Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

'বিএনপির বিদেশি কোনো প্রভু নেই, বাংলাদেশের জনগণই আমাদের সব'

ঢাকা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা বলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৩:৪২ পিএম

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর কোন পথে বাংলাদেশের ভোট ও রাজনীতি, তা নিয়ে ঢাকা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা বলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সাক্ষাৎকার গ্রহণে সিয়াম সারোয়ার জামিল।

ঢাকা ট্রিবিউন: অন্তর্বতীকালীন সরকারের বৈধতা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। বলা হচ্ছে, সাংবিধানিকভাবে এটি বৈধ নয়। বিষয়টাকে আপনি কীভাবে দেখেন?

রুহুল কবির রিজভী: এটা কিছুটা বিপ্লবী একটা সরকার। ফলে কিছুটা প্রশ্ন থাকতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, জনগণের জন্যেই তো সংবিধান। দেখতে হবে, সরকারের প্রতি জনগণের সমর্থন আছে কি-না। বাস্তবতা হচ্ছে, এই সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়েই একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়েছে। এখানে এ ধরনের প্রশ্ন না তোলাই উচিত। আমাদের সংবিধানে অনেক কাটা-ছেঁড়া হয়েছে। শেখ হাসিনা এই সংবিধানকে যা ইচ্ছা তাই করেছে। সংবিধানকে সামনে রেখেই একটি কর্তৃত্ববাদী সরকার প্রতিষ্ঠা করেছিল তারা। আমরা সেই জায়গা থেকে পরিত্রাণ পেয়েছি।

ঢাকা ট্রিবিউন: সরকারের মেয়াদ এখনও সুনির্দিষ্ট হয়নি। কতদিন এই সরকারের মেয়াদ থাকা উচিত বলে আপনারা মনে করেন?

রুহুল কবির রিজভী: অন্তর্বতীকালীন সরকার একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়েছে। তাদের যতটুকু সময় দরকার, তারা নেবে। রাষ্ট্র-সমাজ-বিবর্তনের মধ্য দিয়ে একটা সরকার কাঠামো এখন দাঁড়িয়েছে। তারা কিছু দায়িত্ব নিয়েছে। সেটার জন্য যে মেয়াদ বা সময় দরকার, সেটাই তারা নেবে। সরকারের দ্রুত সংস্কারের কাজ শুরু করা উচিত। সর্বোচ্চ সুগ্রন্থিত একটি আর্টিকুলেট রাষ্ট্র গড়তে প্রাথমিক যে কাজ সেটা আমরা সবাই মিলে করতে চাই। এটার জন্য যে যৌক্তিক সময় দরকার, সেটা আমরা দেবো। তবে সেটা যেন দীর্ঘায়িত না হয়, সেটিও মাথায় রাখতে হবে।

ঢাকা ট্রিবিউন: আপনাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সঙ্গী জামায়াতে ইসলামী। এই সরকার নিয়ে তাদের এবং আপনাদের বক্তব্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে বেশ ভিন্ন। কিছু কিছু বক্তব্য কনফ্লিক্টও তৈরি করছে। এটা নিয়ে কী বলবেন?

রুহুল কবির রিজভী: কনফ্লিক্ট হবে কেন? তারা গণতান্ত্রিক সংগ্রামে অংশ নিয়েছে। তবে জামায়াতের চেয়ে এই দেশের রাজনীতিতে বিএনপির অংশগ্রহণ অনেক বেশি। আমরা নিঃসন্দেহে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠন করতে চাই। আমাদের কোনো কনফ্লিক্ট নেই। 

ঢাকা ট্রিবিউন: শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে রাজনৈতিক দল গঠন নিয়ে বেশ আলোচনা শোনা যাচ্ছে। এটাকে কীভাবে দেখেন?

রুহুল কবির রিজভী: এটা আমি ঠিক বলতে পারবে না। তবে আমরা এরকম একটা রাষ্ট্রই চেয়েছিলাম, যেখানে যে কেউ তার নিজস্ব মতামতের প্রকাশ ঘটাতে পারে। রাজনৈতিক দল গঠন করতে পারে। এটা নিয়ে আমাদের বলার কিছু নাই। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এটাই তো হওয়া উচিত।

ঢাকা ট্রিবিউন: সম্প্রতি কিছু জঙ্গি নেতা মুক্তি পেয়েছে, যারা দীর্ঘদিন জেলে ছিল। এটাকে কি আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি বলে মনে হচ্ছে?

