Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার যত অদ্ভুতুড়ে বিদায়

আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ থেকে নাটকীয় বিদায়ের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার পুরোনো সুনাম (পড়ুন দুর্নাম) রয়েছে

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৪:৪০ পিএম

আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের সফলতম দল বললে সবাই অস্ট্রেলিয়াকে নিঃসন্দেহে অস্ট্রেলিয়ার কথা বলবেন। একদিনের ক্রিকেটের বিশ্বমঞ্চে এখন পর্যন্ত পাঁচবার শিরোপা জিতেছে তারা। নিউজিল্যান্ডকে তীরে গিয়ে তরী ডোবানো দলের তকমা দিলেও দ্বিমত করার খুব বেশি লোক থাকবে না। ছয়বার সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া ও টানা দুবার ফাইনালে হারা ব্ল্যাক ক্যাপসদের অবশ্য ভদ্রলোকের দল বলেও গণ্য করেন অনেকে। আবার গত আসর বাদ দিলে ইংল্যান্ডকে কাগুজে বাঘের অ্যাখ্যা দেওয়াও খুব অযৌক্তিক কিছু না। ফেবারিট হিসেবে অনেকবার বিশ্বকাপে এলেও টুর্নামেন্ট থেকে সিংহভাগ সময়ই হতাশাজনকভাবে তাদের খালি হাতেই ফিরতে হয়েছে।

অন্য দলগুলোর তকমা নিয়ে কিঞ্চিৎ তর্ক-বিতর্ক থাকলেও দক্ষিণ আফ্রিকাকে সবাই এক বাক্যে আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের সবচেয়ে দুর্ভাগা দল হিসেবে মেনে নেবেন। প্রথম চার আসরে দর্শক হিসেবে থাকা প্রোটিয়ারা বিশ্বকাপের সর্বশেষ ৮ আসরেই নিয়মিত অংশগ্রহণকারী। টুর্নামেন্টে অনেকবারই শিরোপাপ্রত্যাশী দল হিসেবে এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকানরা। আবার কখনো বা চলমান বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তাদের রাখা হয়। কিন্তু চারবার শেষ চারে উঠেও ফাইনালে পা রাখতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা।

দক্ষিণ-আফ্রিকা-২০১৫-বিশ্বকাপ-RSA-Elimination-2015-World-Cup

আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ থেকে নাটকীয় বিদায়ের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার পুরোনো সুনাম (পড়ূন দুর্নাম) রয়েছে। টুর্নামেন্টের শুরু থেকে দুর্দান্ত ছন্দে থাকলেও কখনো বৃষ্টি ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে, আবার কখনো নিজেরাই হিসাবে গড়বড় করে নিজেদের পায়ে কুড়াল মেরেছে তারা। এমনকি সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেও চাপের মুখে ভেঙে পড়ে বদনাম হিসেবে নিজেদের পাওয়া চোকার্স ডাকনামের যথার্থতা প্রমাণ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। সব মিলিয়ে প্রোটিয়াদের মতো আর কেউ বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে আলোচিতভাবে বিদায় নেয়নি। চলুন তাহলে চোখ বুলিয়ে আসি বিশ্বকাপ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার অদ্ভুতুড়ে বিদায়ের স্মৃতির পাতা থেকে-

১৯৯২ বিশ্বকাপ

বর্ণবাদ বৈষম্যের কারণে দীর্ঘ ২২ বছর ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত থাকায় আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রথম চার আসরে দক্ষিণ আফ্রিকাকে দেখা যায়নি। ১৯৯২ সালে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করে প্রোটিয়ারা। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ওই আসরে কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার অংশ নেওয়ার কথা ছিল না। দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার অনুরোধে আইসিসি রাজি হয় তাদের বিশ্বকাপে খেলতে দিতে। এমনকি পুরোনো ফরম্যাটেও পরিবর্তন আনে ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা। রাউন্ড রবিন ফরম্যাটে সেবার লিগপর্বে প্রতিটি দলই একে অন্যের মোকাবিলা করেছিল।

