কোনো ছাপই দেখা গেল না। বরং আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ভরপুর এক দুর্দান্ত লড়াইয়ে দুই দফায় এগিয়ে গিয়েও জয় হাতছাড়া করেছে নিউজিল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত রোমাঞ্চকর ম্যাচটি ২-২ গোলের সমতায় শেষ হয়েছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত “জি” গ্রুপের ম্যাচটি ছিল এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াই। নিউজিল্যান্ডের হয়ে ইতিহাস গড়া জোড়া গোল করেন ইলাইজা জাস্ট, আর ইরানের হয়ে গোল দুটি করেন রামিন রেজাইয়ান ও মোহাম্মদ মোহেবি।
ম্যাচের আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতির মধ্যে বিশ্বকাপে অংশ নিতে আসা ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা, ভিসা জটিলতা এবং প্রস্তুতি ক্যাম্প মেক্সিকোয় সরিয়ে নেওয়ার মতো নানা কারণে দলটি চাপের মধ্যেই ছিল। স্টেডিয়ামের বাইরেও ইরানি প্রবাসীদের বিক্ষোভ এবং জাতীয় সংগীতের সময় গ্যালারির একাংশের দুয়ো সেই চাপকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
তবে খেলা শুরু হতেই সব আলোচনাকে ছাপিয়ে যায় মাঠের লড়াই।
ম্যাচের মাত্র সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। নিজেদের অর্ধ থেকে আসা লম্বা বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ক্রিস উড ডান দিকে পাস বাড়ান ইলাইজা জাস্টের কাছে। ২৬ বছর বয়সী উইঙ্গার দুর্দান্ত এক হাফ-ভলিতে বল জালে পাঠিয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
গোল হজমের পর ইরান আক্রমণের গতি বাড়ায়। ২৩তম মিনিটে মেহদি তারেমির দূরপাল্লার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তবে ৩২ মিনিটে সমতায় ফিরতে ভুল করেনি এশিয়ার দলটি। বক্সের ভেতরে তৈরি হওয়া সুযোগে রামিন রেজাইয়ান নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়িয়ে স্কোরলাইন ১-১ করেন।
প্রথমার্ধের শেষদিকে ইরান একটি গোল পেলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে আবারও আঘাত হানে নিউজিল্যান্ড। ৫৪ মিনিটে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে ক্রিস উডের সঙ্গে চমৎকার ওয়ান-টু খেলে বক্সে ঢুকে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল তুলে জালে পাঠান ইলাইজা জাস্ট। বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের হয়ে জোড়া গোল করা প্রথম ফুটবলার হিসেবে নাম লেখান তিনি।
কিন্তু ইরান আবারও ঘুরে দাঁড়ায়। ৬৩ মিনিটে রেজাইয়ানের নিখুঁত ক্রস থেকে মোহাম্মদ মোহেবি দুর্দান্ত এক হেডে বল জালে পাঠিয়ে ম্যাচে দ্বিতীয়বারের মতো সমতা ফেরান।
শেষ ২০ মিনিটে ইরানের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। একের পর এক আক্রমণে নিউজিল্যান্ডের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখলেও জয়সূচক গোল আর পাওয়া হয়নি। অন্যদিকে পাল্টা আক্রমণে সুযোগ পেলেও সেটিকে কাজে লাগাতে পারেনি নিউজিল্যান্ড।
শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুই দল।
একই গ্রুপের অন্য ম্যাচে বেলজিয়াম ও মিশরও ১-১ গোলে ড্র করায় ‘জি’ গ্রুপে চার দলই এখন সমান ১ পয়েন্ট নিয়ে অবস্থান করছে। ফলে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে প্রতিটি পয়েন্টই হয়ে উঠবে অমূল্য।
ইরানের পরবর্তী ম্যাচ ২১ জুন বেলজিয়ামের বিপক্ষে, আর ২২ জুন নিউজিল্যান্ড মুখোমুখি হবে মিসরের।



