Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

অনলাইনে প্রতারণার ফাঁদ থেকে বাঁচবেন কীভাবে

সার্চ জায়ান্ট গুগল প্রতারণা থেকে বাঁচতে ৫টি উপায়ের কথা জানিয়েছে

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২৪, ০৫:২৪ পিএম

অনলাইনে কখনও বিপুল ছাড়ের লোভ দেখিয়ে, আবার কখনও বিজ্ঞাপনী চমকে ভুলিয়ে গ্রাহকদের আকর্ষণ করে এনে সর্বস্বান্ত করছে প্রতারকরা। এখন তো হোটেল বুকিং থেকে টিকিট কাটা—এ সবও হচ্ছে অনলাইনে। সেখানেও জালিয়াতি করার নিত্যনতুন ফন্দিফিকির খুঁজে নিচ্ছে সাইবার অপরাধীরা।

ডিজিটাল দুনিয়ায় বেশির ভাগ কাজই হচ্ছে অনলাইনে। সে ব্যাংক থেকে টাকাপয়সা লেনদেন বা খাবার, পোশাক  অর্ডার করা—আর্থিক লেনদেনের হচ্ছে ডিজিটাল মাধ্যমে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অনলাইন প্রতারণার ঝুঁকি। কাজেই সতর্ক না হলেই বিপদ। কী ভাবে অনলাইনে যেকোনো লেনদেন নিরাপদে করবেন, তার পাঁচটি উপায় জানিয়েছে গুগল।

ডিপফেক থেকে সাবধান

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি নকল ছবি বা ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিকমাধ্যমে। সম্প্রতি ডিপফেক ছবি ও ভিডিও নিয়ে বেশ হইচই চলছে। নামী ব্যক্তিত্ব, টিভি তারকা, খেলোয়াড় থেকে সাধারণ মানুষ—ডিপফেকে আসল ছবি বিকৃত করে তা সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অজস্র ঘটনা ঘটেছে। সেলিব্রেটিদের ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করে বিভিন্ন পণ্য বা সেবা বিক্রি করা হয়। সেক্ষেত্রে সাবধান হতে হবে।

গুগল জানাচ্ছে, কোনো ছবি বা ভিডিওতে যদি দেখেন, কোনো ব্যক্তির নাক ও ঠোঁটের গঠনে অসামঞ্জস্য আছে, হাত ও পায়ের গঠনেও তাই, চোখের মণি দেখলে মনে হচ্ছে আঁকা—তখন বুঝতে হবে সেটি আসল নয়। ছবিটির সূত্র যাচাই করতে গুগল লেন্স ব্যবহার করা যেতে পারে। “রিভার্স ইমেজ সার্চ” অপশনও রয়েছে, সেখানেও যাচাই করে নিতে পারবেন।

ক্রিপ্টো স্কিম

ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ডিজিটাল মুদ্রায় লেনদেনের প্রলোভন দেখালে সেই ফাঁদে পা দেবেন না। অল্প বিনিয়োগে বিপুল লাভের লোভ দেখিয়ে প্রতারণার নতুন কৌশল রপ্ত করেছে হ্যাকারেরা। অনলাইনে ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পর্কিত কোনো রকম স্কিমে বিনিয়োগ করবেন না; এমন পরামর্শ দিয়েছে গুগল।

ভুয়া অ্যাপ

ইন্টারনেট, গুগল প্লে স্টোর, অ্যাপল প্লে স্টোরে এখন ভুয়া অ্যাপের ছড়াছড়ি। ভুল করেও যদি এমন ভুয়া অ্যাপ ফোনে বা কোনো ডিভাইসে ইনস্টল করে ফেলেন, তা হলেই সর্বনাশ। গুগলের পরামর্শ, সবার আগে দেখতে হবে অ্যাপটির উৎস কী। অর্থাৎ ডেভেলপারের নাম, তৈরির সময়, আর কী কী ফিচার রয়েছে। অনেক সময়ে একই নামে একাধিক অ্যাপ থাকে প্লে স্টোরে। সেক্ষেত্রে দেখে নিতে হবে গ্রাহকরা কী মতামত দিচ্ছেন, কত বার অ্যাপটি ইনস্টল করা হয়েছে। কখনও ওই রকম অ্যাপ ইনস্টল করার সময়ে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংক বা ক্রেডিট কার্ড বা ডেবিট কার্ড সংক্রান্ত তথ্য দেবেন না।

কোনো ওয়েবসাইটে যাওয়ার পর যদি যোগাযোগের ঠিকানা বা ফোন নম্বর, কাস্টমার কেয়ার নম্বর না দেখতে পান তা হলে বুঝবেন সেই ওয়েবসাইটটি ভুয়া। “ডোমেন নেম” খুঁটিয়ে দেখুন। যখন একজন ব্যক্তি বা কোম্পানি একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে, তখন তাকে একটি ডোমেন কিনতে হয়। প্রতিটি ওয়েবসাইটের একটি আলাদা “ডোমেন নেম” রয়েছে। সেখানে যদি কোনো ত্রুটি থাকে, তা হলে বুঝতে হবে ওয়েবসাইটটি ভুয়া। এছাড়া ইউআরএল লক্ষ্য করবেন। সেখানে যদি দেখেন বানান ভুল আছে বা অসংখ্য ইমোজি ব্যবহার করা হয়েছে, তখন বুঝতে হবে সেই সাইটটি ভুয়া।

মাইক্রো ওয়েবপেজ থেকে সাবধান

ছোট ছোট ওয়েবপেজ খুলে সেখানে নানা রকম বিজ্ঞাপন দিয়ে গ্রাহকদের আকর্ষণের চেষ্টা করা হয়। হয়তো বলা হবে, সেই ওয়েবপেজে গেলে খেলার টিকিট সস্তায় পাওয়া যাবে অথবা হোটেল বুকিংয়ে বড় ছাড় রয়েছে। কেনাকাটাতেও বিপুল ছাড়ের প্রলোভন দেখিয়ে এমন ছোটখাটো ওয়েবপেজ খোলা হয়। সেখানে ভুলেও যাবেন না। সেই সব ওয়েবপেজে কিউআর কোড স্ক্যান করতে বললেও তা করবেন না। একবার নিজের মোবাইল বা ডিভাইস থেকে কোড স্ক্যান করলে আপনার অ্যাকাউন্ট ফাঁকা করে দিতে পারে জালিয়াতরা। গুগলের পরামর্শ, ছোটখাটো ওই সব মাইক্রো পেজের বেশির ভাগই প্রতারণার ফাঁদ। তাই সাবধানেই চলতে হবে।

   

About

Popular Links

x