সেবার দক্ষিণ আফ্রিকার নেতৃত্বে ছিলেন ১৯৮৩ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করা কেপলার ওয়েসেলস। পাশাপাশি দলে ছিল অ্যালান ডোনাল্ড, হ্যান্সি ক্রনিয়ে, জন্টি রোডসের মতো এক ঝাঁক প্রতিভাবান তরুণ। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ও সেই আসরের অন্যতম আয়োজক অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে একদিনের ক্রিকেটের বিশ্বযজ্ঞে দক্ষিণ আফ্রিকা দলটির অভিষেক ছিল স্মরণীয়। শেষ পর্যন্ত আট ম্যাচে পাঁচটি জয় নিয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে এসেই সেমিফাইনালের টিকিট কাটে দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষ চারে প্রোটিয়াদের প্রতিপক্ষ ছিল ইংল্যান্ড।

সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে আয়োজিত সেই ম্যাচে টস জিতে ইংল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ে পাঠান প্রোটিয়া দলনেতা ওয়েসেলস। মাঠে খেলা গড়ানোর আগে বৃষ্টির বাগড়ার কারণে ম্যাচের দৈর্ঘ্য নেমে আসে ৪৫ ওভারে। ৯০ বলে ৮৩ রান করা গ্রায়েম হিক বাদে ইংল্যান্ডের আর কোনো ব্যাটারই থিতু হতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৪৫ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৫২ রান সংগ্রহ করে ইংলিশরা। দক্ষিণ আফ্রিকান বোলারদের মধ্যে ডোনাল্ড ও মেয়রিক প্রিঙ্গেল দুটি করে উইকেট নেন। সেই সময়টায় ২৫২ রানের সংগ্রহকে জয়ের জন্য ঢের যথেষ্ট বলে ধরা হতো। সেখানে ৫ ওভার হাতে রেখে এই লক্ষ্য তাড়া করাটা প্রোটিয়াদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।

তবে সেবারের আসরের বেরসিক অতিথি বৃষ্টির আগমন নিয়ে ইংল্যান্ড সতর্ক ছিল বলেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে তারা বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়নি। শুরু থেকেই আঁটসাঁট বোলিংয়ে প্রোটিয়া ব্যাটারদের নাভিশ্বাস তুলে ফেলেছিলেন। ইংলিশ বোলাররা। ইংল্যান্ডের বোলিং তোপের মুখে নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকলেও অ্যান্ড্রু হাডসন, আদ্রিয়ান কুইপার, ক্রনিয়ে, রোডসদের ছোট ছোট অবদানে ম্যাচে ভালোমতোই টিকে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকানরা। বিশ্বকাপ অভিষেকেই ফাইনালে যেতে শেষ ১৩ বলে প্রোটিয়াদের প্রয়োজন ছিল ২২ রান। ম্যাচের প্রেক্ষাপটে এখান থেকে যেকোনো ফলাফল আসাই সম্ভব ছিল।

দক্ষিণ-আফ্রিকা-১৯৯২-বিশ্বকাপ-South-Africa-1-Run-22-Balls-1992-World-Cup

এমন অবস্থায় আবারও সিডনির আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামে। আম্পায়াররা খেলা বন্ধ করে দিলে দুই দল ড্রেসিংরুমের দিকে হাঁটা দেয়। আইসিসি রিজার্ভ ডে রাখলেও সম্প্রচারকরা ম্যাচটা সেদিনেই শেষ করার গো ধরে। সময় নষ্ট হওয়ায় অগত্যা শরণাপন্ন হতে হয় বৃষ্টি আইনের। বর্তমান সময়ের ডাকওয়ার্থ লুইস (ডি/এল) মেথড অবশ্য তখন প্রচলিত ছিল না। তৎকালীন বৃষ্টিসংক্রান্ত আইন অনুযায়ী ওয়ানডের দ্বিতীয় ইনিংসে বৃষ্টি এলে প্রথমে বোলিং করা দলের সবচেয়ে কম রান দেওয়া ওভারগুলোর রানসংখ্যা কমানো হবে। ইংল্যান্ডের জন্য ম্যাচের প্রথমভাগে বৃষ্টি অভিশাপ হয়ে এলেও এবার সেটিই যেন আশীর্বাদ।

নিজেদের ইনিংসে ইংল্যান্ড ২টি ওভারে কোনো রান করতে পারেনি। ফলে ওভার কমে এলেও দক্ষিণ আফ্রিকার লক্ষ্যমাত্রায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। দুই অপরাজিত প্রোটিয়া ব্যাটার যখন ব্যাটিংয়ে নামবেন, তখন তাদের বলা হলো  বলে ২২ রান প্রয়োজন। কিন্তু ক্রিজে পৌঁছানোর পর জানা যায়, বৃষ্টির কারণে এক ওভারের জায়গায় দুই ওভার কাটা পড়েছে। ফলে জয়ের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়োজন হয় ১ বলে ২২ রান। বৃষ্টি আইনের প্রহসনে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ২০ রানে হেরে যায় প্রোটিয়ারা। ১২ মিনিটের ওই বৃষ্টির মাধ্যমে যেন বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকানদের দুর্দশাও শুরু হয়।

