Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বতর্মান নেতৃত্ব:  প্রত্যাশা ও সম্ভাবনা 

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নিয়োগসহ বেশ কিছু সংস্কারমূলক নীতিমালা প্রণীত হয়েছে

আপডেট : ০৩ মে ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রশাসনিক কাঠামোয় চারটি শীর্ষ পদ রয়েছে - উপাচার্য, দুইজন উপ-উপাচার্য এবং একজন কোষাধ্যক্ষ। দেশের সবচেয়ে বড় ও প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক অগ্রগতিতে এই চারজনের সমন্বিত নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এক ধরনের স্থিরতা পাওয়া এই প্রশাসন একাডেমিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে আন্তরিকতার পরিচয় দিচ্ছেন প্রায় প্রতিটি কাজে। তাদের যে গুণটি ইতোমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকল পর্যায়ে প্রশংসিত হয়েছে, তা হচ্ছে তাঁদের সততা ও কঠোর নৈতিক অবস্থান। 

শীর্ষ পর্যায়ের এই চারজনই নিজেদের অবস্থানকে সৎ ও স্বচ্ছ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। নানা চাপ ও অস্থিরতার মাঝেও তাঁরা আপোষহীনভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশে একটি ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে নেতৃত্বের সততা ও নৈতিকতা বিষয়ে। নানান প্রতিকূলতার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নিয়োগসহ বেশ কিছু সংস্কারমূলক নীতিমালা প্রণীত হয়েছে। আরো নানানমুখী কার্যক্রম চলমান। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো মাথায় রেখে বিভিন্ন উদ্যোগ লক্ষ্যণীয়।

এই শীর্ষ  চারজনের মধ্যে একজন নারী। তিনি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা। জেন্ডার ব্যালেন্সের প্রশ্নটি আলাদা আলোচনার বিষয় হলেও, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পর্যায়ে একজন নারীর অবস্থান নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী নারী, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষক ও কর্মচারীও নারী। তাদের কাছে শীর্ষ পর্যায়ে একজন নারীর উপস্থিতি আস্থার বার্তা বহন করে। 

নারী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নানা সমস্যায় একজন নারী প্রশাসকের অবস্থান বাস্তবিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ। হয়রানি, বৈষম্য কিংবা যৌন নির্যাতনের মতো বিষয়গুলোতে তারা মনে করেন, একজন নারী অভিভাবক তাদের অভিজ্ঞতাকে আরও গভীরভাবে বুঝবেন। ফলে শীর্ষ পর্যায়ে নারীর উপস্থিতি শুধু প্রতীকী নয়, বরং কার্যকর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। এই বিবেচনায় একজন নারী প্রো-উপাচার্যের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিষয়টি উপেক্ষিত থেকেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যে এক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তা নিঃসন্দেহে অন্যদের জন্য অনুকরণীয়। আশা করা যায়, এই দিকটি মাথায় রেখে বর্তমান প্রশাসন কিছু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিতে পারবে।

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের হয়রানির অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও এর বাইরে নয়। সম্প্রতি একজন নারী শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারকে নাড়া দিয়েছে। এরকম পরিস্থিতিসহ নারীদের সাথে প্রতারণা, ভয়-ভীতি প্রদর্শন কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার- এসব অভিযোগ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হয়। শীর্ষ পর্যায়ে একজন নারী প্রশাসকের উপস্থিতি এসব তদন্তে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়িয়ে দেয়। এটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সমাজে আস্থা তৈরি করে যে তাদের সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

ঢাবি  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে যে নেতৃত্ব পেয়েছে- উপাচার্য, দুইজন উপ-উপাচার্য এবং কোষাধ্যক্ষ- তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক ও সমন্বয়ের মাধ্যমে, একে অপরকে সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা অনিয়ম দূর করে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব। এই সমন্বয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কারণ একাডেমিক উন্নয়ন, গবেষণা, অবকাঠামো, শিক্ষার্থী কল্যাণ- সবকিছুই একসঙ্গে এগিয়ে নিতে তাদের প্রত্যেকের আলাদা দায়িত্ব আছে, যা একসাথে না করলে সুফল আসবে না।  এমতাবস্থায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শীর্ষ প্রশাসক বর্তমানে যে আন্তরিকতা ও সততার পরিচয় দিচ্ছেন, তা প্রশংসনীয়। তাদের মধ্যে একজন নারী প্রো-উপাচার্যের উপস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আলাদা আস্থা তৈরি করছে। তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে আরও ইতিবাচক করবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের শিক্ষার ইতিহাসে শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, বরং বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনের কেন্দ্র। এখানে নেওয়া সিদ্ধান্তের প্রভাব গোটা দেশের ওপর পড়ে। তাই শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বের দায়িত্বও অনেক বড়।  আমরা প্রত্যাশা করি, বর্তমান নেতৃত্ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন মাত্রা দেবেন। সততা, নিষ্ঠা এবং সহযোগিতার মাধ্যমে তারা বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু প্রশাসনিকভাবে নয়, বরং সাংস্কৃতিক ও সামাজিকভাবেও সমৃদ্ধ করবেন। তাঁদের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি নতুন অবস্থানে পৌঁছাবে- যেখানে সততা, স্বচ্ছতা এবং একাডেমিক উৎকর্ষ হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ভিত্তি।

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ইমেইল: [email protected]

.........................................................................................................................................................

প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্ত ব্যক্তিগত। ঢাকা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ এর জন্য দায়ী নয়।

........................................................................................................................................................

   

About

Popular Links

x