রুহুল কবির রিজভী: এ বিষয়ে মন্তব্য আমি করব না। এটা আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়। আদালতের বিষয়। তারা তো বিএনপির লোক না। আদালতের বিষয়ে নিয়ে আমি কী বলব।

ঢাকা ট্রিবিউন: বাংলাদেশে ভারত বিরোধী-বেড়েছে। বিএনপিও ভারত বিরোধী কিছু ক্যাম্পেইন করেছে বিভিন্ন সময়ে।

রুহুল কবির রিজভী: এন্টি-ইন্ডিয়া বা প্রো-ইন্ডিয়া বলে কিছু নেই। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কিছু করলে তো আমরা প্রতিবাদ করবোই। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কেউ কিছু করলে তো আমরা মেনে নেবো না। ভারত আমাদের বৃহৎ প্রতিবেশী। কিন্তু মানুষ নানা কারণে ক্ষুব্ধ হচ্ছে। বন্যার পানি ছেড়ে দেওয়া থেকে শুরু করে, এ কারণে মানুষ ক্ষুব্ধ। এটা তো তাদের পলিসি মেকারদের ভাবা উচিত।

ঢাকা ট্রিবিউন: বৃহৎ প্রতিবেশী হিসেবে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে কিছু করবেন?

রুহুল কবির রিজভী: এখানে সম্পর্ক উন্নয়নের কিছু নেই। তাদের সঙ্গে আমাদের শত্রুতাও নেই। বিএনপির বিদেশি কোনো প্রভু নেই। বন্ধু আছে। তবে দেশের স্বার্থে আঘাত হানলে, সে যে দেশই হোক, আমরা তার প্রতিবাদ করবো।

ঢাকা ট্রিবিউন: শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সংখালঘুদের বাড়ি ঘরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাদের মধ্যে একটা আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। আস্থা অর্জনে কোনো কোনো উদ্যোগ নিয়েছেন?

রুহুল কবির রিজভী: দেখুন, ওই সময়কালে সবাই দেখেছে বিএনপি এবং তার অঙ্গ সংগঠনের নেতারা কীভাবে মন্দির-সংখ্যালঘুদের ঘর পাহারা দিয়েছে। এতে বিএনপির প্রতি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আস্থা বেড়েছে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, একটা লোকও ইন্ডিয়া যায়নি। গণআন্দোলনের প্রত্যেকেই এই দেশের অংশ, তারা আলাদা কোনো জাতিসত্তা নয়। তারপরও কিছু কিছু গোষ্ঠী ব্লেম গেম খেলে। পরিস্থিতি উস্কে দেয়। কিন্তু এ দেশের জনগণ হিসেবে আমরা সবসময় তাদের পাশে আছি।

ঢাকা ট্রিবিউন: অভিযোগ আছে, শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর দেশের বেশিরভাগ অপরাধজগতের নিয়ন্ত্রণ বিএনপি নেতা-কর্মীদের হাতে চলে এসেছে। এ বিষয়ে কী বলবেন?

রুহুল কবির রিজভী: বিএনপি বড় দল। অনেক নেতা-কর্মী। অভিযোগ আসতেই পারে। তবে দেখতে হবে, আমরা কী পদক্ষেপ নিয়েছি। কোথাও কোনো অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন বহিষ্কার-পদ স্থগিত করা হচ্ছে। জাতীয় পর্যায়েও বহিষ্কার হচ্ছে। পদ স্থগিত হচ্ছে।

ঢাকা ট্রিবিউন: যদি এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দীর্ঘমেয়োদে থাকতে চায়?

রুহুল কবির রিজভী: আমার মনে হয় না, তারা এটা করবে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন ও সুষঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতেই তারা দায়িত্বে এসেছেন। একটি গণতান্ত্রিক সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষায় তারা অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।

   

About

Popular Links

x