১৯৯৯ বিশ্বকাপ

বিরানব্বইয়ের অ্যালান ডোনাল্ড, হ্যান্সি ক্রনিয়ে, জন্টি রোডসরা তখন পরিণত হয়ে তখন ক্যারিয়ারের সুসময়ের তুঙ্গে। সেই সঙ্গে যোগ হয়েছেন গ্যারি কারস্টেন, হার্শেল গিবস, জ্যাক ক্যালিস, ল্যান্স ক্লুজনার, শন পোলক, মার্ক বাউচারের মতো ধুমকেতুরা; যাদের হাতে পরবর্তীতে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটকে এগিয়ে নেওয়ার ঝাণ্ডা। তবে এমন ভারসাম্যপূর্ণ আর সম্ভাবনায় দল নিয়েও ১৯৯৯ সালে প্রোটিয়াদের দুর্ভাগ্য কাটেনি। যুক্তরাজ্যে আয়োজিত সেই বিশ্বকাপ যেন দক্ষিণ আফ্রিকান্দেরর জন্য আরো বড় ট্র্যাজেডি নিয়ে আসে।

১৯৯৯ বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের কাছে অপ্রত্যাশিত হারের পরও গ্রুপপর্বে নিজেদের গ্রুপে শীর্ষে থেকেই সুপার সিক্সে পা রেখেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেখানে অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানের সমান পয়েন্ট থাকলেও প্রোটিয়ারা নেট রানরেটে পিছিয়ে থেকে তৃতীয় অবস্থানে থেকে সেমিফাইনালে নাম লিখিয়েছিল। সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকানদের সামনে ছিল পরাক্রমশালী অস্ট্রেলিয়া। সুপার সিক্সে অস্ট্রেলিয়ানদের কাছে অবশ্য পেরে ওঠেনি প্রোটিয়ারা, পরাজিত হয়েছিল ৫ উইকেটে। মূলত সেই ম্যাচে জয়ের সুবাদেই শেষ চারের টিকেট পায় অস্ট্রেলিয়া।

বার্মিংহামে সেবারের ওয়ানডে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নামে অস্ট্রেলিয়া। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার আগুনঝরা বোলিংয়ের বেশি সুবিধা করতে পারেনি অজিরা। এক পর্যায়ে ৬৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। তবে পঞ্চম উইকেটে অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহ ও মাইকেল বেভানের ৯০ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু সেই জুটি ভাঙার পর আর কেউ থিতু হতে না পারায় ৪৯.২ ওভারে ২১৩ রানে অলআউট হয় অজিরা। ওয়াহ ৫৬ আর বেভান ৬৫ রান করেন। প্রোটিয়া বোলারদের মধ্যে পোলক ৫টি ও ডোনাল্ড ৪টি উইকেট নেন।

২১৪ রানের লক্ষ্যটা মামুলি হলেও অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে সেটিই যেন পাহাড়সম এক লক্ষ্য হয়ে যায়। বিশেষ করে শেন ওয়ার্নের সামনে প্রোটিয়া ব্যাটাররা মোটেও সুবিধা করতে পারছিলেন না। ৬১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা যখন ধুঁকছে, তখন পঞ্চম উইকেটে ক্যালিস ও রোডসের ৮৪ রানের জুটিতে দলের বিপদ কাটে। তবে এই জুটি ভাঙার পর আবারও প্রোটিয়া ব্যাটারদের আসা-যাওয়ার মিছিল শুরু হয়। তবে এক প্রান্ত আগলে দলকে জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন পুরো আসরে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিপর্যয় থেকে উদ্ধার করা ক্লুজনার।

