ঝলমলে বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপই ছিল লিওনেল মেসির একমাত্র অপ্রাপ্তি। গত বছর সেই অপ্রাপ্তিও ঘুচে যায়। কাতার বিশ্বকাপে অধিনায়ক হিসেবে পরম প্রার্থিত সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন মেসি।
দীর্ঘ তিন যুগ অপেক্ষার পর আর্জেন্টিনাকে ফিফা বিশ্বকাপ জেতাতে যোগ্য অধিনায়ক হিসেবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাত গোল করার পাশাপাশি ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতে নেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। সেই সঙ্গে বিশ্বকাপের রেকর্ড বইয়ের অনেক পাতা নতুন করে লিখেন মেসি।
তবে ফিফা বিশ্বকাপ জেতার পেছনে মেসি ও আর্জেন্টিনাকে পুরো কৃতিত্ব দিতে নারাজ সাবেক ডাচ কোচ লুই ভ্যান গাল। কাতার বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের ডাগআউটে ছিলেন এই কোচ। ৭২ বছর বয়সী কোচের অভিযোগ, মেসির আর্জেন্টিনাকে পরিকল্পিতভাবেই বিশ্বকাপ জেতানো হয়েছিল।
কাতারে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতার পথে কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হয়েছিল। বিশ্বকাপ ইতিহাসে আর্জেন্টিনা-নেদারল্যান্ডস মহারণের দিকে তাকালে দেখা যায়, দুই দলের খেলা বরাবরই উত্তাপ ছড়ায়। ব্যতিক্রম হয়নি কাতার বিশ্বকাপেও; শেষ আটে দুই দলের লড়াইয়ে রেফারির পকেট থেকে বেরিয়েছিল ১৬টি হলুদ ও একটি লাল কার্ড।
মাঠের লড়াইয়েও আর্জেন্টিনা-নেদারল্যান্ডস লড়াই ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। শুরুতে আলবিসেলেস্তেরা ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলেও শেষদিকে ঠিকই সমতায় ফিরে আসে কমলা শিবির। নির্ধারিত ৯০ মিনিট আর অতিরিক্ত সময় শেষে স্কোরলাইন ২-২ গোলের সমতায় থাকায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। পেনাল্টি শুটআউটের ভাগ্য পরীক্ষায় ৪-৩ ব্যবধানে জিতে সেমিফাইনালে যায় আলবিসেলেস্তেরা।
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে আগুন ঝরানো সেই ম্যাচে বিশ্ব দেখেছিল এক অন্য মেসিকে। শান্ত স্বভাবের চুপচাপ মেসি সেদিন রীতিমতো অগ্নিমূর্তি ধারণ করেছিলেন। গোলের পর তৎকালীন ডাচ কোচ ভ্যান গালের উদ্দেশে ৩৬ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের উদযাপনও পেয়ে যায় অন্য মাত্রা।
সেই ম্যাচের পর মেসির ওপর ভ্যান গালের কোনো ক্ষোভ রয়ে গেছে নাকি কে জানে। তবে নেদারল্যান্ডসের সংবাদমাধ্যম এনওএসের সামনে কাতার বিশ্বকাপের শেষ আটের সেই লড়াই নিয়ে মুখ খুলেছেন এই বর্ষীয়ান কোচ। এমনকি আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের যথার্থতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ভ্যান গাল।
তিনি বলেন, “আমি এটা নিয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না। আপনি যখন দেখবেন কীভাবে আর্জেন্টিনা গোলগুলো করেছিল এবং আমরা কীভাবে গোলগুলো করেছিলাম (তখন বুঝতে পারবেন)। তাদের কিছু খেলোয়াড় সীমা লঙ্ঘন করেছিল এবং এরপরও তাদের কোনো শাস্তি হয়নি।
ক্লাব ফুটবলে বার্সেলোনা, আয়াক্স, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো দলের ডাগআউটে দাঁড়ানো এই কোচ বলেন, “আমার মনে হয়েছে এই ম্যাচের ফলাফল (কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা-নেদারল্যান্ডস) পুরোপুরিভাবে পূর্বপরিকল্পিত ছিল।”
তবে মেসি বিশ্বকাপের দাবিদার ছিলেন স্বীকার করে তিনি শেষ পর্যন্ত বলেন, “আমি কেবল বলার জন্য কথা বলি না। ২০২২-এর মেসি কি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার যোগ্য ছিলেন? হ্যাঁ, আমার তাই মনে হয়।”



