২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে বড় ধাক্কা খেয়েছে সুইজারল্যান্ড। হাঁটুর চোট কাটিয়ে উঠতে না পারায় দলের অন্যতম সেরা পারফর্মার জোহান মানজাম্বি গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না।
সুইজারল্যান্ডের প্রধান কোচ মুরাত ইয়াকিন সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ২০ বছর বয়সী এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার এখনও পুরোপুরি সুস্থ নন। একই কারণে কলম্বিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচেও মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি।
মানজাম্বির অনুপস্থিতিকে বড় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন ইয়াকিন। গ্রুপ পর্বে সুইজারল্যান্ডের আক্রমণভাগের সবচেয়ে উজ্জ্বল পারফর্মার ছিলেন এই তরুণ ফুটবলার। মাত্র ২০০ মিনিট মাঠে নেমে তিনি তিনটি গোল করার পাশাপাশি দুটি অ্যাসিস্টও করেছেন।
ইয়াকিন বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে মানজাম্বির চোট আমাদের জন্য বড় ধাক্কা। সে দারুণ ছন্দে ছিল এবং মাঠে তার উপস্থিতি পুরো দলের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলত। টুর্নামেন্টজুড়ে আমাদের পারফরম্যান্সে তার অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সে এই ম্যাচে খেলতে পারবে না।”
গ্রুপ পর্বে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে জোড়া গোল করে সুইজারল্যান্ডের বিশ্বকাপ অভিযানকে গতি এনে দিয়েছিলেন মানজাম্বি। তবে তাকে ছাড়া শেষ ষোলোতে কলম্বিয়ার বিপক্ষে ১২০ মিনিট গোলশূন্য লড়াইয়ের পর টাইব্রেকারে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে সুইসরা।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অতীত পরিসংখ্যানও সুইজারল্যান্ডের পক্ষে নয়। দুই দলের সাতটি মুখোমুখি লড়াইয়ে একবারও জয়ের দেখা পায়নি ইউরোপের দেশটি। সর্বশেষ ২০১৪ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় অতিরিক্ত সময়ে আনহেল দি মারিয়ার একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা।
সেই ম্যাচে খেলা বর্তমান সুইস অধিনায়ক গ্রানিত জাকা ও অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার রিকার্ডো রদ্রিগেজ এবারও দলে রয়েছেন। পুরোনো স্মৃতি উল্লেখ করে জাকা বলেন, “১২ বছর পর আমি এবং রিকি আবার একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে আছি। তবে এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি সুইজারল্যান্ড। আমাদের মানসিকতা বদলেছে, নতুন প্রজন্ম এসেছে এবং দেশের ফুটবলও অনেক এগিয়েছে।”
গত পাঁচটি বিশ্বকাপের মধ্যে চারবার শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছিল সুইজারল্যান্ড। এবার ১৯৫৪ সালের পর প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে দলটি। আর্জেন্টিনাকে হারাতে পারলে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠবে সুইসরা।