দক্ষিণ-আফ্রিকা-১৯৯৯-বিশ্বকাপ-South-Africa-1999-World-Cup

জয়ের জন্য শেষ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়োজন ছিল ৯ রান। অন্যদিকে, ক্লুজনারের সঙ্গে শেষ ব্যাটার হিসেবে ডোনাল্ড ক্রিজে থাকায় অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল এক উইকেট। ডেমিয়েন ফ্লেমিংয়ের করা শেষ ওভারের প্রথম দুই বলেই ক্লুজনার বাউন্ডারি হাঁকালে স্কোর সমান হয়ে যায়। দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য জয়টা তখন সময়ের ব্যাপার বলে মনে হলেও অস্ট্রেলিয়া হাল ছেড়ে দিতে নারাজ ছিল। প্রতিপক্ষের সঙ্গে সেই স্নায়ুর লড়াইয়ে পেরে উঠেননি ক্লুজনার। তৃতীয় বল ডট দেওয়ার পর চতুর্থ বলে ব্যাটে বল লাগিয়েই জয়সূচক রান নিতে ছুটতে শুরু করেন এ বাঁহাতি ব্যাটার।

স্টিভ ওয়াহর হাতে বল দেখে অপর প্রান্তে ডোনাল্ড দৌড়ে উল্টো নিজের ক্রিজেই ফিরে আসেন। ওয়াহর হাত থেকে বল যখন ফ্লেমিংয়ের হাতে এলো তখন ক্লুজনার ও ডোনাল্ড দুজনেই একই প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন। শেষে ডোনাল্ড ব্যাট ফেলেই দৌড় লাগালেও তাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ফ্লেমিংয়ের কাছ থেকে বল পেয়ে অ্যাডাম গিলক্রিস্ট উইকেট ভেঙে দেন। জয়সূচক রান নিতে দৌড় শুরু করা ক্লুজনার আর পেছনে ফিরে থামেননি না থেমে সোজা প্যাভিলিয়নে চলে যান। সেই সঙ্গে ওয়ানডে ক্রিকেটও দেখলো এক নাটকীয় সমাপ্তি।

শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকাও অস্ট্রেলিয়ার মতো ২১৩ রানে অলআউট হলে ম্যাচ টাই হয়। কিন্তু টুর্নামেন্টের বাইলজ অনুযায়ী সুপার সিক্সে নেট রান রেটে এগিয়ে থাকায় ফাইনালে চলে যায় অস্ট্রেলিয়ানরা। পুরো বিশ্বকাপে তেমন আলো ছড়াতে না পারা ওয়ার্ন যেন সেদিন যেন রীতিমতো শার্টের হাতা গুটিয়ে নামলেন। ১০ ওভার বল করে মাত্র ২৯ রানের খরচায় ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন প্রয়াত এই কিংবদন্তি স্পিনার। অন্যদিকে, সেই ম্যাচে ১৬ বলে চার বাউন্ডারি আর এক ছক্কায় ৩১ রানে অপরাজিত থাকলেও জয়ের নায়ক হওয়ার পরিবর্তে ক্লুজনার হয়ে যান ট্র্যাজিক হিরো।

২০০৩ বিশ্বকাপ

২০০৩ সালে আয়োজিত হয় একবিংশ শতাব্দীর প্রথম ওয়ানডে বিশ্বকাপ। সেবার প্রথমবারের মতো একদিনের ক্রিকেটে বিশ্বযজ্ঞের স্বাগতিক হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। নিজেদের মাটিতে আয়োজিত বিশ্বকাপে প্রোটিয়ারা আগের আসরগুলোর হতাশা মোচন করবে- এমনটাই ছিল সবার ধারণা। কিন্তু স্লো ওভার রেটে এক ওভারের জরিমানা গুণে সেই আসরের উদ্বোধনী ম্যাচেই দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। পরে নিউজিল্যান্ডের কাছেও হেরে যায় তারা। যদিও বাংলাদেশ, কেনিয়া ও কানাডার মতো দুর্বল শক্তির বিপক্ষে ঠিকই জিতেছিল প্রোটিয়ারা।

তবে নিজেদের দেশে আয়োজিত বিশ্বকাপের সুপার সিক্সে উঠতে হলে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় ব্যতিত বিকল্প কোনো পথ খোলা ছিল না। ডারবানের সেই ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক সনাৎ জয়াসুরিয়া। তবে ওপেনার মারভান আতাপাত্তু আর অরবিন্দ ডি সিলভা ছাড়া কোনো লঙ্কান ব্যাটারই মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেননি। তবে আতাপাত্তুর ১২৪ আর ডি সিলভার ৭৩ রানের সুবাদে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৯ উইকেটে ২৬৮ রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কা। ৩ উইকেট নিয়ে প্রোটিয়া বোলারদের মধ্যে সফলতম ছিলেন ক্যালিস।

