Thursday, October 29, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ক্ষমা চাইলেন কিলিয়ান এমবাপে

একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে এই বিতর্কের সূত্রপাত

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম

চীনের সাবেক নেতা মাও সেতুংকে নিয়ে ‘অসংবেদনশীল’ মন্তব্যের জেরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে চীনা জনগণ ও ভক্তদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপে। একই ঘটনায় চীনা সমর্থকদের অনুভূতিতে আঘাত লাগায় দুঃখ প্রকাশ করেছে স্প্যানিশ ফুটবল লিগ কর্তৃপক্ষ লা লিগাও।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এমবাপে বলেন, “আমার মন্তব্যটি একেবারেই অনভিপ্রেত ও অনুচিত ছিল। আমি এখন বুঝতে পারছি, এটি চীন এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা চীনা সম্প্রদায়কে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। যাদের মনে আঘাত লেগেছে, আমি তাদের সবার কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।”

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে এই বিতর্কের সূত্রপাত। ভিডিওতে ইন্টারনেটের বিভিন্ন মিম নিয়ে কথা বলার সময় এমবাপেকে বলতে শোনা যায়, সবচেয়ে মজার মিম ছিল সেটি, যেখানে তার মুখ ‘চীনা কোনো এক স্বৈরশাসকের’ ছবির ওপর বসানো হয়েছিল। পরে জানা যায়, ছবিটি আধুনিক চীনের প্রতিষ্ঠাতা মাও সেতুংয়ের।

চীনে মাও সেতুংকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য বা কৌতুক অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। এমবাপের মন্তব্য সামনে আসার পর দেশটিতে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন ফরাসি এই ফরোয়ার্ড।

বিতর্কের মধ্যে এমবাপের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে চীনের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে দুগ্ধজাত পণ্য প্রস্তুতকারক মেংনিউ, সাংহাই মিল্কগ্রাউন্ড এবং পানীয় প্রস্তুতকারক ইস্টরক।

এদিকে, এমবাপের মন্তব্যের দায় নিজেদের ওপর না নিলেও চীনা সমর্থকদের অনুভূতিতে আঘাত লাগায় দুঃখ প্রকাশ করেছে লা লিগা। লিগ কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে বলা হয়, “কিলিয়ান এমবাপের ব্যক্তিগত মন্তব্য চীনা সমর্থকদের মনে যে আঘাত দিয়েছে, তার জন্য লা লিগা গভীরভাবে অনুতপ্ত। এটি তার ব্যক্তিগত বক্তব্য, যার সঙ্গে লা লিগার কোনো সম্পৃক্ততা বা সংযোগ নেই।”

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দেশটিতে আপাতত লা লিগা ও এমবাপে-সম্পর্কিত সব খেলার সম্প্রচার বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি তার সব ধরনের বিজ্ঞাপন সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

লা লিগার সভাপতি হাভিয়ের তেবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, “বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা একটা সম্পর্ক কেবল একটি ঘটনা দিয়ে শেষ হয়ে যেতে পারে না। আমরা চীনে আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছি, যাতে দ্রুত এই সংকট কাটিয়ে ওঠা যায়।”

অন্যদিকে, চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ওয়েইবোতে এমবাপেকে কালো তালিকাভুক্ত করার দাবি জানাচ্ছেন হাজারো ব্যবহারকারী। বিশ্বজুড়ে এমবাপের বড় ধরনের ব্র্যান্ড প্রভাব থাকলেও এই মন্তব্য চীনে তার জন্য বড় সংকট তৈরি করেছে।

   

About

Popular Links

x