প্রতিবছর সারাদেশে উল্লেখযোগ্য মানুষ সাপের দংশনে মারা যায়। তবে বাস্তবতা হলো-সাপের কিছু প্রজাতি বিষধর হলেও সাপ মূলত খুবই নিরীহ ধরনের। আর বিষধর সাপের সংখ্যা খুবই কম। এছাড়া প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায়ও সাপের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
সাপ শিকারি প্রাণী হিসেবে খাদ্যশৃঙ্খলে ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ক্ষতিকর রোডেন্ট জাতীয় প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে বিপুল পরিমাণে ফসল রক্ষা করে, প্রাণীবাহিত সংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমায়। সাপের বিষ থেকে বিভিন্ন ওষুধ তৈরি করা হয়।
এতসব অবদানের পরও প্রকৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সরীসৃপ অনেকক্ষেত্রেই মানুষের অহেতুক ভীতি ও কুসংস্কারের কারণে মারা পড়ে।
আজ ১৬ জুলাই বিশ্ব সাপ দিবস। এই দিনে চলুন জেনে নেওয়া যাক সাপ নিয়ে কিছু প্রচলিত ভুল ধারণা সম্পর্কে-
সাপের লেজে বিষ
অনেকের ধারণা দাঁড়াশ সাপের লেজে বিষ থাকে। মূলত এটি একটি নির্বিষ সাপ। লেজ তো দূরের কথা এর বিষদাঁতই নেই। এরা ইঁদুর এবং ছোট পাখি ধরে খায়। এমনকি ছোটখাটো বিষাক্ত সাপও এদের প্রধান খাবার।
সাপের এক চোখ অন্ধ
অনেকেই মনে করেন সাপের এক চোখ জন্ম থেকেই নষ্ট থাকে। মূলত সাপ দিনে চোখে কম দেখে তাই, ধীরে চলে। রাতের আঁধারে সাপ আধুনিক নাইটভীষণ চশমার চেয়ে ১০গুণ বেশি পরিষ্কার দেখতে পায়।
বীণ শুনে সাপে নাচে
সাপের কোনো কান নেই। এমনকি দৃষ্টিশক্তিও প্রখর নয়। যারা বীণ বাজান, তারা সেটি সাপের মুখের সামনে দোলাতে থাকেন। সাপও চোখের সামনে দুলুনি দেখে মাথা দোলাতে থাকে এই ভেবে যে, কোনো শত্রু বুঝি সামনে আছে।
সাপ দুধ খায়
সাপ শীতল রক্তের প্রাণী, মাংসাশী এবং স্তন্যপায়ী নয়। ফলে সাপের পক্ষে দুধ হজম করা অত্যন্ত কঠিন। দুধ সাপের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর।
সাপ মানুষকে তাড়া করে
সাপ মানুষের শত্রু নয়, বরং সাপের সামনে পড়ে গেলে যদি দৌড়ে পালাতে যান বা বেশি লাফালাফি করেন, তাহলে সাপ আত্মরক্ষার্থে তেড়ে আসতে পারে। স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকুন। দেখবেন সাপ আপনাকে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে।
সাপ শত্রুকে চিনে রাখে
সাপের স্মৃতিশক্তি বা বুদ্ধি নেই। তাই সাপের পক্ষে মানুষকে চিনে রাখা সম্ভব নয়। সাপ শুধু বেঁচে থাকার জন্য খাবারের খোঁজে লোকালয়ে আসে।
সাপের ওঝা
সাপের ওঝারা যে চিকিৎসা করে তা সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক। সাপের ওঝার চিকিৎসায় সেই রোগীই ভালো হয় যাকে এমন সাপে কামড় দিয়েছে যার বিষ নেই। তাই সাপে কাটলে ওঝার খোঁজ না করে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে।
সাপের মণি
সাপের মাথায় এ জাতীয় কোনো পাথুরে পদার্থ আদৌ তৈরি হয়না।
সাপ অন্যান্য সরীসৃপের থেকে অনেক বেশি সহনশীল, তাই অনেক ভিন্নমুখী আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। তবে বর্তমানে নগর উন্নয়ন, গাছ-বন উজার ও যান্ত্রিক সভ্যতার বহুমুখী আগ্রাসনে অন্যান্য বন্যপ্রাণীর মতো সাপও ঝুঁকির মুখে।
দেশের আনাচে কানাচে প্রায় ৮০ প্রজাতির সাপ ঘুরে বেড়ায়। এর মধ্যে মাত্র সাত থেকে আট প্রজাতির অত্যন্ত বিষধর সাপের কামড়ে মানুষ বেশি মারা যায়। সচেতনতাই পারে বিষাক্ত সাপের কামড় থেকে বাঁচাতে। কাজেই সাপকে ভয় না পেয়ে বরং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই মানুষ ও সাপসহ অন্যান্য প্রাণীর প্রাকৃতিক সহাবস্থান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।