২৬৯ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। মাঝে একটু ছন্দপতন হলেও ওপেনার হার্শেল গিবসের ওপর ভর করে ম্যাচে ভালোমতোই টিকে ছিল প্রোটিয়ারা। ৭৩ রান করা গিবস ফিরে যাওয়ার পর দলীয় ১৪৯ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারায় চলে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে ষষ্ঠ উইকেটে উইকেটরক্ষক বাউচার আর অধিনায়ক পোলক মিলে ৬৩ রান যোগ করলে আবার জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু কওরে স্বাগতিকরা। ৪৩তম ওভারে পোলক ফিরে গেলেও লড়াইটা চালিয়ে যাচ্ছিলেন বাউচার।

দক্ষিণ-আফ্রিকা-২০০৩-বিশ্বকাপ-South-Africa-2003-World-Cup

দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের ৪৫তম ওভারের সময় ডারবানের আকাশে ভালোই মেঘ জমেছিল। বৃষ্টির আসার সম্ভাবনা থাকায় ওই ওভারটিকেই জয়-পরাজয় নির্ধারক হিসেবে ধরা হচ্ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার ড্রেসিংরুম থেকে ক্রিজে থাকা ক্লুজনার আর বাউচারকে জানানো হলো, এই ওভার থেকে ১৩ রান করতে পারলেই বৃষ্টি আইনে তারা এগিয়ে থাকবে। কিংবদন্তি লঙ্কান স্পিনার মুত্তিয়া মুরালিধরনের করা সেই ওভারের প্রথম তিন বলে এসেছিল মাত্র ১ রান। তবে এরপরই ভেজা বল গ্রিপ করতে সমস্যা হওয়ায় ওয়াইডসহ পাঁচ রান দিয়ে বসেন মুরালি।

আগের আসরের তেতো স্মৃতি মাথায় রেখেই কি-না, পরের বলে সিঙ্গেল নিয়ে বাউচারকে স্ট্রাইকে পাঠান ক্লুজনার। পঞ্চম ওভারে মুরালিকে ছক্কা হাঁকিয়ে বসেন বাউচার। নির্দেশনা অনুযায়ী ইতোমধ্যেই ওই ওভার থেকে প্রয়োজনীয় ১৩ রান উঠে যাওয়ায় শেষ বলে কোনো রান নেননি বাউচার। এরপরই ডারবানের আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামায় খেলা বন্ধ হয়ে যায়। ডারবানের গ্যালারিতে তখন প্রোটিয়াদের জয়ের উদযাপন শুরু হয়ে গেছে। জয় নিশ্চিত জেনে বাউচার আর ক্লুজনার প্যাভিলিয়নে গেলেও পরে তাদের এবং গোটা দক্ষিণ আফ্রিকা দলের মাথায় বজ্রাঘাত।

দক্ষিণ আফ্রিকার ড্রেসিংরুম থেকে ডাকওয়ার্থ লুইস মেথড অনুযায়ী, ১৩ রান করলে আদতে দুই দলের স্কোর সমান হবে। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে জয়ের জন্য আরো এক রান বেশি করতে হতো। বৃষ্টিতে খেলা থামার আগে ৪৫ ওভার শেষে প্রোটিয়াদের সংগ্রহ ছিল ৬ উইকেটে ২২৯ রান। এক রানের হিসাবের এই গণ্ডগোলে আফসোস কয়রা ছাড়া স্বাগতিকদের কিছুই করার ছিল না। শেষ পর্যন্ত বৃষ্টিতে আর একটি বলও মাঠে গড়ায়নি। ফলে দুই দলের স্কোর সমান থাকায় ম্যাচ টাই ঘোষণা করা হয়। তাই ঘরের মাঠে আয়োজিত বিশ্বকাপে গ্রুপপর্ব থেকে ছিটকে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

দক্ষিণ-আফ্রিকা-২০০৩-বিশ্বকাপ-RSA-Elimination-2003-World-Cup

২০১১ বিশ্বকাপ

২০১১ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা ছিল টুর্নামেন্টের হট ফেবারিট। প্রায়ই ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষে থাকা প্রোটিয়াদের সম্ভাব্য শিরোপাজয়ী হিসেবে দেখছিলেন অনেক ক্রিকেটবোদ্ধাই। যদিও সেবার তাদের ফিরতে হয়েছিল খালি হাতে। তবে সেবার দায়ী ছিল দক্ষিণ আফ্রিকানদের চাপে ভেঙে পড়ার পুরোনো রোগ।

