শুধু মাঠের পারফরম্যান্স নয়, মাঠের বাইরেও নিজের নীতি ও আদর্শের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। অ্যালকোহল, জুয়া কিংবা ফাস্ট ফুডের প্রচার থেকে সবসময় দূরে থাকা এই ফরাসি তারকা আবারও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে।
বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্যিক প্রস্তাব পেলেও এমবাপ্পে কখনোই অ্যালকোহল, ফাস্ট ফুড বা জুয়ার মতো পণ্যের বিজ্ঞাপনে অংশ নেননি। তরুণ প্রজন্মের কাছে ইতিবাচক রোল মডেল হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতেই তিনি নিজের ইমেজ রাইটস ও বাণিজ্যিক চুক্তির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছেন।
স্বাস্থ্যকর জীবনধারা ও ইতিবাচক বার্তা বহনকারী ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গেই কেবল কাজ করেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। এর প্রতিফলন দেখা গেছে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে ফ্রান্সের ২-০ গোলের জয়ের ম্যাচেও।
ম্যাচে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন এমবাপ্পে। তবে তার হাতে দেওয়া ট্রফিতে টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল অ্যালকোহল স্পনসরের কোনো ব্র্যান্ডিং ছিল না।
চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে ধর্মীয় বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ পুরস্কারে বিশেষ ব্যবস্থা রেখেছে ফিফা। সাধারণত এই পুরস্কারে বিয়ার ব্র্যান্ড ‘মিশেলব আল্ট্রা’র লোগো ব্যবহৃত হলেও, বিশেষ ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ নকশার ‘সুপিরিয়র প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ ট্রফি দেওয়া হচ্ছে, যেখানে শুধুমাত্র ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ব্র্যান্ডিং রাখা হয়েছে।
যদিও এমবাপ্পে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী, তবু ব্যক্তিগত নৈতিক অবস্থানের কারণে তিনি অ্যালকোহল ব্র্যান্ডিংবিহীন সেই নিরপেক্ষ ট্রফিই গ্রহণ করেন।
এর আগেও ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে একই ধরনের অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি। ম্যাচসেরার পুরস্কার গ্রহণের সময় সচেতনভাবে স্পনসর প্রতিষ্ঠানের লোগো হাত দিয়ে ঢেকে রাখতেন এমবাপ্পে। নিজের নীতিতে অটল থাকতে গিয়ে সমালোচনা কিংবা জরিমানার সম্ভাবনাকেও তিনি গুরুত্ব দেননি।
বৃহস্পতিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের বস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যাচের ৬০তম মিনিটে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে। ছয় মিনিট পর উসমান দেম্বেলে ব্যবধান দ্বিগুণ করলে ২-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ফ্রান্স। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজের ২০তম গোলও পূর্ণ করেন ফরাসি অধিনায়ক।



