লিওনেল মেসির জোড়া গোলে অস্ট্রিয়াকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা।
সোমবার (২২ জুন) ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘জে’ গ্রুপের ম্যাচে জয়ের পাশাপাশি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
ম্যাচের শুরুতেই রেকর্ড গড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। তৃতীয় মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজকে বক্সের মধ্যে ফাউল করলে ভিএআর পর্যালোচনার পর পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। অষ্টম মিনিটে স্পট কিক নিতে গিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হন মেসি। ফলে বিশ্বরেকর্ড গড়ার অপেক্ষা আরও কিছুক্ষণ বাড়ে।
পেনাল্টি মিসের পরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। ২১ মিনিটে মেসির আরেকটি প্রচেষ্টা শেষ মুহূর্তে রক্ষা করেন অস্ট্রিয়ার ডিফেন্ডাররা। ৩৩ মিনিটে প্রায় নিশ্চিত গোল থেকে দলকে বাঁচান ডেভিড আলাবা।
তবে ৩৮ মিনিটে আর ভুল করেননি মেসি। নিজেই আক্রমণের সূচনা করে পেনাল্টি বক্সের প্রান্ত থেকে নেওয়া নিখুঁত শটে বল জড়িয়ে দেন জালে। বিশ্বকাপে নিজের ১৭তম গোল করে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড ভেঙে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেন তিনি। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনাও ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায়।
বিরতির পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল আর্জেন্টিনার হাতেই। ৬৩ মিনিটে এনজো ফের্নান্দেসের জোরালো শট প্রতিহত করে অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগ। ৭৪ মিনিটে নিকোলাস গঞ্জালেসের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
দ্বিতীয় গোলের খোঁজে আর্জেন্টিনা চাপ অব্যাহত রাখে। শেষ দিকে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও কাঙ্ক্ষিত গোল আসছিল না। তবে যোগ করা সময়ে আবারও জ্বলে ওঠেন মেসি। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি।
মেসির জোড়া গোলে ২-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। এই জয়ে দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে আরেকটি সোনালি অধ্যায় যোগ করলেন মেসি। ক্লোসাকে ছাড়িয়ে এখন বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার নাম লিওনেল মেসি।