ফেবারিট হিসেবে সেই আসরে তাদের শুরুটা হয়েছিল দারুণ। গ্রুপপর্বে দুই সহআয়োজক ভারত ও বাংলাদেশকে দাপটের সঙ্গে হারিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ইংল্যান্ডের সঙ্গে লো স্কোরিং ম্যাচটিতে হারলেও নিজ গ্রুপে শীর্ষে থেকেই শেষ আটে পা রাখে তারা। বিশ্বকাপের সেই আসরে কোয়ার্টার ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিপক্ষ ছিল নিউজিল্যান্ড।

প্রোটিয়ারা যেখানে নিজ গ্রুপে সবার ওপরে থেকে গ্রুপপর্ব পেরিয়েছিল, সেখানে কিউইরা গ্রুপে চতুর্থ স্থানে থেকে শেষ আটে নাম লিখিয়েছিল। ফলে দুই দলের ফর্ম বিবেচনায় দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষেই বাজি ধরার লোক বেশি ছিল। ঢাকার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে সেই ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টরি।

আগে ব্যাট করতে নেমে ১৬ রানেই দুই ওপেনার মার্টিন গাপটিল ও ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে হারায় নিউজিল্যান্ড। তৃতীয় উইকেটে জেসি রাইডার ও রস টেলরের ১১৪ রানের জুটিতে বিপদ কাটায় ব্ল্যাক ক্যাপসরা ইনিংসের ৩৩তম ওভারে ৪৩ রান করা টেলর সাজঘরে ফিরলে এই জুটি ভাঙে। ৩৯তম ওভারে রাইডার আউট হলে নিউজিল্যান্ডের স্কোর দাঁড়ায় ৫ উইকেট হারিয়ে ১৫৬ রানে।

নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারদের মধ্যে এরপর এক কেইন উইলিয়ামসন ছাড়া আর কেউই বলার মতো কিছু করতে পারেননি। ৪১ বলে এই ডানহাতি ব্যাটারের ৩৮ রানের ওপর ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২২১ রান সংগ্রহ করে কিউইরা। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন মরনে মরকেল। এছাড়া, ডেল স্টেইন ও ইমরান তাহির ২টি করে উইকেট নেন।

দক্ষিণ-আফ্রিকা-২০১১-বিশ্বকাপ-RSA-Batting-Collapse-NZ-WC-11

গ্রায়েম স্মিথ, হাশিম আমলা, ক্যালিস, এবি ডি ভিলিয়ার্স, ফাফ ডু প্লেসিসদের নিয়ে গঠিত দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইনআপের সামনে ২২২ রানের লক্ষ্যটা খুব বড় কিছু ছিল না। দলীয় ৮ রানে আমলাকে হারালেও অধিনায়ক স্মিথ, অলরাউন্ডার ক্যালিস আর মিস্টার ৩৬০ ডি ভিলিয়ার্সের ব্যাটে সহজ জয়ের দিকেই এগোচ্ছিল প্রোটিয়ারা। ২৪ ওভার শেষ দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ১০৮ রান।

এরপরই যেন হঠাৎ ছন্দপতন। টিম সাউদির বলে ক্যালিসের হাঁকানো নিশ্চিত ছক্কাকে বাউন্ডারি লাইনে অবিশ্বাস্য এক ক্যাচে পরিণত করেন পোড় খাওয়া বোলিং অলরাউন্ডার জ্যাকব ওরাম। ক্যালিস (৪৭) ফিরে গেলেও ডি ভিলিয়ার্স উইকেটে থাকায় দক্ষিণ আফ্রিকানদের জয়ের আশা টিকে ছিল। কিন্তু ২৮তম ওভারে, সেই ওভারের দুই বলের ব্যবধানে জেপি ডুমিনি বোল্ড আর ডি ভিলিয়ার্স রানআউট হলে প্রোটিয়াদের জয়ের স্বপ্নে বড় ধাক্কা লাগে।

১২১ রানে ৫ম উইকেটের সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও হারিয়ে ফেলে দক্ষিণ আফ্রিকা। এক প্রান্ত আগলে রেগে ডু প্লেসিস ৪৩ বলে ৩৬ রান করলেও বাকি ব্যাটারদের কেউই তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি। ৬৪ রানে শেষ আট উইকেট হারিয়ে ৪৩.২ ওভারে ১৭২ রানে অলআউট হয় প্রোটিয়ারা। চাপের মুখে ভেঙে পড়ে চোকার্স তকমা পুনরায় প্রতিষ্ঠা করে ৪৯ রানে পরাজিত হয় দক্ষিণ আফ্রিকানরা।

২০১৫ বিশ্বকাপ

অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে আয়োজিত ১৯৯২ বিশ্বকাপে অভিষেকে ভাগ্যের প্রবঞ্চনার শিকার হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। দীর্ঘ ২৩ বছর পর ২০১৫ সালে তাসমান সাগরের তীরবর্তী দুই দেশে আবার বসে ওয়ানডে ক্রিকেটের বিশ্বযজ্ঞ। সময় পাল্টালেও বিশ্বকাপে প্রোটিয়াদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। সেই আসরে আরো একবার সেমিফাইনালে উঠে ছিটকে যায় দক্ষিণ আফ্রিকানরা। তবে তাদের এবারের বিদায়ে দুর্ভাগ্য আর চোকিং দুটোরই সমন্বয় ছিল।

গ্রুপপর্বে উপমহাদেশের দুই পরাশক্তি ভারত ও পাকিস্তানের কাছে হারলেও বাকি ম্যাচগুলোর প্রতিটিই দাপটের সঙ্গে জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। পাকিস্তানের সমান পয়েন্ট থাকলেও রানরেটের অগ্রগামিতায় তৎকালীন ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারতের পেছনে থেকে নিজ গ্রুপে দ্বিতীয় স্থানে থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রেখেছিল প্রোটিয়ারা। শেষ আটে শ্রীলঙ্কাকে অনায়াসে হারিয়ে শেষ চারের টিকিট কাটে দক্ষিণ আফ্রিকানরা।

প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে বাধা হিসেবে ছিল অন্যতম আয়োজক নিউজিল্যান্ড। অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ডি ভিলিয়ার্স। ৩১ রানে হাশিম আমলা ও উইকেটরক্ষক কুইন্টন ডি কককে হারিয়ে কিছুটা বিপাকেই পড়ে প্রোটিয়ারা। তবে দুই ওপেনারকে হারিয়েও ডি ভিলিয়ার্স, রাইলি রুশো, ডু প্লেসিসি ও ডেভিড মিলারের ব্যাটে তাদের রানের চাকা ভালোই সচল ছিল।

এবি-ডি-ভিলিয়ার্স-Ab-De-Villiers-Run-Out-Miss

৩৮ ওভার শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেট হারিয়ে ২৩৮ রান। তখনই প্রোটিয়াদের পুরোনো শত্রু বৃষ্টি এসে বাগড়া দিয়ে খেলায় বিঘ্ন ঘটায়। বৃষ্টির কারণে ম্যাচের দৈর্ঘ্য নেমে আসে ৪৩ ওভারে। শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেট হারিয়ে ২৮১ রান সংগ্রহ করে প্রোটিয়ারা। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে ডু প্লেসিস ৮২, ডি ভিলিয়ার্স অপরাজিত ৬৫, মিলার ৪৯ আর রুশো ৩৯ রান করেন। দক্ষিণ আফ্রিকানরা ২৮১ রান করলেও বৃষ্টি আইনে নিউজিল্যান্ডের লক্ষ্য ছিল ৪৩ ওভারে ২৯৮ রান।

৫০ ওভারে যেখানে ২৯৮ রান করা কঠিন, সেখানে ৪৩ ওভারে সেই রান করা স্বভাবতই কঠিন। নিউজিল্যান্ডের তাই দরকার ছিল বিধ্বংসী শুরুর। গাপটিল আর অধিনায়ক ম্যাককালাম মিলে ৬ ওভারে ৭১ রান তুলে স্বাগতিকদের সেই শুরু এনে দিয়েছিলেন। তবে ২৬ বলে ৫৯ রান করা ম্যাককালাম ও আরেক নির্ভরযোগ্য ব্যাটার উইলিয়ামসনকে সাজঘরে ফিরিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ম্যাচে ফিরিয়েছিলেন মরনে মর্কেল। এরপর দলীয় ১২৮ রানে গাপটিল ও ১৪৯ রানে টেলরকে হারিয়ে চাপে পড়ে কিউইরা।

দক্ষিণ-আফ্রিকা-২০১৫-বিশ্বকাপ-2015-World-Cup--duminy-Catch-miss

তখন মনে হচ্ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা বুঝি অবশেষে সেমিফাইনাল ফাঁড়া কাটিয়ে ফাইনালে পা রাখবে। কিন্তু প্রোটিয়ারা চাপে ভেঙে পড়ার চিরায়ত নজির রেখে নিজেদের পায়েই কুড়াল মারে। কোরে অ্যান্ডারসন ও গ্রান্ট এলিয়টকে আউট করে ম্যাচ শেষ করে দেওয়ার কার্যত সুযোগ পেলেও ক্যাচ ফসকে ও রান আউটের সুযোগ নষ্ট করে দক্ষিণ আফ্রিকানরা। প্রোটিয়ারা সুযোগ পায়ে ঠেললেও নিউজিল্যান্ডের সেই দুই ব্যাটারই তাদের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান।

ষষ্ঠ উইকেটে অ্যান্ডারসন-এলিয়ট মিলে ১০৩ রান যোগ করেন। ৩৮তম ওভারে ছয় বাউন্ডারি ও দুই ছক্কায় ৫৭ বলে ৫৮ রান করা অ্যান্ডারসন ফিরে গেলেও প্রোটিয়াদের গলার কাঁটা হয়ে ছিলেন এলিয়ট। জয়ের জন্য শেষ দুই ওভারে নিউজিল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ২৩ রান। মরকেলের করা ৪২তম ওভারে এক চারে ব্ল্যাক ক্যাপসরা তুলতে পারে ১১ রান। ঘরের মাঠে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠতে হলে শেষ ওভারে নিউজিল্যান্ডের লাগতো ১২ রান।

ডেল স্টেইনের করা ইনিংসের শেষ ওভারের প্রথম দুই বলে নিউজিল্যান্ডের স্কোরবোর্ডে দুই রান যোগ হয়। তৃতীয় বলে স্টেইন ইয়র্কার দিলেও বাউন্ডারি মেরে দেন ভেট্টোরি। পরের বলে বাই থেকে এক রান এলে পঞ্চম বলে স্ট্রাইকে আসেন এলিয়ট। জিততে চাইলে কিউইদের তখনো দুই বলে পাঁচ রান করতে হবে। এলিয়ট অবশ্য শেষ বল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাইলেন না। পঞ্চম বলেই স্টেইনকে লং অনে ছক্কা মেরে নিউজিল্যান্ডকে জয় এনে দেন ডানহাতি এ অলরাউন্ডার।

দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার সেই সেমিফাইনালে দুই দলের সামনেই ছিল প্রথমবারের মতো ফাইনালে যাওয়ার হাতছানি। এক বল হাতে রেখে চার উইকেটের জয়ে সেই লক্ষ্যে সফল হওয়া নিউজিল্যান্ড। ৭৩ বলে সাত বাউন্ডারি ও তিন ছক্কায় অপরাজিত ৮৪ রানের ইনিংস খেলে এলিয়ট তখন স্বাগতিকদের জয়ের নায়ক। তবে উল্টো প্রান্তে এলিয়ট বনে যান প্রোটিয়াদের ঘরের শত্রু বিভীষণ। এলিয়টকে ঘরের শত্রু বিভীষণ বলার কারণ তার জন্ম হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে।

দক্ষিণ-আফ্রিকা-২০১৫-বিশ্বকাপ-South-Africa-2015-World-Cup

পুনশ্চ

বিশ্বকাপ ইতিহাসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিদায়কে ক্রিকেট দেবতা যতটা নাটকীয় বানিয়েছেন, ততটা ট্র্যাজেডি বোধহয় কোনো সাহিত্যিক তার লেখা নাটক-উপন্যাসেও আনতে পারবেন না। তাতে যেমন বৃষ্টি দুর্ভাগ্য রয়েছে, তেমনি আছে সুবিধাজনক অবস্থান বা চাপের মুখে স্নায়ুর লড়াইয়ে হেরে যাওয়ার মতো হাস্যকর নজিরও। এসব না ঘোচালে যে দক্ষিণ আফ্রিকা ওয়ানডে বিশ্বকাপে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না, তা বলাই বাহুল্য। বিগত ইতিহাস তো আর মুছা সম্ভব না; সেখান থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা নিয়ে প্রোটিয়ারা কবে নিজেদের দুর্ভাগ্য পাল্টাতে পারে, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীরা।

   

About

Popular Links

x